kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

বন্ধ নয়, দ্রুত জীবাণুমুক্ত করতে হবে হাসপাতাল

ডা. শাহ মনির হোসেন

২৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বন্ধ নয়, দ্রুত জীবাণুমুক্ত করতে হবে হাসপাতাল

হাসপাতালই হচ্ছে আমাদের রক্ষাকবচ। কোনোভাবেই হাসপাতাল বা হাস পাতালের কোনো অংশ বেশিক্ষণ বন্ধ রাখা যাবে না। বরং কোনো হাসপাতালে রোগী বা চিকিৎসাকর্মীর ভেতর কোনো জীবাণু সংক্রমিত হয়েছে বলে শনাক্ত হলেই সবার আগে অন্য রোগীদের কাছ থেকে ওই শনাক্তকৃত রোগীকে আলাদা করে ফেলতে হবে। তারপর দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই অংশসহ ব্যবহৃত আসবাবপত্র, কক্ষ, যন্ত্রপাতি সব কিছুই জীবাণুমুক্ত করে হাসপাতালের সার্বিক সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো হাসপাতালে কোনো রোগী সংক্রমিত না হলেও প্রতি মুহূর্তের জন্য সতর্কতামূলক যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দেশীয় গাইডলাইনে এ বিষয়ে পরিষ্কার করে সব কিছু বলা আছে, যা প্রতিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাদের সবার জানাও আছে। এটা যে কেবল এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণেই করতে হবে, তা কিন্তু নয়—এটা সব সময়ের জন্য করতে হবে। বরং এখন আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে—হাসপাতালকে সুরক্ষিত রাখার জন্য।

হাসপাতালকে সুরক্ষিত না রাখতে পারলে রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী—সবাই বিপন্ন হবেন। মোটকথা কোনো অবস্থাতেই কাউকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা বা ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না।

আমাদের দেশে প্রথম দিকে বা এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালের দিকেই বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে তখন সব হাসপাতালেই কিন্তু করোনার রোগীর সেবা দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে বড় জোর ওয়ার্ড বা ইউনিট আলাদা করে সংরক্ষিত করে নিতে হবে। অন্য দেশগুলোয় সেটাই করছে। রোগীর চাপ বাড়লে তা না করে উপায় থাকবে না। ফলে হাসপাতাল বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। বরং হাসপাতালগুলোকে কিভাবে আরো বেশি কার্যকর করা যায় তা নিয়ে সরকার যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে সেখানে সবাইকে সহযোগিতা করা উচিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরও এ ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।

লেখক : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সাবেক মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা