kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

চালের বাজারে স্বস্তি ফিরবে এ মাসেই

রোকন মাহমুদ   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চালের বাজারে স্বস্তি ফিরবে এ মাসেই

বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে দেশের প্রায় সব জেলায় শুরু হবে বোরো ধানা মাড়াই। সেসব ধান প্রক্রিয়াজাত হয়ে মিলগুলোতে আসতে লাগবে আরো সপ্তাহখানেক। সে হিসাবে আগামী এপ্রিলের চতুর্থ সপ্তাহ থেকেই নতুন চাল বাজারে আসতে শুরু করবে। এর আগে মিল মালিকরা পুরনো সব চাল বিক্রি করার চেষ্টা করবেন। এ সময় সরবরাহব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) স্বাভাবিক থাকলে বাজারে চালের সংকট কেটে যাবে। আর এতে অস্থিরতার অবসান হয়ে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে। মিল মালিক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিশ্লেষকরা এমন আশার কথা জানিয়েছেন।

জানা যায়, দেশের মোট ধান বা চালের বেশির ভাগ পূরণ হয় বোরো মৌসুমের উৎপাদন থেকে, যা আসছে বৈশাখে শুরু হবে। নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন হাওরাঞ্চলের ধানের শীষ এরই মধ্যে ধানে রূপান্তর শুরু হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে বৈশাখের প্রথম সপ্তাহ  থেকেই ধান কৃষকের ঘরে ওঠা শুরু হবে। এবার ভালো ফলনের আশাও করছেন কৃষকরা। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বোরো ধানেরও একই অবস্থা।

কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুসারে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট আউশ, আমন ও বোরো মিলে প্রায় তিন কোটি ৮৭ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার বেশির ভাগই পূরণ করবে বোরো ধান। চলতি বছর প্রায় দুই কোটি চার লাখ ৩৬ হাজার টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা মোট উৎপাদন লক্ষ্যের ৫৩ শতাংশ। এ ছাড়া আমন এক কোটি ৫৩ লাখ ৫৮ হাজার ও আউশ ২৯ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা রয়েছে। গত বছর (২০১৮-১৯) দেশে মোট ধান উৎপাদন হয়েছিল তিন কোটি ৭৩ লখ ৬৩ হাজার মেট্রিক টন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, দেশে দানাদার (চাল-গম) খাদ্যশস্যের বার্ষিক চাহিদা প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন। সে অনুসারে দৈনিক খাদ্যশস্যের চাহিদা প্রায় ৭৪ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ মাসে ২২ লাখ টনের কিছু বেশি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে গত ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশে সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্য মজুদের পরিমাণ ১৭ লাখ ৫১ হাজার টন। এর মধ্যে চাল ১৪ লাখ ২৯ হাজার টন ও গম তিন লাখ ২২ হাজার টন। তবে সরকারি মজুদের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে বেসরকারি পর্যায়ে।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লেবার ক্রাইসিস (শ্রমিক সংকট), ধানের সংকট, পে-অর্ডারের সমস্যা ও পরিবহন সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চালের বাড়তি চাহিদা। ফলে চালের দাম বেড়ে গিয়েছিল। তবে এ দাম বেশি দিন থাকবে না। আসছে বৈশাখের প্রথম সপ্তাহে হাওর ও নিচু অঞ্চলগুলোতে ধান মাড়াই শুরু হয়ে যাবে। উঁচু এলাকায় একটু পরে শুরু হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে বৈশাখের মাঝামাঝিতেই মিলগুলোতে ধান চলে আসবে। এতে দামও কমে আসবে।’ নতুন চাল বাজারে আসার আগেই পুরনো চালও মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, তখন চালের সরবরাহ বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমে আসবে।

ফরহাদ হোসেন আরো বলেন, ‘মৌসুম শুরুর এক মাসের মধ্যে প্রায় সারা দেশের ধান মাড়াই শেষ হয়ে যাবে। এ সময় আমাদের নওগাঁয় মূলত স্বর্ণা, কাটারি, জিরা ইত্যাদি ধানের চাষ হয়।’

সরকারি হিসাবে দেশে এ বছর চাহিদার তুলনায় চাল উদ্বৃত্ত হওয়ায় বাড়তি চালের কিছু অংশ রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার। এ জন্য ১৫ শতাংশ ভর্তুকিও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাম বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার। বাজারে বর্তমানে চালের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। মিনিকেট, নাজিরশাইল ও সমমানের সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া মাঝারি মানের পাইজাম, লতা বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫২ টাকা কেজি। আর মোটা চাল বিআর-২৮, স্বর্ণা, চায়না ইরিসহ অন্যান্য চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। তবে চালের দাম ধাপে ধাপে বেড়ে এ পর্যায়ে এসেছে। গত নভেম্বর মাসেও বাজারে সরু মিনিকেট চালের দাম ছিল ৪৪-৪৫ টাকা কেজি। নভেম্বরের শেষের দিকে তা বেড়ে ৫০ টাকার আশপাশে পৌঁছায়। এরপর আরেক দফা বেড়ে ৫৩-৫৪ টাকা হয়। বাকিটা বাড়ে করোনাভাইরাসের আতঙ্কে বাড়তি কেনাকাটার কারণে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা