kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

৭২৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা

করোনা মোকাবেলা করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি   

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



৭২৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এবং তা থেকে উত্তরণে নতুন চারটিসহ মোট পাঁচটি প্যাকেজে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা জিডিপির প্রায় ২.৫২ শতাংশ। গতকাল রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন চারটি প্যাকেজে ৬৭ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেন তিনি। এর আগে তৈরি পোশাক খাতের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ও উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত নতুন কর্মপরিকল্পনায় আর্থিক সহায়তার প্যাকেজে রয়েছে—সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি; সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা ও মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি কার্যক্রম। কর্মপরিকল্পনার আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মাধ্যমে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে সঙ্গে নিয়ে গণভবনে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবেলায় জয়ী হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এবং রেডিও স্টেশনগুলো প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করে। গতকাল সকাল ১০টার কিছু পরে শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনটি পৌনে এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, অর্থসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মুখে মাস্ক পরে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনের স্থান ব্যাংকুয়েট হলে উপস্থিত হন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন মাস্ক পরে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সবার বসার ব্যবস্থা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নতির আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্যাকেজসমূহ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে আমাদের অর্থনীতি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে এবং আমরা কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাছাকাছি পৌঁছতে পারব।’ তিনি আরো বলেন, ‘সম্ভাব্য এই বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে রপ্তানি খাতের পাশাপাশি দেশীয় পণ্যের প্রতি আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমি সকলকে দেশীয় পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে বাংলাদেশের মানুষ ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে আশ্চর্য এক সহনশীল ক্ষমতা এবং ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা।’

শেখ হাসিনা বলেন, গত বছর ডিসেম্বরে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। চীনে করোনা ছড়ানোর পরপরই বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছে। জানুয়ারি মাস থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দেশে এ যাবৎ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ও মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। পাশাপাশি সুস্থ রোগীর তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের বয়স ৭০ বছরের ওপরে। তাঁরা অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তবে একটি মৃত্যুও কাম্য নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশে ১৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জনসাধারণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শুরু থেকে তিন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি বৈশ্বিক মহামন্দা অবস্থা সৃষ্টি করেছে। তিনি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের আর্থিক পরিস্থিতির ওপর করোনার প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয় ১ শতাংশ কমে গেছে। শেয়ারবাজারের ওপর প্রভাব পড়েছে। বিশ্বে জ্বালানি তেলের মূল্য কমে গেছে। করোনাভাইরাসের প্রভাব প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে পড়তে পারে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়ায় জিডিপির প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সহায়তার পদক্ষেপ হিসেবে তাত্ক্ষণিক করণীয়, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও কর্মসৃজনকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানান। এর ফল নিম্নবিত্ত মানুষ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রমিক-কর্মচারী বা অন্যান্য কর্মজীবী মানুষ যাতে কর্মহীন না হয়ে পড়ে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ও ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা জানান। সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের ব্যাপকতা বাড়ানোর কথাও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজগুলো হলো :

প্যাকেজ-১ : ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরের প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদান : ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ৩০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ব্যাংক-ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট শিল্প/ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ প্রদান করবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের সুদের অর্ধেক অর্থাৎ ৪.৫০ শতাংশ ঋণ গ্রহীতা শিল্প/ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে এবং অবশিষ্ট ৪.৫০ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রদান করবে।

প্যাকেজ-২ : ক্ষুদ্র (কুটির শিল্পসহ) ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদান : ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল প্রদানের লক্ষ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ব্যাংক-ক্লায়েন্ট রিলেশনসের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বাবদ ঋণ প্রদান করবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের ৪ শতাংশ সুদ ঋণ গ্রহীতা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিশোধ করবে, অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে প্রদান করবে।

প্যাকেজ- : বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তিত ইডিএফ

(Export Development Fund)-এর সুবিধা বাড়ানো :  Back-to-back LC-এর আওতায় কাঁচামাল আমদানি সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইডিএফের বর্তমান আকার ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। ফলে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অতিরিক্ত ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ইডিএফ তহবিলে যুক্ত হবে। ইডিএফের বর্তমান সুদের হার  LIBOR + 1.5 শতাংশ (যা প্রকৃত পক্ষে ২.৭৩%) থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে।

প্যাকেজ-৪ : প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্স স্কিম  (Pre-shipment Credit Refinance Scheme) নামে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন ঋণ সুবিধা চালু করবে। এ ঋণ সুবিধার সুদের হার হবে ৭ শতাংশ।

প্যাকেজ-৫ : ইতিপূর্বে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি আপৎকালীন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনা প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভাইরাসসহ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে National Preparedness and Response Plan for COVID-19, Bangladesh  প্রণয়ন করা হয়েছে। পরিকল্পনার আওতায় তিন স্তরবিশিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। সেগুলো হলো-

১. বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে যেন ভাইরাস না ছড়ায় সে জন্য বিদেশে গমন এবং বিদেশ থেকে আগমন নিরুৎসাহিত করা; ২. দেশের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তির আগমন ঘটলে দ্রুত শনাক্তকরণ এবং এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ভাইরাসের বিস্তার রোধ; ৩. চিহ্নিত আক্রান্ত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দ্রুত পৃথক করে যথাযথ চিকিৎসা প্রদান। গত জানুয়ারি থেকে এই তিন স্তরের কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয় বলে জানান তিনি।

করোনায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা প্রধানমন্ত্রীর : বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবগুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর কী ধরনের বা কতটুকু নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলার সময় আসেনি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরছি : ক. আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অর্থবছর শেষে এই হ্রাসের পরিমাণ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খ. চলমান মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং ব্যাংক সুদের হার হ্রাসের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিলম্বের কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা আছে। গ. সার্ভিস সেক্টর বিশেষত হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন এবং এভিয়েশন সেক্টরের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। ঘ. বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ঙ. বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা হ্রাসের কারণে এর মূল্য ৫০ শতাংশের অধিক হ্রাস পেয়েছে; যার বিরূপ প্রভাব পড়বে প্রবাসী আয়ের ওপর। চ. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৩.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে মর্মে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রাক্কলন করেছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে এ ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে। ছ. দীর্ঘ ছুটি বা কার্যত লকডাউনের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপাদন বন্ধ এবং পরিবহন সেবা ব্যাহত হওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং সরবরাহ চেইনে সমস্যা হতে পারে। জ. চলতি অর্থবছরের রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হবে। এর ফলে অর্থবছর শেষে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। ঝ. বিগত তিন বছর ধরে ধারাবাহিক ৭ শতাংশের অধিক হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি ছিল শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি। সামষ্টিক চলকসমূহের নেতিবাচক প্রভাবের ফলে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে।

তাত্ক্ষণিক, স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চারটি কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘোষিত চারটি কার্যক্রম হলো : ১. সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি করা : সরকরি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘কর্মসৃজনকে’ মূলত প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিদেশ ভ্রমণ এবং বিলাসী ব্যয় নিরুৎসাহিত করা হবে। আমাদের ঋণের স্থিতি-জিডিপির অনুপাত অত্যন্ত কম (৩৪%) বিধায় অধিকতর সরকারি ব্যয় সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করবে না।

২. আর্থিক সহায়তার প্যাকেজ :  ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে কিছু ঋণ সুবিধা প্রবর্তন করা হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের কাজে বহাল রাখা এবং উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখাই হলো আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের মূল উদ্দেশ্য।

৩. সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি : দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ, দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করা হবে। সামাজিক সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমসমূহ হলো : ক. বিনা মূল্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ; খ. ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি; গ. লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ; ঘ. ‘বয়স্ক ভাতা’ এবং ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা’ কর্মসূচির আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করা; এবং ঙ. জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত অন্যতম কার্যক্রম গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

৪. মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা : অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব উত্তরণে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে সিআরআর এবং রেপোর হার কমিয়ে মুদ্রা সরবরাহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা আগামীতেও প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহত থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য থাকবে যেন মুদ্রা সরবরাহজনিত কারণে মুদ্রাস্ফীতি না ঘটে।

শবেবরাত ও নববর্ষে ঘরে থাকুন : পবিত্র শবেবরাত ও বাংলা নববর্ষে ঘরে বসে নিজের মতো করে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সামনে আমাদের বাংলা নতুন বছর। এদিন আপনারা ঘরে বসে উদ্যাপন করুন। সব কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে হবে, সেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও হতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে আমাদের শবেবরাত আছে। সকলে ঘরে বসে দোয়া করুন যেন মহান আল্লাহ আমাদের বরাত ভালো রাখেন। দেশের মানুষ যেন এগিয়ে যেতে পারে। এ মহামারি থেকে যেন বিশ্ববাসী রক্ষা পায়।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা