kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

পোশাক খাতের পাশে বৈশ্বিক অংশীদাররা

এম সায়েম টিপু   

৩ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পোশাক খাতের পাশে বৈশ্বিক অংশীদাররা

বাংলাদেশের পোশাক খাতের দীর্ঘদিনের অংশীদার বৈশ্বিক ক্রেতারা করোনাভাইরাসের এই মহাসংকটের সময় মুখ ফিরিয়ে নেবে না বলে মনে করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলছেন, এরই মধ্যে বৈশ্বিক নামিদামি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িক তাদের পণ্য ক্রয় স্থগিতের কথা বললেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কার্যাদেশ অনুসারে পণ্য নেবে এবং টাকাও দেবে। তবে নিট খাতের সংগঠন বিকেএমইএ জানায়, বিদেশি ক্রেতারা কী পরিমাণ কার্যাদেশ বাতিল বা স্থগিত করেছে এর প্রকৃত পরিসংখ্যান দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। সংগঠনটি মনে করে, যত দুর্যোগই আসুক, অন্ন ও বস্ত্র লাগবে, ক্রেতারাও তাদের পাশে থাকবেন।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ) জানিয়েছে, করোনাভাইরাস-পরবর্তী সংকট মোকাবেলায় পোশাকশিল্পকে সহায়তার জন্য সরকার বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের সহযোগিতা নিতে পারে। এ ছাড়া করোনাভাইরাস-পরবর্তী সংকট মোকাবেলায় আন্তর্বিভাগীয় তৈরি পোশাক সেল গঠন করার পরামর্শও দিয়েছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে বিজিএমইএ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংগঠনটির সদস্য এক হাজার ৮৫টি কারখানার ২৯৬ কোটি ডলারের রপ্তানি স্থগিত হয়েছে। এসব কারখানায় সাড়ে ২১ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মার্ক অ্যান্ড স্পেন্সার, ইন্ডিটেক্স, পিভিএইচ, টার্গেট এবং ফরাসি খুচরা ক্রেতা সংস্থা কিবি জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে উত্পাদিত পণ্যগুলো নেবে এবং অর্থও দেবে। এ ছাড়া এইচঅ্যান্ডএম ও প্রাইমার্ক কাজের প্রস্তাব নিয়ে আবার ফিরে আসছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সিঅ্যান্ডএ আগামী মঙ্গলবার তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানাবে। টম অ্যান্ড টেইলর তাদের কর্মীদের এক দিনের বেতন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের কর্মীদের জন্য দেওয়া কথা জানিয়েছে।’

রুবানা হক বলেন, ‘আমার বিশ্বাস দীর্ঘদিনের অংশীদাররা এই দুর্যোগের সময় আমাদের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে না।’

কী পরিমাণ কাজের আদেশ বাতিল বা স্থগিত হয়েছে এর সঠিক পরিসংখ্যান বলার সময় এখনো হয়নি উল্লেখ করে নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে অধিকাংশ ক্রেতা কাজ চালিয়ে যেতে বলেছে। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের কাজ শেষ হয়েছে। এখন শীতকালীন কাপড় বানাতে হবে। ক্রেতারা এ মুহূর্তে কোনো সিদ্ধান্ত না দিলেও মে মাসে গিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে। আর আমার বিশ্বাস, জুনের পর আবার কাজ শুরু হবে।’ তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি যা-ই হোক, অন্ন এবং বস্ত্র সবার লাগে। আমাদের ক্রেতা দেশের মানুষেরও লাগবে। আর দীর্ঘদিনের কাজের অংশীদার হিসেবে ক্রেতারা আমাদের সঙ্গে থাকবে।’

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মিলে পোশাক কারখানার সংখ্যা চার হাজার। এর মধ্যে বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা তিন হাজার ২০০, বিকেএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা ৮০০। পাঁচ শর বেশি বায়িং হাউস দেশের রপ্তানি আয়ে সহযোগিতা করে। ইপিবির পরিসংখ্যান অনুসারে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিন হাজার ৪১৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়।

ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মার্ক অ্যান্ড স্পেন্সার (এমঅ্যান্ডএস), ইন্ডিটেক্স, পিভিএইচ, টার্গেট এবং ফরাসি খুচরা ক্রেতা সংস্থা কিবি বলেছে যে তারা ইতিমধ্যে উত্পাদিত পণ্যগুলো নেবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এইচঅ্যান্ডএম, এমঅ্যান্ডএস, ইন্ডিটেক্স, পিভিএইচ ও কিবি একটি নজির স্থাপন করেছে। আমরা আশা করি অন্য শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলো তা অনুসরণ করবে।’

বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশন (বিজিবিএ) সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের পরবর্তী সংকট কাটিয়ে উঠতে আগামী ছয় মাস অপেক্ষা করতে হবে। এ সময় দেশের পোশাকশিল্পকে সহায়তার জন্য বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের সহযোগিতা নিতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তা নয়, সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বরাবর চিঠি দিয়ে বলেছি আন্তর্বিভাগীয় তৈরি পোশাক সেল গঠন করার জন্য। বর্তমান বা অদূর ভবিষ্যতে তৈরি পোশাকের ব্যবসা কিভাবে অব্যাহত রাখা যায়, সে কর্মপন্থা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কাস্টমস বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আন্তর্বিভাগীয় তৈরি পোশাক সেল গঠন করা যেতে পারে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা