kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর আশঙ্কা

করোনার বড় ধাক্কা চলতি মাসেই

► করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নিয়োজিতদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা, করা হবে পুরস্কৃত
► ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে উদ্বেগ-ক্ষোভ, দায়ী চিকিৎসকদের নামের তালিকা করার নির্দেশ
► কর্মহীনদের জন্য রেশন, যাঁরা হাত পাততে পারবেন না, তাঁদের তালিকা হবে
► সরকারি অর্থ নয়ছয় করলে কাউকে ছাড় নয়

বিশেষ প্রতিনিধি   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



করোনার বড় ধাক্কা চলতি মাসেই

চলতি মাসেই বাংলাদেশে করোনাভাইরাস বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে গণভবনে এক ভিডিও কনফারেন্সে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনগুলো সরাসরি সম্প্রচার করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্যসহ দুই বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথোপকথনের এই অনুষ্ঠানটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস এটি সঞ্চালনা করেন। এ সময় গণভবনের ব্যাঙ্কুয়েট হলে মুখে মাস্ক পরে সরকারের অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস সারা বিশ্বে প্রলয় সৃষ্টি করেছে। এ জন্য সব কিছু স্থবির। এর প্রভাবটা বাংলাদেশে এসে পড়েছে। সারা বিশ্বের ২০২টি দেশ এর ভুক্তভোগী। প্রতিনিয়ত এটা বাড়ছে। তিনি বলেন, ‘এই ভাইরাসটি প্রসারিত হওয়ার বিষয়টি অঙ্কের মতো। আমাদের এমনভাবে চলতে হবে যাতে ক্ষতি কম হয়। এটা ঠিক যে একটা স্থবিরতা এসে

গেছে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে। আমাদের অর্থনৈতিক যে প্রবৃদ্ধি আমরা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলাম তাও কিন্তু থেমে গেছে। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বব্যাপী। জানমাল রক্ষা করতে হবে। উন্নত বিশ্ব এটা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এর জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। আমি সবাইকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নিয়োজিতদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা, করা হবে পুরস্কৃত : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যাঁরা জীবন বাজি রেখে কাজে নিয়োজিত, তাঁদের তিনি পুরস্কৃত করতে চান। তাঁদের তালিকা করতে বলেছেন তিনি। তাঁদের তিনি সম্মানী দিতে চান। তাঁরা বিশেষ ইনস্যুরেন্স পাবেন। দায়িত্ব পালনকালে কেউ আক্রান্ত হলে তাঁর চিকিৎসার সব ব্যবস্থা সরকার নেবে। পদমর্যাদা অনুযায়ী ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্য বীমা করা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে (মারা গেলে) এই বীমা পাঁচ গুণ বাড়ানো হবে। যাঁরা করোনার সময় কাজ করছেন, জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন, এই প্রণোদনা তাঁদের জন্য। আর যাঁরা পালিয়ে আছেন, তাঁরা এই প্রণোদনা পাবেন না। ভবিষ্যতে তাঁরা ডাক্তারি করতে পারবেন কি না, সে চিন্তাও করতে হবে। কেউ যদি এখন কাজে আসতে চান, তবে তিন মাস তাঁর কাজ দেখে তাঁদের কথা চিন্তা করা হবে। কাউকে শর্ত দিয়ে কাজে আনবেন না তিনি।

প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে চিকিৎসক-নার্স আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এখন যদি শর্ত দেন আমাদের দিলে আমরা আসব, তাহলে বলব এটা পেতে হলে আগামী সময়ে তাদের পর্যবেক্ষণে রাখব। কিভাবে কাজ করেন তা দেখব। সত্যিই মানুষের সেবা দিলে তাদের কথা চিন্তা করা হবে। কিন্তু শর্ত দিয়ে আমি কাউকে কাজে আনব না। কারণ যাদের মধ্যে মানবতা বোধটা নেই, তাদের প্রণোদনা দিয়ে আনার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। দরকার হলে বাইরে থেকে ডাক্তার-নার্স নিয়ে আসব। এ ধরনের দুর্বল মানসিকতা দিয়ে আমাদের কাজ হবে না।’ প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘চিকিৎসক আমাদের প্রয়োজন আছে, তবে এই মানসিকতা থাকবে কেন? মানবতা বোধ হারাবে কেন? রোগী এলে চিকিৎসা করাতে হবে। এ জন্য নিজের সুরক্ষার ব্যবস্থা করে যেতে পারেন। অ্যাপ্রোন পরে নেন, মাস্ক ব্যবহার করুন। রোগী কেন ফেরত যাবে? রোগী দ্বারে দ্বারে ঘুরে কেন মারা যাবে?’

ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে উদ্বেগ-ক্ষোভ, দায়ীদের নামের তালিকা করার নির্দেশ : প্রধানমন্ত্রী বিনা চিকিৎসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘রোগী কেন ফেরত যাবে? রোগী দ্বারে দ্বারে ঘুরে কেন মারা যাবে?’ তিনি বলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের একজন ছাত্র যেকোনোভাবে রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেনি। এটা সত্যি খুব কষ্টকর, খুব দুঃখজনক। ডাক্তাররা কেন চিকিৎসা করবেন না? এই রোগী কোথায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল, সেখানে কোন ডাক্তাররা দায়িত্বে ছিলেন, আমি তাঁদের নামটা জানতে চাই। তাঁদের ডাক্তারি বা চাকরি করার মতো সক্ষমতা নেই। তাঁদের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘এটা সারা বিশ্বের জন্য একটা আতঙ্ক। সবাইকে সুরক্ষিত থাকতে হবে—এটা সত্য। ডাক্তারের সুরক্ষার জন্য যা যা দরকার আমরা তো করে যাচ্ছি। সেখানে আমরা তো কার্পণ্য করছি না। দরকার হলে আরো করব।’

কর্মহীনদের জন্য রেশন : সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে যাঁরা আছেন এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, তাঁদের জন্য রেশনের ব্যবস্থা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তাঁরা রেশন কার্ড করতে পারবেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাঁরা দিন এনে দিন খান, ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, তাঁদের কাজ বন্ধ হয়ে আছে। তাঁরা নানা ধরনের কষ্ট সহ্য করছেন। অনেকে আছেন, যাঁরা অনুদান নেবেন না, কিন্তু কিনে খেতে চান, তাঁদের জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। যাঁরা হাত পাততে পারবেন না, তাঁদের তালিকা করতে হবে। এই কাজটা আপনারা করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা র‌্যানডম করতে থাকলে দেখা যাবে যেসব ব্যক্তির কার্ড আছে সেগুলো কেউ কিনে নিয়ে নয়ছয় করে ফেলছে। ঠিক সুনির্দিষ্ট লোকটির কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এখন সবার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। সেটার ভিত্তিতে আমরা যদি সবাইকে কার্ড করে দেই, তাহলে আমরা তাদের কাছে তা পৌঁছে দিতে পারব।’

অনিয়ম করলে ছাড় নয় : দুর্ভোগের সময় কেউ অনিয়ম করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি অর্থ নয়ছয় করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখা যায় এ ধরনের দুঃসময় এলে কিছু লোক ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে। তারা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে। মানুষের দুর্ভাগ্যের সময় কেউ যদি নিজেদের সৌভাগ্য আনতে চায় বা টাকা-পয়সা কামাইতে চায়, আমাদের এই কষ্টের টাকা যদি কেউ নয়ছয় করে বা কেউ যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয়, তারা কিন্তু ধরা পড়ে যাবে। লুকাতে পারবে না, লুকানো যায় না। তাদের কিন্তু আমি এতটুকুই ছাড় দেব না, এটা স্পষ্ট।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেন। তিনি বলেন, ‘রোগ লুকাবেন না। এটা লজ্জার বিষয় না।’ মাঠপর্যায়ে যাঁরা করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কাজ করছেন, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ সবাইকে ধন্যবাদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা, জমি যেন অনাবাদি না থাকে : প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতটুকু মাটিও যেন অনাবাদি না থাকে। তিনি এ ব্যাপারে কৃষিমন্ত্রী, মত্স্যমন্ত্রীকে বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মাটি আছে, মাটি উর্বর। আমাদের মানুষ আছে, এখন অনেকে বেকার বসে আছেন, গ্রামে চলে গেছেন। কারও ঘরে এতটুকু মাটি যেন অনাবাদি না থাকে। ফলমূল, শাক-সবজি, শস্য লাগান। যা পারেন কিছু না কিছু লাগান। কিছু কিছু উৎপাদন করেন। এই যে করোনার প্রভাব, এতে ব্যাপকভাবে খাদ্যাভাব দেখা দেবে বিশ্বব্যাপী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে যে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল, সে রকম অবস্থা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আমরা উৎপাদন বাড়িয়ে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকলে অন্যদের সাহায্য করতে পারব। এটা মনে রেখে আমাদের সবার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান : উন্নত দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বে যুদ্ধ হয় বড় বড় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে, কিন্তু সামান্য একটা করোনাভাইরাস যা কেউ চোখে দেখছে না, কারও চোখে এটা পড়েনি যে এটা কী? কিন্তু সে এতই শক্তিশালী যে পুরো বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি অথবা যারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মনে করত তারা বিশ্বের সব থেকে শক্তিধর, কথায় কথায় বম্বিং করছে, কথায় কথায় গুলি করছে, কোথায় গেল সেই শক্তি! শক্তি নেই শেষ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের খেলা বোঝা খুব ভার। এ জন্য আমি বলব, এই ধন-সম্পদ রেখে কোনো লাভ হবে না। বরং যার যা আছে বিত্তশালী আপনারা প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ান, দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান। তাদের দিকে নজর দিন। তাদের সাহায্য করেন, এটাই থাকবে। মানুষ এটাই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মনে রাখবে।’ 

কেউ অসুস্থ হলে লুকাবেন না : শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাইকে বলব কারও যদি কোনো ভাইরাসের কারণে এতটুকু অসুস্থতা দেখা দেয় সঙ্গে সঙ্গে খবর দেবেন। চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা সেই ব্যবস্থা করে রেখেছি। কেউ লুকাতে যাবেন না। কারণ একজন লুকালেন তো আপনি ১০ জনকে সংক্রমিত করলেন।’ যারা চিকিৎসাসেবা দেবেন, তাদের জন্য পিপিইসহ সব ধরনের ব্যবস্থা করা আছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

‘ওবায়দুল কাদেরকে বাইরে বের হতে নিষেধ করেছি’ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বাসার বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে তাঁকে বের হতে নিষেধ করেছি।’ নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ তথ্য জানান।

হবিগঞ্জ জেলার সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিজিবিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাইরে থেকে কেউ ঢুকলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের কোয়ারেন্টিনে নিতে হবে। ইতিমধ্যে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখানে আমি সাবধান করে দিতে চাই, কারও আত্মীয় এটা বলে যেন বের করে নেওয়া না হয়।’ ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কথা বলেন হবিগঞ্জ জেলার প্রতিনিধিদের সঙ্গে।

চট্টগ্রাম জেলার পরিস্থিতি জানার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম যেহেতু লকডাউন করা হয়েছে, সেহেতু এই জেলায় কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে, আবার অন্য জেলায় যেন কেউ না যেতে পারে। মসজিদে ভিড় না করে শবেবরাতের নামাজ যেন ঘরে আদায় করা হয়। অল্লাহকে ডাকলে যেকোনো স্থান থেকে ডাকা যায়। শবেবরাতের রাতে সবাই দোয়া করবেন, যেন আমরা করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পাই। এ ছাড়া মেয়র নাসিরের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ আসছে, মশার উপদ্রব ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব যেন না হয়, সে জন্য আগে থেকেই সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেন তিনি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা