kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

প্রকল্পগুলোতে বহুমাত্রিক নজরদারি বাড়াতে হবে

ড. সামছুল হক

১২ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রকল্পগুলোতে বহুমাত্রিক নজরদারি বাড়াতে হবে

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উন্নয়নে অন্তরায় এই করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি। এই বাধা দূর করতে হলে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রকল্পগুলোতে বহুমাত্রিক নজরদারি বাড়াতেই হবে।

সরকারকে স্বাভাবিক সময়ে থাকা তদারকি অব্যাহত রেখে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার ওপর নজর রাখতে হবে। শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা স্বাস্থ্যবিধি সঠিকভাবে মানছে কিনা তা নিবিড়ভাবে নিয়মিত দেখতে হবে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পারে এই সতর্কতা। প্রকল্প এলাকায় সতর্কভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদাহরণ কিন্তু এরই মধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় তৈরি হয়েছে। সেখানে শ্রমিকদের সংরক্ষিত এলাকায় রাখা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় বাইরের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। শ্রমিকসহ অন্যদের বের হতেও দেওয়া হচ্ছে না। জরুরি দরকার হলে প্রকল্প এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হচ্ছে, কোয়ারেন্টিনের নিয়মও মেনে চলতে হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে নজর দেওয়া হয় যন্ত্রের ওপর, রোবটের ব্যবহারে। আর আমাদের দেশে নজর দেওয়া হয় শ্রমিক কত বেশি নেওয়া যায় সেদিকে। শ্রমঘন কাজের সংস্কৃতি তৈরি হওয়ায় করোনাকালে শ্রমিকদের কাজে অংশগ্রহণ নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। অনেক প্রকল্পে শ্রমিকরা কর্মস্থলে নেই, বাড়ি চলে গেছে। আবার তাদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। কর্মহীন শ্রমিকরা প্রকল্পের কাজে যোগ দিতে আসছে। এখন সতর্ক থাকতে হবে তাদের চলাচলের বিষয়ে। দ্রুত কাজ করতে গিয়ে তারা পরস্পর সামাজিক দূরত্ব মানছে কি না তা দেখতে হবে।

বিদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের প্রকল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমাগতই বাড়ছে। অথচ আমাদের দেশে সেভাবে তা বাড়ছে না। মাটি কাটার জন্য এখনো শ্রমিকের ব্যবহার কমেনি। এক্সকাভেটর ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে তা কম। আমি মনে করি, করোনাকালে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রকল্প এলাকায় সীমানা দিয়ে কাজ এগিয়ে নিতে হবে। তাতে বাইরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রকল্পের শ্রমিক ও অন্যান্য কর্মকর্তার দূরত্ব বজায় থাকবে। স্বতন্ত্র পরিবেশে প্রকল্প এলাকা তৈরিই আছে। এখন সতর্কতার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ এগিয়ে নিতে হবে। প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আছে। সরকারও চাইছে কাজ শেষ হোক। লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে সরকারকে ভবিষ্যতে বেশি ব্যয়ের ঘানি টানতে হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্ভাবনী ভাবনা কাজে লাগিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদাহরণ তৈরি করা সহজ।

লেখক : অধ্যাপক, পুরকৌশল বিভাগ, বুয়েট

অনুলিখন : পার্থ সারথি দাস

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা