kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষা বেশি শনাক্তও বেশি

► বিশ্বে আক্রান্ত ১৩ লক্ষাধিক, মৃত্যু ৭২ হাজার
► মৃত্যু কমছে ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সে
► মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে আক্রান্ত ২৯ নার্স-চিকিৎসক
► জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষা বেশি শনাক্তও বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত ২৩ জানুয়ারি। শুরুতে করোনা পরীক্ষায় গুরুত্ব দেয়নি শীর্ষ অর্থনীতির দেশটি। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে মার্চের মাঝামাঝি থেকে তাদের করোনা পরীক্ষায় তোড়জোড় শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বে সর্বোচ্চ কভিড-১৯ রোগী যেমন শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, তেমনই পরীক্ষার সংখ্যায়ও দেশটি সবার চেয়ে এগিয়ে। গতকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮ লাখ ৩৮ হাজার পরীক্ষা করানো হয়েছে। এর মধ্যে ফল পজিটিভ এসেছে তিন লাখ ৫২ হাজার মানুষের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গ্রেব্রিয়েসিসও বারবার অধিকসংখ্যক পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। কারণ পরীক্ষা বেশি করালে অধিকসংখ্যক রোগী শনাক্ত করা যায়। এতে করে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

অল্প সময়ের মধ্যে অধিক পরীক্ষা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত করাও সম্ভব হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বলেছিলেন, করোনা মোকাবেলায় চলতি ও আগামী সপ্তাহ সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সর্বোচ্চ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। অবশ্য বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব বলছে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪ হাজার ১৯৬ জনের শরীরে করোনা মিললেও পরের দিন তা বেশ কমেছে। রবিবার এক দিনে শনাক্ত হয় ২৫ হাজার ৩৩৬ জন। এই সময়ে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে। শনিবার যেখানে মারা গেছে এক হাজার ৩৩০ জন, সেখানে রবিবার মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ১৬৫ জনের।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে চার হাজার ৭৫০ জনের বেশি মানুষ, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট প্রাণহানির ৪০ শতাংশেরও বেশি। তবে রবিবার নিউ ইয়র্কে নতুন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমতে দেখা গেছে। এটিকে ‘শুভ লক্ষণ’ মনে করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখেও আশার বাণী উচ্চারিত হয়েছে। যদিও আগের দিন তিনি ভয়াবহতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের উপদ্রুত এলাকাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসছে উল্লেখ করে রবিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সুড়ঙ্গের শেষে উঁকি দেওয়া আলোর ঝলক দেখতে পাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সামনের দিনগুলোতে আরো অনেক মানুষের মৃত্যু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অঙ্গরাজ্য করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে, তাদের জন্য মাস্ক ও ভেন্টিলেটরসহ আরো বেশি চিকিৎসাসামগ্রী পাঠানো হবে।

মৃত্যু কমছে ইতালি, স্পেন ফ্রান্সে

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত ইতালি ও স্পেনে মৃতের সংখ্যা কমে আসতে শুরু করেছে। গত ২৭ মার্চ ইতালিতে এক দিনে সর্বোচ্চ ৯১৯ জনের মৃত্যু হলেও রবিবার মারা গেছে ৫২৫ জন, যা গত ১০ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫২৩ জনে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, টানা চতুর্থ দিনের মতো মৃত্যু কমেছে স্পেনে। রবিবার দেশটিতে ৬৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এটি গত ১৩ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃতের সংখ্যা। দেশটিতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৬৯ জনে।

ইউরোপের আরেক দেশ ফ্রান্সেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমতে শুরু করেছে। গত ৩ এপ্রিল দেশটিতে ২৩ হাজার ৬০ জন আক্রান্ত হলেও রবিবার তা তিন হাজারের নিচে নেমে এসেছে। গত ২ এপ্রিল দেশটিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৩৫৫ জনের মৃত্যু হয়। গত রবিবার এ সংখ্যা ছিল ৫১৮ জন।

এ ছাড়া কয়েক দিন ধরে ইরানে করোনায় নতুন সংক্রমণের হার কমেছে। তবে হঠাৎ করেই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে জাপান ও সিঙ্গাপুরে। ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিশ্বের ২০৮টি দেশ ও অঞ্চলে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ২২৯ জনে। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছে ৭২ হাজার ৭৭৬ জন। সুস্থ হয়েছে দুই লাখ ৭৬ হাজার ১৮৬ জন।

মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালের ২৬ নার্স, ৩ চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত : ভারতের মুম্বাই শহরের একটি হাসপাতালের ২৬ জন নার্স ও তিনজন চিকিৎসকের দেহে নভেল করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। এ ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ ওয়াকহাট নামের ওই হাসপাতাল বন্ধ করে দিয়ে সেটিকে আইসোলেটেড করেছে।

ওই হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের দুইবার পরীক্ষা করে সবার ফলাফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে প্রবেশ এবং সেখান থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত হাসপাতালটির ২৭০ জন রোগী ও নার্সকে পরীক্ষা করা হয়েছে।

মুম্বাইয়ে গতকাল পর্যন্ত ৪৫৮ জনের দেহে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে ৭৪৫ জন আক্রান্ত নিয়ে সংক্রমণসংখ্যায় শীর্ষে আছে মহারাষ্ট্র। ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই এই মহারাষ্ট্রের প্রধান শহর। এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি বলে পরিচিত ধারাভির অবস্থানও এই শহরে। ১০ লাখ বাসিন্দার ঘনবসতিপূর্ণ ধারাভিতে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত পাঁচজন শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ভারতে আগামী এক বছর ৩০ শতাংশ বেতন না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, এমপি ও রাজ্যপালরা। করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় সাম?লাতে তাঁরা নিজেরাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই অর্থ যাবে প্রধান?মন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। গতকাল মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর।

ভারতজুড়ে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার ৬৯৩ জন, মৃতের সংখ্যা ১২৯ জন এবং সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ৩৪৬ জন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে, ঐক্যের ডাক রানির : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। করোনা নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যে গত রবিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনায় আক্রান্তের খবর দেওয়ার এক সপ্তাহ পর আইসোলেশন থেকে বেরিয়ে জনসন (৫৫) শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় বলেন, শরীরে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে তিনি তাঁর বাড়িতে থাকা অব্যাহত রাখবেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়েছে।

এদিকে ব্রিটেন ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর উদ্দেশে দেওয়া এক ব্যতিক্রমী ভাষণে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ঐক্যের ডাক দিয়ে বলছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই মহামারিকে ঠেকানো সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমরা যৌথভাবে এই রোগ মোকাবেলা করছি এবং আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে বিজয়ী হব।’ রানির এ ভাষণ পশ্চিম লন্ডনের উইন্ডসর ক্যাসলে রেকর্ড করা হয়। করোনাভাইরাসের কারণে পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।

ব্রিটেনে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ হাজার ৬০৮ জন। মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৩৭৩ জন।

জরুরি অবস্থা জারির প্রস্তাব জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে গতকাল বলেছেন, করোনা মোকাবেলায় তাঁর সরকার জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আবে সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপদেষ্টা প্যানেলের পরামর্শ শোনার পর আমরা আশা করছি, কাল সকালেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করব। আমরা টোকিও ও ওসাকার মতো নগর এলাকায় খুব দ্রুত করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে দেখছি।’

অ্যাবে বলেন, হাসপাতালগুলো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে মতামত এসেছে যে সরকারের উচিত জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রস্তুতি নেওয়া। সরকার টোকিও, ওসাকাসহ আরো পাঁচটি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করবে।

সিঙ্গাপুরে কোয়ারেন্টিনে ২০ হাজার অভিবাসী শ্রমিক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় বিদেশি প্রায় ২০ হাজার শ্রমিককে ১৪ দিন তাদের ডরমিটরিগুলোতে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার। ১৩ হাজার শ্রমিক বসবাস করে এমন একটি ডরমিটরিতে ৬৩ জনের এবং ছয় হাজার ৮০০ শ্রমিক বসবাস করে এমন আরেকটি ডরমিটরিতে ২৮ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর দুটি ডরমিটরিই আইসোলেটেড করা হয়েছে। এই দুটি ডরমিটরিতে প্রধানত দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা নির্মাণ শ্রমিকরা থাকে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, আনন্দবাজার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা