kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

রপ্তানিসহ শিল্প খাতে এ প্যাকেজ গতি ফেরাবে

এ কে আজাদ

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রপ্তানিসহ শিল্প খাতে এ প্যাকেজ গতি ফেরাবে

প্রধানমন্ত্রী যে এত বড় একটা প্যাকেজ দিয়েছেন, তাতে আমরা খুবই আনন্দিত, অনুপ্রাণিত বোধ করছি। এতটা আমরা আশা করিনি। কারণ আমাদের ইকোনমিতে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা বিরাট ব্যাপার।

এই প্যাকেজ আমাদের রপ্তানিসহ শিল্প খাতে গতি ফেরাবে।

আমাদের আগের ইডিএফ ছিল তিন দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারের। এর সঙ্গে নতুন করে আরো দেড় বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছেন। আগে সুদের হার ছিল ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ, এখন তা ২ শতাংশ। এ সব কিছু মিলিয়ে খুবই ভালো হলো। তারপর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ঋণের সুদ ৯ শতাংশের মধ্যে সাড়ে ৪ শতাংশ আমাদের দিতে হবে। ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য আরো কম। ৫ শতাংশ দেবে সরকার আর শিল্প মালিকরা দেবেন ৪ শতাংশ।

দুই শতাংশ সুদে পাঁচ হাজার কোটি টাকার তহবিল, তার সঙ্গে ৩০ হাজার কোটি টাকার তহবিল—আমি মনে করি এগুলো আমাদের শিল্পের জন্য খুবই ভালো হবে। তবে মন্দা কতটা মোকাবেলা করা যাবে তা বলা কঠিন। কারণ রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্প, চামড়া বা চামড়াজাত শিল্প, পাদুকাশিল্প, পাট ও পাটজাত শিল্প—সব কিছু মিলিয়ে আমরা কতটুকু কম্পিটিটিভ হব এটাও আমাদের দেখার ব্যাপার। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে আরো একটু সময় লাগবে। তবে মন্দা মোকাবেলায় এই প্যাকেজ অনেকটা সহায়ক হবে।

আন্তর্জাতিক গবেষণায় বলা হচ্ছে, আমাদের পণ্যের দাম পড়ে যাবে। তখন আমাদের আরো কম্পিটিটিভ হতে হবে। আমাদের যেসব জায়গায় ওভারহেড কস্ট বেশি আছে তা কমাতে হবে। সে কারণে আমি মনে করি, আস্তে আস্তে আমাদের ওই সব জায়গায় নজর দিতে হবে। কিভাবে দক্ষতা বাড়ানো যায়, মিড লেভেল ম্যানেজমেন্টে বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কিভাবে খরচ কমানো যায়—এসব নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এর সঙ্গে আমাদের অভ্যন্তরীণ পর্যায় থেকে কাপড়সহ অন্যান্য কাঁচামাল কিভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ করা যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

প্যাকেজের অর্থায়নে আইএফসির কাছ থেকে সরকার দুই বিলিয়ন ডলার পাবে বলে শুনেছি। সরকার আরো হয়তো অন্যান্য সোর্স থেকে চেষ্টা করছে। কারণ আমাদের ঋণ পরিশোধ পারফরম্যান্স ভালো। এখন তো খুব বেশি ঋণ নেয় না সরকার। তাই এ খাতে টাকা পেতে সমস্যা হবে না। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও নিতে পারবে বলে আমি মনে করি।

লেখক : সাবেক সভাপতি, এফবিসিসিআই

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা