kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

এই সময় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে

ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন

১১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এই সময় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে

অর্থনীতির মূলধারার বাইরের অর্থকে আমি দুইভাবে দেখি। একটা হলো অপ্রদর্শিত অর্থ, যেটা সরকারের নীতির কারণে মানুষের হাতে এসেছে। আরেকটি হলো, মুনাফাখোরি ব্ল্যাক মার্কেট বা দেশ থেকে পাচার করা অর্থ, এটা কালো টাকা। মোট কথা টাকা আছে কিন্তু কর দেয়নি তাই মূলধারায় আর আসেনি। করোনার দুর্যোগের কারণে এবার ভীষণ নাজুক অবস্থা। কাজেই কর আদায় নাও হতে পারে। কিন্তু খরচ কমানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ৯৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এমন প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি নতুন অর্থবছরের বাজেটে ঘোষণা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার বিশেষ সুযোগ রাখা যেতে পারে। বাজেটে যে আয় দেখাবে মানুষ সেখানে এর উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করার পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে যাঁরা মূল ধারায় টাকা আনবেন তাঁদের টাকার উৎস সম্পর্কে ভবিষ্যতেও কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা হবে না মর্মে নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এ জন্য সরকার থেকে একটা গেজেট বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যেতে পারে। তবে ২০২১ সালের ৩০ জুনের পরে কারো কাছে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করারও ব্যবস্থা থাকতে হবে।

অধিক পরিমাণ কালো টাকা অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসতে বিদ্যমান আয়করের স্লাবগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নতুন করে সাজাতে হবে। এর মধ্যে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় আগের মতোই করমুক্ত রাখা, আড়াই লাখের তদূর্ধ্ব থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ, এর তদূর্ধ্ব ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, তদূর্ধ্ব ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, এর তদূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং ২০ লাখ টাকা তদূর্ধ্ব যেকোনো পরিমাণের জন্য ২৫ শতাংশ হারে কর আরোপযোগ্য হবে।

লেখক : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা