kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়াই চ্যালেঞ্জ

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়াই চ্যালেঞ্জ

নভেল করোনাভাইরাসজনিত সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে পোশাক খাতে প্রণোদনার পর দেশের সাময়িক ও মধ্যমেয়াদি সংকট নিরসনে আরো বড় একটি রাজস্ব প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এ সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তাদের উন্নয়নে প্রগ্রামের যথাযথ বাস্তবায়ন। এ ক্ষেত্রে দুটি শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

প্রথম শ্রেণিটি হচ্ছে অনানুষ্ঠানিক খাতে থাকা অতিদরিদ্র মানুষেরা। বিশেষ করে শহর-নগরে থাকা এ শ্রেণিটি মারাত্মক খাদ্যসংকটে থাকবে। প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, শহরে অতিদরিদ্র মানুষ রয়েছে ৪০ লাখ। তাই অনানুষ্ঠানিক খাতের অতিদরিদ্রদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি সাময়িক খাদ্যনিরাপত্তা কর্মসূচি প্রয়োজন, যাতে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ লাখ মানুষকে দু-তিন মাস খাদ্য সহায়তা দেওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, যাদের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন তারা হচ্ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শ্রেণি। সংকটের কারণে তারা তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে। প্রতিষ্ঠান নতুন করে শুরু করার সক্ষমতা তাদের নেই। তাদের জন্য মধ্যমেয়াদি একটি রাজস্ব প্রণোদনা প্রয়োজন।

শহরের দরিদ্র শ্রেণির জন্য সরকার কিছুটা ত্রাণ তৎপরতা শুরু করেছে। যদিও সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং কেউ কেউ ব্যক্তি উদ্যোগে সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু এসব সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। চাহিদা অনুযায়ী সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কোন কোন জায়গায়, কারা বেশি খাদ্যঘাটতিতে রয়েছে এবং আরো যেসব ঝুঁকি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এসব সংকট মোকাবেলা করতে গিয়ে যাতে বড় ধরনের কোনো লিকেজ বা ভুল না থেকে যায় সে জন্য তৃতীয় পক্ষের মনিটরিং প্রয়োজন, যা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হতে হবে। এনজিও এবং তৃণমূলে থাকা সংস্থাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে সরকারের রাজস্ব প্রণোদনা বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ে।

করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় সরকার তার বিশাল রাজস্ব চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের এ বছরের বৈশাখী ভাতা বাদ দেওয়া যেতে পারে, যা করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ব্যবহৃত হবে। যেসব খাতে বাজেট কম বাস্তবায়িত হয়েছে, সেসব অর্থ এদিকে স্থানান্তর করা যেতে পারে। কম গুরুত্বপূর্ণ ক্রয়ের অর্থ এবং পুনর্বণ্টনের অর্থ করোনা সংকটে স্থানান্তর হতে পারে। পুনর্বণ্টনের অন্য সুযোগগুলো খতিয়ে দেখা। এর পাশাপাশি উন্নয়ন অংশীদারদের সহায়তা নেওয়া।

লেখক : অর্থনীতিবিদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা