kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

উৎপাদিত ধানের ১০ শতাংশ কৃষক থেকে নিতে হবে

ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কৃষি অর্থনীতিবিদ

৯ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উৎপাদিত ধানের ১০ শতাংশ কৃষক থেকে নিতে হবে

দেশের প্রধান ধান উৎপাদন মৌসুম আমরা অতিক্রম করছি। এখন বোরো ধান কাটার সময়। মোট চাল উৎপাদনের ৫৪ শতাংশ সরবরাহ আসে বোরো ধান থেকে। এরই মধ্যে হাওর অঞ্চলে প্রায় ৯০ শতাংশ এবং সমতলে প্রায় ২৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এবার বোরো ধানের মাঠ পর্যায়ের দৃশ্যপট খুবই ভালো। কিন্তু কৃষক উৎপাদিত ধানের ন্যায মূল্য পাচ্ছেন না। চাতালের মালিক ও ফড়িয়াদের কাছে তাঁরা প্রতি মণ ধান ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করছেন। তাতে তাঁদের ধানের উৎপাদন খরচও উঠে আসছে না। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ হয় ৯৬০ টাকা।

গত ২৬ এপ্রিল থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু হয়েছে। কিন্তু তার কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এটি কৃষকদের করোনাকালের আর্থিক সংকটকে আরো বাড়িয়ে দেবে। ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদনে তাঁরা নিরুৎসাহ হবেন। তাতে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। সরকার চলতি বোরো মৌসুমে ২১ লাখ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে আছে আট লাখ টন ধান, ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল, দুই লাখ ২০ হাজার টন আতপ চাল ও ৮০ হাজার টন গম। ধান আর চাল মিলে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা হলো ২০ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। ধান হিসেবে তা ২৮.৫ লাখ মেট্রিক টন। এটা হলো মোট উৎপাদিত ধানের ৮ শতাংশ। বর্তমানে ধান হিসেবে সংগ্রহ করা হচ্ছে মোট উৎপাদনের ২ শতাংশ। বাকি ৬ শতাংশ সংগ্রহ করা হবে চাল হিসেবে। চাল হিসেবে যা সংগ্রহ করা হবে তার পুরো মুনাফা পাবেন চাতালের মালিকরা। তাঁরা সরকারের কাছে প্রতি কেজি চাল বিক্রি করেন প্রায় ৩০ শতাংশ মুনাফা অর্জন করে। অথচ কৃষক এখন ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করে প্রতি কেজি ধানে লোকসান দিচ্ছেন উৎপাদন খরচের ৩৮ শতাংশ। সরকার ১০৪০ টাকা মণ দরে ধান কেনার যে কর্মসূচি নিয়েছে তাতে মূল্যের উত্থান তেমন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। কারণ মোট উৎপাদনের মাত্র ২ শতাংশ ধান ক্রয় করে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলা সম্ভব নয়। কমপক্ষে মোট উৎপাদনের ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩৫ লাখ টন ধান কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কিনতে হবে।

এখন আমাদের মোট ধান ও গমের উৎপাদন সারা বছরে ছয় কোটি টনের বেশি। ধান ও চাল মিলে যে ৮ শতাংশ কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার সবটুকুই কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান হিসেবে সংগ্রহ করতে হবে। তাতে ধানের দাম চাঙ্গা হবে। ধান চাষিদের তালিকা প্রণয়ন ও লটারি করা এবং অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় এখন সময়সাপেক্ষ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট কৃষকরা এত সময় অপেক্ষা করে থাকতে পারেন না। তাঁরা ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর খরচ জোগান উৎপাদিত ধান বিক্রি করে। তার মধ্য থেকে ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে হয়। তাই ধান কাটা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের কাছ থেকে দ্রুত ধান সংগ্রহ করা উচিত। সংরক্ষণাগারের অপ্রতুলতা সরকারি পর্যায়ে বেশি ধান সংগ্রহে একটি বড় সমস্যা হতে পারে। বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন সংস্থা) অব্যবহৃত গুদাম ও ব্যক্তি খাত থেকে গুদাম ভাড়া নিয়ে আপাতত এ সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা