kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি

স্বাস্থ্য খাতেই দরকার তিন কোটি ডলার

মেহেদী হাসান ও তৌফিক মারুফ   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বাস্থ্য খাতেই দরকার তিন কোটি ডলার

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবেলায় আগামী ৯ মাসের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রায় তিন কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় আড়াই শ কোটি টাকা) প্রয়োজন বলে বাংলাদেশের এক সরকারি পরিকল্পনায় উঠে এসেছে। ‘ন্যাশনাল প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্ল্যান ফর কভিড-১৯, বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের জন্য জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনা) শীর্ষক ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ১৬ মার্চ প্রণীত ওই সরকারি পরিকল্পনা জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর পরিচালিত ওয়েবসাইটে গত রবিবার প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় অর্থ মন্ত্রণালয় গত মাসে দুই দফায় চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, জনসচেতনতায় প্রকাশনা এবং কেমিক্যাল রি-এজেন্ট খাতে ব্যয়ের জন্য আড়াই শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

মার্চ মাসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রণীত জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনায় ঢাকায় কুর্মিটোলা, কুয়েত মৈত্রী ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ‘আইসোলেশনের’ রোগীদের ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে। এর বাইরে মাঝারি অসুস্থতার কভিড-১৯ রোগীদের প্রাথমিকভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে প্রায় ৫০০ হাসপাতাল প্রস্তুত করার কথাও সেই পরিকল্পনায় উল্লেখ রয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে আইসিইউসহ অন্যান্য সুবিধা জোরদারের কথাও সেখানে বলা হয়েছে।

গত মাসে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনার (পঞ্চম সংস্করণে) ৯ মাসের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুই কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার বাজেট ধরা হয়েছে। সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রশমন—দুটির ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এক কোটি ৪৪ লাখ ১৪ হাজার মার্কিন ডলার এবং প্রশমনের জন্য এক কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার মার্কিন ডলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

‘কন্টাক্ট ট্রেসিং’ বিষয়ে দ্রুত সাড়াদান দলকে প্রশিক্ষণের জন্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার, পিপিই (মাস্ক, গ্লাবস), জীবাণুনাশক (২০ হাজার সেট) কিনতে ১৫ হাজার ডলার, কেস ইনভেস্টিগেশন ও কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের (ছয়টি যানবাহন) জন্য ৬০ হাজার ডলার, গো-ডাটা সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘ইলেকট্রনিক ডাটা ম্যানেজমেন্ট’ প্রতিষ্ঠা ও কার্যকর করতে ৪০ হাজার ডলার চাওয়া হয়েছে।

জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনায় কোয়ারেন্টিন ও ‘আইসোলেশন সাইট’ ব্যয় বাবদ চার লাখ ৫৯ হাজার মার্কিন ডলার, জেলা পর্যায়ে কোয়ারেন্টিন স্থাপনা ব্যবস্থাপনা (এক হাজারটি কেস) বাবদ দুই লাখ ১৫ হাজার ডলার এবং বিভিন্ন পর্যায়ে কোয়ারেন্টিন কাঠামো প্রণয়ন ও নীতিমালা হালনাগাদ করতে ১৫ হাজার ডলার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনায় ঝুঁকি ও করণীয় নির্ধারণের জন্য ছয়টি ধাপ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে এমন একটি পর্যায়ের কথা বলা হয়েছে, যেখানে দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটেনি। দ্বিতীয় ধাপে বিদেশি বা প্রবাসীর মাধ্যমে দেশে সংক্রমণ চিহ্নিত হওয়া, তৃতীয় ধাপে সীমিত মাত্রায় স্থানীয় সংক্রমণ, চতুর্থ ধাপে ব্যাপক মাত্রায় স্থানীয় সংক্রমণ, পঞ্চম ধাপে সংক্রমণের হার কমা এবং ষষ্ঠ ধাপে আরোগ্য লাভ পর্যায় রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সম্পৃক্ততায় জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিদের কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে গঠিত কমিটি জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ করবে।

জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনায় গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা উল্লেখ রয়েছে। এ দেশের পরীক্ষাগারে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত করার সক্ষমতাও রয়েছে। তবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের নিবিড় সম্পৃক্ততা, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের উচ্চ হারে বিদেশে যাতায়াত এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নেটওয়ার্ক, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরের বিষয়টি আমলে নিয়ে অন্য যেকোনো দেশের মতো বাংলাদেশেও বিদেশ থেকে লোকজনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং পরে তা বিস্তার লাভের ঝুঁকির কথা সেখানে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই নানামুখী দূরদর্শী পরিকল্পনা নিতে শুরু করি। আমাদের সেই পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এগিয়ে আসে এবং সহায়তার অঙ্গীকার করে। এর ভিত্তিতেই ৯ মাস মেয়াদি একটি কর্মকৌশল তৈরি করা হয়। এ ক্ষেত্রে দাতা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে আমরা সাড়া পেয়েছি। তবে যে অর্থ ছাড় হচ্ছে তা সরাসরি সবটাই আমাদের হাত দিয়ে খরচ হবে না, বেশির ভাগই দাতারা খরচ করছে। আমরা কাজের দ্রুত অগ্রগতির সুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট দাতা সংস্থাগুলোকে চাহিদা দিই, সে অনুসারে দাতারা আমাদের বিভিন্ন সামগ্রী তাদের ব্যবস্থাপনায় সংগ্রহ ও সরবরাহ করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা