kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

বাড়ছে পরীক্ষা আক্রান্ত মৃত্যু

নমুনা সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ে আরো সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাড়ছে পরীক্ষা আক্রান্ত মৃত্যু

করোনাভাইরাসে দেশে কেউ শনাক্ত হওয়ার খবর প্রথম সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল গত ৮ মার্চ। তবে আনুষ্ঠানিক প্রকাশের আগের দিন অর্থাৎ ৭ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ল্যাবরেটরিতে দেশে প্রথম তিনজনের নমুনায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সেই হিসাবে আজ এক মাস পূর্ণ হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জানানো তথ্য অনুসারে দেশে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং একই সময়ের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু ঘটেছে, যাদের চারজন পুরুষ ও একজন নারী। এ পর্যন্ত দেশে এক দিনে এটাই সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যুর তথ্য এলো। গতকাল এই ব্রিফিংয়ে এসব জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ও আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে গত ৮ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট চার হাজার ২৪৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে দেশে মোট শনাক্ত হয়েছে ১৬৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছে ৩৩ জন। অন্য ১১৪ জন চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৪১ জনের মধ্যে ঢাকায় ২০ জন ও নারায়ণগঞ্জে ১৫ জন। বাকিরা অন্যান্য এলাকার।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নতুন শনাক্তের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী, যাদের মধ্যে ১০ বছরের নিচে একজন, ১১ থেকে ২০ বছরের ভেতরে চারজন, ২১ থেকে ৩০-এর মধ্যে ১০ জন, ৩১ থেকে ৪০-এর মধ্যে পাঁচজন, ৪১ থেকে ৫০-এর মধ্যে ৯ জন, ৫০ থেকে ৬০-এর মধ্যে সাতজন এবং ৬০-এর বেশি বয়সের রয়েছে পাঁচজন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে ৬০-এর বেশি বয়সের দুজন, ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে দুজন এবং ৪১ থেকে ৫০-এর মধ্যে একজন রয়েছে। মৃতদের দুজন ঢাকার এবং তিনজন বিভিন্ন জেলার।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এ পর্যন্ত মোট ঢাকায় ৯টি ও ঢাকার বাইরে সাতটি কেন্দ্রে করোনাভাইরাস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট চার হাজার ২৪৯ জনের নমুনা পরীক্ষার মধ্যে আইইডিসিআরে হয়েছে দুই হাজার ২৭১টি ও অন্যগুলোতে দুই হাজার ১৮টি। এ ছাড়া শেষ ২৪ ঘণ্টায় মোট ৬৭৯টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৪১ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে আইইডিসিআরের ল্যাবে এবং বাকি ১১টি অন্যান্য ল্যাবে।

পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকেল ৩টায় সীমিত আকারে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহানগরী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে যে প্রাইভেট হাসপাতাল আছে সেগুলো যেন চিকিৎসা বন্ধ না রাখে। আমরা এর মধ্যেই দেখেছি নানা ঘটনা ঘটছে।’ মন্ত্রী এ সময় বলেন, সারা দেশে পরীক্ষা যাতে হয় সেদিকেও মাঠ পর্যায়ের সবাইকে কাজ করতে হবে। যত পরীক্ষা হবে, তত নির্ণয় হবে। যত নির্ণয় হবে তত সুরক্ষার ব্যবস্থা করা যাবে। তাই নমুনা সংগ্রহে মাঠ পর্যায়ের সবাইকে আরো সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসচিব (সেবা) মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বর্ধন জং রানা, বাংলাদেশ নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইসমত আরা বেগমসহ অন্যরা।

এদিকে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকার গত ১৬ মার্চ ঘোষণা দিয়ে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। ৩১ মার্চ পর্যন্ত ওই বন্ধের ঘোষণা থাকলেও ১ এপ্রিল পূর্বনির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ২৪ মার্চই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে দায়িত্বশীলরা জানান, সরকারি সাধারণ ছুটি যত দিন চলবে তত দিন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে। ২৪ মার্চ ঘোষণা দিয়ে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। ২৬ মার্চ ছুটির সময়টায় গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে এই বন্ধ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরবর্তী সময়ে নতুন ঘোষণা না এলেও সড়হ পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ছুটি পর্যন্তই গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। এদিকে ৩১ মার্চ জানানো হয়, সরকারি ছুটি পাঁচ দিন বাড়িয়ে ৯ এপ্রিল করা হয়েছে। এরপর ৫ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) পর্যন্ত সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়। ৫ এপ্রিল এক নির্দেশনা জারি করে পুলিশের আইজি জরুরি সেবার বাইরের সাধারণ নাগরিকদের ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। মূলত এর মাধ্যমে ঢাকা লকডাউন হয়ে গেছে। ৬ এপ্রিল একই ঘোষণা দেয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। একই দিন ঢাকার ফার্মেসি ছাড়া নিত্যপণ্যের দোকানগুলো সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশনা দেয় মহানগর পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা