kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

কভিড-১৯ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

দেশগুলোকে জরুরি বিনিয়োগের তাগিদ

তৌফিক মারুফ   

৫ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশগুলোকে জরুরি বিনিয়োগের তাগিদ

বৈশ্বিক মহামারি কভিড-১৯ মোকাবেলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য খাতসহ জরুরি কিছু সহায়তার ক্ষেত্রে প্রধান তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে আক্রান্তদের খুঁজে বের করা, তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার; স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য অর্থায়ন, স্বাস্থ্যকর্মীদের আর্থিক প্রণোদনা এবং সার্বিকভাবে প্রতিটি রাষ্ট্রকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আর্থিক বাধা দূর করা। ডাব্লিউএইচও এসব ক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংকসহ আরো একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার মধ্যরাতে ডাব্লিউএইচওর নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গ্রেব্রিয়েসিস তাঁর বক্তব্যে অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে এই বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেন। একই ব্রিফিংয়ের একপর্যায়ে কালের কণ্ঠ’র প্রশ্নের মুখে ডাব্লিউএইচওর নির্বাহী পরিচালক মাইকেল জে রায়ান বাংলাদেশে কভিড-১৯ ব্যবস্থাপনায় করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে পরীক্ষার সক্ষমতা ও উন্নত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবেই কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন।

ব্রিফিংয়ের প্রারম্ভিক বক্তব্যের একপর্যায়ে ডাব্লিউএইচওর মহাপরিচালক বলেন, আক্রান্ত দেশগুলোকে জোর দিতে হবে প্রধানত তিনটি ক্ষেত্রের ওপর। প্রথমত, আক্রান্তদের খুঁজে বের করা, পরীক্ষা, তথ্য সংগ্রহ এবং পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে অর্থায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য দেশ এবং অংশীদারদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের অবশ্যই বেতন-প্রণোদনা দিতে হবে, স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী কিনতে তহবিল গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্ভরযোগ্য জোগান নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত—পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব দেশকেই সামগ্রিকভাবে আর্থিক বাধা দূর করতে হবে।

ডাব্লিউএইচওর ওই কর্তাব্যক্তি বলেন, অনেকগুলো দেশ এরই মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীদের সার্ভিস ফি স্থগিত করেছে, অনেক দেশেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের বীমা, নাগরিক সেবা বা আবাসিক খরচ বহন করছে। এমন পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে আমরা উৎসাহিত করছি। কারণ সবারই মনে রাখতে হবে—এটি একটি অভূতপূর্ব সংকট যা সবার কাছ থেকে অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়ার দাবি রাখে।

মহাপরিচালকের বক্তব্যের পর অন্যান্য দেশের স্বাস্থ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে কালের কণ্ঠ’র এই প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন, ‘বাংলাদেশে কভিড-১৯ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে যে ব্যবস্থা চলছে তা সঠিক আছে না কি কোনো ভুল হচ্ছে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের পর্যবেক্ষণ কী?’ জবাবে ডাব্লিউএইচওর মহাপরিচালকের পাশে বসা নির্বাহী পরিচালক মাইকেল জে রায়ান বলেন, ‘মূলত বাংলাদেশের বিষয়টি দেখেন আমাদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপল। যিনি সার্বক্ষণিক বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছেন। তথাপি আমরা যা দেখছি তাতে বাংলাদেশে আগে থেকেই যক্ষ্মা ও এইডস-এইচআইভিসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে আধুনিক সব ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান ও দেশে এটা বিস্তৃতভাবে শক্তিশালী রয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাও বেশ ভালো। কভিড-১৯ পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে এখন সঠিক ও কার্যকর পথে চলছে বলেই মনে করি। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণভাবে নিয়েছে। তারা যে পূর্বাভাস করে কাজ করছে সেটাও ঠিকই আছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা