kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৪ জুন ২০২০। ১১ শাওয়াল ১৪৪১

করোনার ওষুধ তৈরির পথে গবেষকরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার ওষুধ তৈরির পথে গবেষকরা

নভেল করোনাভাইরাস ঠেকাতে বিশ্বজুড়েই ওষুধ ও ভ্যাকসিন নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে এক দল মার্কিন গবেষক দাবি করছেন, তাঁরা এমন একটি ট্যাবলেট নিয়ে পরীক্ষাগারে সফল পরীক্ষা চালিয়েছেন, যেটি করোনার বিরুদ্ধে লড়তে পারে। এরই মধ্যে ওই ওষুধের লাইসেন্স নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান রিজব্যাক বায়োথেরাপিউটিকস। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ওষুধ পরীক্ষার জন্য অনুমতিও দিয়েছে। সম্প্রতি এই ওষুধসংক্রান্ত গবেষণা নিবন্ধ ‘সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

এই গবেষণায় যুক্ত আছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকরা। ভাইরাস প্রতিরোধী ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য কয়েক মাসের মধ্যে ১০ জন রোগীকে খাওয়ানো হবে।

গবেষকরা বলছেন, নতুন এই ওষুধটির নাম ‘ইআইডিডি-২৮০১’। এটি মূলত সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের উচ্চ সংখ্যায় পুনরুৎপাদন এবং সংক্রমণে বাধা সৃষ্টি করে। এই ট্যাবলেট টেস্টটিউবে মানুষের ফুসফুসের কোষের প্রতিলিপিতে করোনাভাইরাস বিস্তারে বাধা দিতে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া ইঁদুরের ওপরও পরীক্ষা চালিয়ে এর কার্যকারিতা পাওয়া গেছে। ইঁদুরের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত করোনাভাইরাসকে পুনরুৎপাদনে বেশ কিছুদিন বাধা দেওয়া এবং ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করার প্রমাণ মিলেছে।

গবেষকরা বলছেন, তাঁদের তৈরি ওষুধটি এখনো মানুষের দেহে পরীক্ষা করে দেখা হয়নি। তবে এর প্রভাব যদি মানুষের ক্ষেত্রেও একই রকম হয়, তবে কোভিড-১৯ মহামারির ক্ষেত্রে এটাই হবে প্রথম ট্যাবলেট। মুখে খাওয়ার ট্যাবলেট হিসেবে করোনার ওষুধ পেলে তা আশীর্বাদ হবে। কারণ শিরায় ইঞ্জেকশন দেওয়ার চেয়ে বেশি লোককে ওষুধ দেওয়া সহজ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার আরেকটি ভ্যাকসিনের পরীক্ষা : এদিকে গত সোমবার মার্কিন বায়োটেকনোলজি কম্পানি ইনোভিও করোনার একটি ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর আগে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের অন্য একটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে মডার্না। গত মার্চে ওই ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

ইনভিওর ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানো হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়াতে। ইনোভিও বলছে, এর মাধ্যমে ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে।

ইনোভিওর একজন মুখপাত্র বলেছেন, চলতি বছরের গ্রীষ্মের শেষের দিকে এই ভ্যাকসিনটির ফেজ-১ ট্রায়াল সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভ্যাকসিনটি সেই সময় মিসৌরি, কানসাস সিটি এবং ফিলাডেলফিয়ার ৪০ জন সুস্থ এবং প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে প্রয়োগ করা হবে।

ফেজ-১ ট্রায়ালের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভ্যাকসিনটি নিরাপদ এবং যাদের শরীরে প্রয়োগ করা হচ্ছে; তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত সাড়া দিচ্ছে কি না, সেটি জানা। তবে কভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা প্রমাণের জন্য আরো বেশিসংখ্যক মানুষের শরীরে এর প্রয়োগ করা দরকার বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। এর ফলে চূড়ান্ত ভ্যাকসিন পেতে আরো দীর্ঘ কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. পাবলো টেবাস বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক এই গবেষণাকে এফডিএর দ্রুত তালিকাভুক্তির প্রত্যাশা করছি। এই ভ্যাকসিনটি যাঁরা তৈরি করেছেন তাঁদের মধ্যে মহামারি থেকে মানুষকে রক্ষা করার একটি প্রবল আকুতি আছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁরা এই ভ্যাকসিনটি সফল প্রমাণ করতে চান।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা