kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

► ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু ►প্রাণ ভিক্ষার আবেদন

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি

আবদুল মাজেদ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্তকৃত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এম হেলাল চৌধুরী এই পরোয়ানা জারি করেন।

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে আদালতে টানা বন্ধ চলছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে শুধু গতকালের জন্য ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত খোলা রাখা হয়।

জানা গেছে, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দেওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে আরেকটি চিঠি দিয়ে জানানো হয়, ‘শুধুমাত্র ৮ এপ্রিলের জন্য ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাধারণ ছুটি বাতিল করা হলো।’ সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গতকাল রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামি মাজেদকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানানো হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল এই আবেদন করেন। পরে আসামি মাজেদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুপুরের আগেই আদালতে হাজির করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল ছাড়াও ঢাকার জেলা পিপি খন্দকার আবদুল মান্নান, মহানগর পিপি মো. আবদুল্লাহ আবুসহ আরো কয়েকজন আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে মাজেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) একটি দল। ওই দিনই মাজেদকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জুলফিকার হায়াৎ আসামি মাজেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। আবার আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগার থেকে হাজির করা হয়। বঙ্গবন্ধুর খুনিকে আদালতে হাজির করার খবর শোনার পর অনেক আইনজীবী গতকাল আদালতে হাজির হন। স্থানীয় উত্সুক জনগণও আদালত চত্বরে হাজির হয়। মাজেদকে আদালতে হাজির করার পর মামলাটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। মাজেদকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। মাজেদের হাতকড়া খুলে দেওয়া হয় কাঠগড়ায়। আদালত মাজেদের সঙ্গে কথা বলতে চান। মাজেদ এ সময় নিজেকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি এবং তিনিই ক্যাপ্টেন মাজেদ এটা নিশ্চিত করেন। তিনি দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে ছিলেন বলেও আদালতকে জানান। পরে আদালত তাঁকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন। মাজেদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজই (বুধবার) মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছে যাবে। লাল কাপড়ে মোড়ানো এই পরোয়ানা কারাগারে পৌঁছানোর পরই ফাঁসি কার্যকরের দিনক্ষণ গণনা শুরু হবে।’ অ্যাডভোকেট কাজল আরো বলেন, ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। সে ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে। তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলা প্রশাসককে জানাবে। জেলা প্রশাসক সরকারের আদেশ নির্দেশ অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকর করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরো বলেন, তামাদি আইনের সুযোগ নিয়ে আসামি সুপ্রিম কোর্টেও আপিল বিভাগে লিভ টু আপিলের অনুমতি চাইবেন কি না সেটা তাঁর ওপর নির্ভর করে। আসামি আবেদন করলে গৃহীত হবে কি হবে না সেটা আপিল বিভাগের এখতিয়ার। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন : ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ গতকাল বিকেলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন।

কারা সূত্র জানিয়েছে, তাঁর আবেদনপত্র কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠাবে আইন মন্ত্রণালয়ে। সেখান থেকে সামারি করে পাঠানো হবে রাষ্ট্রপতির কাছে।

কেরানীগঞ্জ কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত : ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হতে পারে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

এক কারা কর্মকর্তা গতকাল জানান, কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ করা হয়েছে। মাজেদের ফাঁসি ওই মঞ্চে কার্যকর করা হলে সে ক্ষেত্রে এটাই হবে নতুন করে স্থাপিত এই কারাগারে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, ‘কেরানীগঞ্জের কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ রয়েছে। এখানে এখন পর্যন্ত কারো ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি।’

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে খুন হন। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়। তাঁরা হলেন কারাগারে থাকা আসামি মেজর বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার মহিউদ্দিন আহমেদ। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামি পলাতক থাকেন। তাঁরা হলেন খন্দকার আবদুর রশিদ, রিসালদার মোসলেমউদ্দিন, শরিফুল হক ডালিম, এ এম রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, আবদুল আজিজ পাশা ও ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ। আজিজ পাশা ২০০২ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ভোরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সবাইকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে হত্যা করা হয়। কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেন। এর মধ্যে ক্যাপ্টেন মাজেদ বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীদের অন্যতম একজন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর মাজেদকে সেনেগালে বাংলাদেশ দূতাবাসে তৃতীয় সচিব পদে চাকরি দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী সরকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা