kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

চীনা বিশেষজ্ঞের মত

করোনার প্রাদুর্ভাব এপ্রিলের শেষে কমতে পারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনার প্রাদুর্ভাব এপ্রিলের শেষে কমতে পারে

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব চলতি এপ্রিল মাসের শেষের দিকে কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন চীনের শীর্ষ শ্বাসতন্ত্রের রোগ বিশেষজ্ঞ জং ন্যানশন। গত বুধবার রাতে চীনের একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ আশার কথা শুনিয়েছেন। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামী বসন্তে আবার অন্যকোনো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। 

চীনে করোনা মহামারি বিষয়ে সরকারের যে উপদেষ্টা পরিষদ রয়েছে, তার প্রধান জং ন্যানশন। এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, গরম বাড়ার কারণে এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের কারণে শিগগিরই করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।    

চীনা এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জোর দিয়ে বলেছেন, কভিড-১৯-এর মহামারি থেকে বাঁচতে চাইলে যেকোনো দেশেই জনগণের এখন ঘরের ভেতর অবস্থান করাটাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

সাক্ষাৎকারে জং ন্যানশন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে বিশ্বের সব দেশ প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আমার ধারণা, এপ্রিল মাসের শেষের দিকে এর প্রাদুর্ভাব কমতে শুরু করবে।’

তিনি বলেছেন, ‘এপ্রিলের পর যখন গরম আরো বাড়বে, তখন ভাইরাসটির কার্যক্ষমতা কমে যাবে বলে মনে করি। তবে আগামী বসন্তে অন্যকোনো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।’

চীনা এই বিশেষজ্ঞের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞও একই রকম ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভল্যুশন জানিয়েছে, এপ্রিলের ২০ তারিখের মধ্যেই হাসপাতালগুলোকে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী সামলাতে হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক মাইক রায়ান এ সপ্তাহে জানান, গত মাসে ইউরোপের দেশগুলো কঠোরভাবে লকডাউন ব্যবস্থা গ্রহণ করায় করোনার প্রাদুর্ভাব যে হারে বাড়ার কথা, তেমনটি হয়নি। স্থিতিশীল অবস্থার দিকে যাচ্ছে। 

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইউরোপের যে ১১টি দেশ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল, সেসব দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার কমেছে, তারা প্রায় ৬০ হাজার মৃত্যু এড়াতে পেরেছে।

মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে বিশ্বের সব দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে জানান চীনা বিশেষজ্ঞ জং ন্যানশন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দেশগুলো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলেই তাঁরা মানুষকে ঘরে রাখতে পেরেছে।’

তবে চীনসহ অন্যান্য দেশে উপসর্গ প্রকাশ ছাড়াই করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জং। তিনি বলেন, ‘এখন যে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু আছে সেটি ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকলে সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপও প্রতিরোধ করা যাবে।’

গত বুধবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, এক হাজার ৭৫ জন নীরব বাহক (উপসর্গ না থাকা সত্ত্বেও করোনাভাইরাস বহন করছেন) বর্তমানে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে আছেন। নতুন শনাক্ত হওয়া এক হাজার ৮৬৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে ৭০১ জন অন্যান্য দেশ থেকে আক্রান্ত হয়েই চীনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছেন।

জং ন্যানশন বলেন, ‘যাঁরা ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে ছিলেন তাঁদের সোয়াব টেস্টের পাশাপাশি অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হলে স্বাস্থ্যকর্মীরা সহজেই ভাইরাসের বাহকদের শনাক্ত করতে পারবেন।’

গত মাসে হংকং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনায় সুস্থ হয়ে ওঠা ২০ থেকে ৩০ শতাংশের ফুসফুসের কার্যকারিতা কমে গেছে। দ্রুত হাঁটার সময় শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। তারা দ্রুত হাঁপিয়ে উঠছেন।

এ প্রসঙ্গে জং ন্যানশন বলেন, ‘সার্সের মতো কভিড-১৯ রোগীদেরও সুস্থ হয়ে ওঠার পর ফুসফুসে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকতে পারে। ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে তাঁরা স্বাভাবিক হয়ে উঠবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’ সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা