kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

ব্যাংকের অর্থায়ন পদ্ধতির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে

ড. জাহিদ হোসেন

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাংকের অর্থায়ন পদ্ধতির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে

এটা সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ। মূলত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে এই প্যাকেজ। এখানে বড় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের জন্য বরাদ্দ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ক্ষুদ্র ও মাঝারিদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা।

এভাবে আরো কিছু প্যাকেজ দেওয়া হয়েছে রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে। এটা মূলত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে।

বড়দের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ সুদের মধ্যে সরকার ভর্তুকি দেবে অর্ধেক। আর ছোটদের ক্ষেত্রে দেবে ৫ শতাংশ। এগুলো সব ঠিক আছে। তবে এসবের বিস্তারিত দিকগুলো জানা দরকার। যেহেতু এসব প্যাকেজের অর্থায়নটা হবে ব্যাংক খাত থেকে। ব্যাংকগুলো নিজস্ব তহবিল থেকে এই অর্থ দেবে। কাজেই এই ম্যাচিং ফর্মুলাটা বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য এক রকম আর ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য আরেক রকম হতে হবে।

ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সঞ্চয় খুব বেশি থাকার কথা না। বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫০-৫০ করলে ছোটদের জন্য অন্তত ৯০-১০ তো করা যাবে। মানে আপনি ১০ টাকা দেন, আমি ৯০ টাকা দেব। অর্থাৎ পে-রোল সাপোর্টটাকে ইনটেনসিফায়েড করতে হবে, যাতে মালিকরাও নিজস্ব তহবিল থেকে কিছু দেন। আমরা তাঁদের সহায়তা দেব। তার মানে এই নয় যে তাঁরা সব ফ্রিতে করে যাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক যখন গাইডলাইন করবে তখন এই বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করে দেওয়ার ব্যাপার আছে। এখানে সুবিধাবাদীদের যাতে প্রশ্রয় দেওয়া না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। এখানে রপ্তানি খাতে যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, এটা সরাসরি যারা রপ্তানি করে তারা পাবে। প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকরা পাবে না।

প্রি-শিপমেন্ট রিফাইন্যান্সিং ক্রেডিট যেটা দেওয়া হচ্ছে এরা যাতে তা পেতে পারে, সেটা দেখতে হবে। একটা বড় জনগোষ্ঠী এখন যারা ঝুঁকিতে আছে, বিশেষ করে বাসচালক, নাপিত, দোকানদার, ভাসমান জনগোষ্ঠী, মৌসুমি শ্রমিক—যারা এখন ক্ষুধার ঝুঁকিতে আছে, তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু করতে হবে। তাদের জন্য ফ্রি খাদ্য, আবাসন ইত্যাদির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে কত টাকা দেওয়া হবে? তাদের জন্য বাজেট কত? তারা তো বিরাট সংখ্যায়। পাঁচ কোটির ওপরে। তাদের কত টাকা আমরা দেব? আমার মনে হয়, তাদের জন্য সরাসরি নগদ সহায়তা দিতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা হবে না। দ্রুত দিতে হলে পিকেএসএফের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দিতে হবে। দেরি হলে এ জনগোষ্ঠী ক্ষুধার যন্ত্রণায় রাস্তায় বেরিয়ে এলে বিপর্যয় নেমে আসবে।

লেখক : সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ, বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা