kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

দেশে আরো তিনজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৫৪

মোট পরীক্ষা ৫১৬৪, শনাক্ত ২১৮, মৃত্যু ২০, সুস্থ ৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেশে আরো তিনজনের মৃত্যু, শনাক্ত ৫৪

আগের দিন সকাল থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশে আরো ৫৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মারা গেছে আরো তিনজন। নতুন কেউ সুস্থ হয়নি এই ২৪ ঘণ্টায়। ফলে সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ২১৮ জনে। আর মোট মৃত্যু ২০ জনের। সুস্থ ৩৩ জন। বাকি ১৬৫ জন চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে কয়েকজন নিজ বাসায়ই থাকছে মৃদু সংক্রমণের কারণে। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে পাঁচ হাজার ১৬৪ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গতকাল দুপুর আড়াইটায় প্রকাশিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।

আগের কয়েক দিন ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিং হলেও গতকাল তা না করে বুলেটিন আকারে আগের মতোই সব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ক্ষেত্রে কেবল সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ থাকছে না। যদিও আগের দিনই অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছিলেন, প্রেস ব্রিফিংয়ের পরিবর্তে বুলেটিন হিসেবে তথ্যগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে। আর গতকাল ওই সব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা ও আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

গতকাল বুলেটিনে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ৯৮৮টি, পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৮১টি। এর মধ্যে ৫৬৩টি ঢাকায় এবং ৪২৫টি ঢাকার বাইরে। এ ছাড়া নতুন শনাক্ত ৫৪ জনের মধ্যে ৩৯ জন ঢাকার অধিবাসী। বাকিরা বাইরের বিভিন্ন এলাকার। নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং ২১ জন নারী। ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাতজন এবং ৬০ বছরের বেশি ১০ জন।

বুলেটিনে দেওয়া আরেক তথ্যে জানানো হয়, মোট কোয়ারেন্টিনে আছে ১০ হাজার ১৫৭ জন। এদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছে ২৪৪ জন, বাকিরা হোম কোয়ারেন্টিনে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, এ পর্যন্ত চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ সংগ্রহ হয়েছে ছয় লাখ ৯১ হাজার ২৯২টি। এসবের মধ্যে মজুদ আছে দুই লাখ ২০ হাজার ৫১৮টি। বাকি চার লাখ ৭০ হাজার ৭৭৪টি বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে পরীক্ষার কিট সংগ্রহ করা হয়েছে ৯২ হাজার, যার মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রে বিতরণ করা হয়েছে ২১ হাজার, জমা আছে ৭১ হাজার।

কেরানীগঞ্জে আরো চারজন আক্রান্ত : কেরানীগঞ্জের মডেল থানার জিনজিরা ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকায় তিনজন এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার শুভাঢ্যা ইউনিয়নের চুনকুটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় আরো এক ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর মোশারফ হোসাইন বলেন, জিনজিরায় আক্রান্ত রোগীদের নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট আসে। তাঁদের নিজ বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের কেউই বিদেশফেরত নন। তবে জিনজিরায় আক্রান্ত রোগীরা দুই দিন আগে আক্রান্ত হওয়া রোগীর স্ত্রী ও সন্তান।

জগন্নাথের শিক্ষার্থী সুস্থ হওয়ার পথে : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এখন সুস্থ হওয়ার পথে। তাঁর শরীরে মৃদু সংক্রমণ হয়েছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।

ওই শিক্ষার্থী জানান, কিছুদিন আগে জ্বর, হাঁচি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে খুব সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে ছিলেন। এখন তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন এবং সুস্থ অনুভব করছেন। 

চট্টগ্রামে আরো তিনজনের শনাক্ত : চট্টগ্রামে আরো তিনজনের কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৬০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে এর মধ্যে এ তিনজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর। তিনি বলেন, আজকে (বুধবার) ৬০ জনের মধ্যে তিনজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে পাঁচজনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হলো।

মাদারগঞ্জে ফার্মাসিস্টের করোনা শনাক্ত : জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাঁর দেহে করোনা পজিটিভ এসেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে বেশ তৎপর ও চিন্তিত থাকতে দেখা গেছে। এ নিয়ে জেলায় দুজনের করোনা শনাক্ত হলো।

সিদ্ধিরগঞ্জে শ্রমিক লীগ নেতার মৃত্যু : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জালকুড়ি এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক শ্রমিক লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি জালকুড়ি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ আদমজী আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক জানান, করোনায় আক্রান্ত ওই শ্রমিক নেতা রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল সকাল ১১টায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এর আগে নারায়ণগঞ্জে ছয়জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

[এই প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা