kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

ইবাদত উপাসনা যার যার বাসায়

বাইরের মুসল্লি মসজিদে জামাতে অংশ নিতে পারবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইবাদত উপাসনা যার যার বাসায়

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এখন থেকে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে মসজিদে খতিব, ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমরা ছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের জামাতে অংশ না নিতে বলা হয়েছে। একইভাবে অন্য ধর্মের অনুসারীদেরও এ সময়ে উপাসনালয়ে সমবেত না হয়ে নিজ নিজ বাসস্থানে উপাসনা করার জন্য বলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। কেউ এ  নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

জুমার জামাতে অংশগ্রহণের পরিবর্তে ঘরে জোহরের নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাইরের মুসল্লি মসজিদের ভেতর জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজে অনধিক পাঁচজন এবং জুমার জামাতে অনধিক ১০ জন শরিক হতে পারবেন। এ সময় ওয়াজ মাহফিল, তাফসির মাহফিল, তাবলিগ তালিম বা মিলাদ মাহফিল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সবাই ব্যক্তিগতভাবে তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লার রহমত ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করবেন।

অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরাও এ সময়ে কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক আচার অনুষ্ঠানের জন্য সমবেত হতে পারবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সব ধর্মের মূলনীতির আলোকে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এ নির্দেশনা জারি করা হলো। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটিকে অনুরোধ জানানো হলো। কোনো প্রতিষ্ঠানে এ সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘিত হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ মার্চ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আহ্বানে এ বিষয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা মিলিত হয়ে মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখার ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পরও পরিস্থিতি দ্রুত ভয়ংকর অবনতির দিকে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এসব নির্দেশনা দেওয়া হলো।

নির্দেশনা জারির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস মানুষের হাঁচি, কাশি, নিঃশ্বাস ও সংস্পর্শের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে সংক্রমিত হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির দেহে রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই তাঁর মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ঘটতে পারে। অনেকের মধ্যে ভাইরাসটি সুপ্ত অবস্থায় থাকে, যার লক্ষণ দেখা যায় না। আগে থেকে সতর্কতা অবলম্বন না করলে এর বিস্তার রোধ অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ রকম হতে থাকলে অন্য দেশের মতো আমাদের দেশেও ব্যাপক সংক্রমণ ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বে এ পর্যন্ত এ রোগের কোনো প্রতিষেধক বা চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি। যে কারণে সরকার সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে এবং সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার লক্ষ্যে দেশের সব নাগরিককে ঘরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।

এ ছাড়া বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জনসমাগমের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার ঘটছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও এ ধরনের বিস্তার ও প্রাণহানির ঘটনার উদাহরণ বিদ্যমান। এরই মধ্যে মুসলিম স্কলারদের অভিমতের ভিত্তিতে মক্কা মোকাররম ও মদিনা মুনাওয়ারাসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের মসজিদে মুসল্লিদের আগমন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ রোগের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সর্বসাধারণের আগমন বন্ধ রাখার জোর পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়তে সরকারের নির্দেশের পর দেশের মসজিদগুলো থেকে মাইকিং করে একই আহ্বান জানানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে মসজিদের ইমাম, খতিব ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা সরকারের নির্দেশনা জানার পর গতকাল আসর ও মাগরিবের নামাজের আজানের আগে ও পরে মসজিদগুলো থেকে মাইকে বলা হয়, ধর্ম মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে মুসল্লিরা বাসায় নামাজ পড়বেন, মসজিদে আসবেন না। সবাই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না। রাজধানীর কোনো  কোনো স্থানে মুসল্লিরা মসজিদে গেলেও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি মসজিদ তালা দেওয়া অবস্থায় দেখা যায়। তবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদের চিত্র ছিল ভিন্ন। সেখানে সরকারের নির্দেশের প্রতিফলন হয়নি বলে জানা যায়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা