kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

কৃষি ও পোল্ট্রিতে আরো মনোযোগ দরকার

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষি ও পোল্ট্রিতে আরো মনোযোগ দরকার

প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা প্যাকেজটি ঘোষণা করেছেন, তা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এটা যাঁরা বাস্তবায়ন করবেন, ব্যাংকিং সেক্টর, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যদের নিষ্ঠার সঙ্গে, নন-রুটিন জব হিসেবে কাজ করতে হবে।

আমরা দেখি অনেকেই কিন্তু দায়িত্বশীল নন। প্যাকেজটির মডালিটিগুলো কী হবে তা দ্রুত ওয়ার্কআউট করতে হবে। না হলে আমাদের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মতো যেমন-তেমন হবে। অর্থাৎ বাস্তবায়নটা হলো বড়।

আমার মনে হয়, প্যাকেজটিতে আরো বেশি বরাদ্দ রাখা যেত ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অন্যান্য অরপ্তানি খাত ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্পের জন্য। যাদের কোনো লাইসেন্স নেই, কাজ করছে ওই রকম প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিও নেই; ওদের ব্যাপারে তেমন কথা নেই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প তথা এসএমই খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেটা ব্যাংকের মাধ্যমে। তবে ব্যাংকে এসএমই ঋণ পাওয়া সহজ নয়। অনেক জটিলতার কারণে ঋণ নেওয়ায় উৎসাহ থাকে না। অতএব, এটা ভালোভাবে বাস্তবায়ন না হলে সুফল মিলবে না। আর অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের কী হবে? সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে তাদের যে টাকা দেওয়া হবে তা খুবই অপ্রতুল। অনেক ছোট দোকান আছে, ওয়ার্কশপ আছে, তারা কিভাবে পাবে? তারা কি না খেয়ে মরবে? তাদের জন্য নগদ সহায়তা দেওয়া উচিত। তাদের খুঁজে পাওয়া কঠিন। তার পরও বিভিন্ন সোর্স থেকে তাদের তালিকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এটা না হলে তো ওরা না খেয়ে মারা যাবে। আর অর্থনীতিতে চাহিদা তৈরি করতে হবে। যারা পণ্য উৎপাদন করে, শাকসবজি ফলায় তাদের জন্য একটা ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী টাকার প্রবাহ বাড়াবেন বলেছেন, তা ব্যাংকিং খাতে। সাধারণ কৃষক-শ্রমিকদের হাতে টাকা যেতে হবে। তাদের জন্য উপযুক্ত হলো নগদ সহায়তা। এটার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

কৃষি ফসলের যাতে ন্যায্য দাম পাওয়া যায়, সেটা করতে হবে। এখন তো পণ্যের দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তারা চলবে কিভাবে। তারা তো মারা পড়বে। কৃষি উৎপাদনসহ পোল্ট্রি, লাইভস্টক ওই সব খাতও এখন ঝুঁকিতে। খাদ্য উৎপাদন যাতে স্বাভাবিক হয় সেদিকে কঠোর নজর দিতে হবে। খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হলে ভয়াবহ অবস্থা হবে। মানুষ না খেয়ে মারা গেলে তো বিপদ হবে। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিতে আরো মনোযোগ দেওয়া উচিত।

মোটা দাগে মনে হচ্ছে প্যাকেজটি ঠিকই আছে। বড় ইন্ডাস্ট্রিগুলো এর সুবিধাটা বেশি পাবে। তাদের জন্য এটা বেশি উপযোগী হয়েছে। ওদেরও প্রয়োজন আছে। তবে প্রান্তিক মানুষের জন্য আরোপ বরাদ্দ দরকার ছিল।

প্যাকেজ বাস্তবায়নে সরকার ঘাটতি অর্থায়নের মাধ্যমে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প কাটছাঁট করে কিছু টাকা নেবে। এটা সমস্যা নয়। আর মেগা প্রকল্পগুলো এখন থামিয়ে ওখান থেকেও কিছু টাকা নেওয়া যেতে পারে। বরাদ্দটা স্থানান্তর করলেই অর্থের সংস্থান হয়ে যাবে। এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকেও টাকা নেবে সরকার।

লেখক : সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা