kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

ত্রাণে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



ত্রাণে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা

‘করোনা মোকাবেলায় সব থেকে বেশি প্রয়োজন ছিল সচেতনতা সৃষ্টি করা। সেটা আমরা করতে পেরেছি বলেই তিন মাসের কাছাকাছি হয়ে গেল আমরা পরিস্থিতি যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল এ কথার পাশাপাশি বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের যাবতীয় প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি মানুষের কল্যাণের দিকে তাকিয়ে লোকসমাগম যাতে না হয়, সে জন্য এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা নববর্ষ পালন না করতে দেশবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন। করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণে কোনো রকম দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে এক চুলও ছাড় দেওয়া যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ভাইরাস থেকে সুরক্ষার পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) শুধু চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই ব্যবহার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তার সহযোগিতা পাচ্ছে সেটা অব্যাহত থাকবে। তাদের বাইরেও এই সময়ে যাদের সহযোগিতার প্রয়োজন তাদের সেটা করা হবে। তিনি বলেন, ‘দরকার হলে মোবাইলের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দেব। খাদ্য পৌঁছে দেব। আমাদের কিন্তু অভাব নেই। যথেষ্ট খাদ্য মজুদ আছে। আমরা চাই না দেশের মানুষ কষ্ট পাক।’

গতকাল মঙ্গলবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের মাঠ পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকরা ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমরা অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। তার পরও অনেকে নানা রকম কথা বলছেন। এটা নেই, সেটা নেই। কেন কিছুর আওয়াজ নেই? আমাদের কোনো কিছুর কোনো অভাব নেই। সব ব্যবস্থা কিন্তু নেওয়া হয়েছে। যাঁরা এসব কথা বলেন তাঁরা নিজেরা কিছু জানেন না। তাঁদের গলার স্বর অনেক পরে দেখেছি। আমরা তার  অনেক আগেই ব্যবস্থা নিয়েছি। অনেক উন্নত দেশ যা করতে পারেনি, আল্লাহর রহমতে আমরা কিন্তু তা করতে পেরেছি। আমরা এটা (করোনাভাইরাস) নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। এটা হয়তো আরো কিছুদিন আমাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।’

দেশাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ এলে তা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করতে হবে। সে জন্য সবাইকে সেভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এতে ভীত হওয়ার কিছু নেই। মনের জোর থাকতে হবে। অনেক দুর্যোগ আমরা মোকাবেলা করেছি। ইনশাআল্লাহ এই দুর্যোগ মোকাবেলা করে যাচ্ছি এবং করে যাব। আমরা বিজয়ী জাতি। মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। এখানেও আমরা বিজয় অর্জন করব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘অনেক উন্নত দেশে দেখছি অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে। রোগ সংক্রমিত হচ্ছে। সব মেরুকরণ ভেঙে যাচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে ভূখণ্ডের দিক থেকে আমরা ছোট। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশাল। এ অবস্থার মধ্যে থেকেও আমরা যথেষ্ট সচেতনতা সৃষ্টি করতে পেরেছি। এ জন্য যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সবাই নিজেদের জায়গায় থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই এটা আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এখানে আরেকটা বড় সমস্যা হচ্ছে, নানা ধরনের গুজব রটে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি বলেই আজকে এভাবে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু এই সুযোগ নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়ে থাকে। দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ বলে থাকেন।’

যারা এ ধরনের গুজব রটায়, মিথ্যা প্রচারণা চালায়, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। গুজব নিয়ে কেউ বিচলিত হবেন না। এটা সবার প্রতি আমার অনুরোধ। আমরা ডিজিটালের সুবিধাগুলো নেব, অসুবিধাগুলো পরিহার করব।’

নববর্ষের অনুষ্ঠান করবেন না

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে আমাদের বাংলা নববর্ষ। এই নববর্ষ আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন করে থাকি। লোকসমাগম যাতে না হয়, সে জন্য আমরা সব অনুষ্ঠানই বাদ দিয়েছি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সবাই উৎসব করতে পারেন। বিশাল জনসমাগম করে এই অনুষ্ঠান সারা বাংলাদেশে যেন না হয়, তা মনে রাখতে হবে। এটাও ঠিক, কষ্ট আমার নিজেরও লাগছে। নববর্ষের অনুষ্ঠান অনেক মজার। এটাও আমাকে বন্ধ রাখতে হচ্ছে মানুষের কল্যাণের দিকে তাকিয়ে। এটা আমার অনুরোধ—এবার নববর্ষের অনুষ্ঠান করবেন না।’

নিজের সুরক্ষা নিজেকে নিতে হবে

করোনা মহামারির মধ্যে ব্যক্তিগত সুরক্ষার দিকে গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজের সুরক্ষা নিজেকে নিতে হবে। কেউ এটা দিয়ে যাবে না। নিজের ভালোটা নিজেকেই বুঝতে হবে। এটা কেউ না বুঝলে তার নিজেরই ক্ষতি হবে। পরিবারের ক্ষতি হবে, প্রতিবেশীর ক্ষতি হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে করোনা সুরক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে মানুষের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করেছি। এসব বন্দরে স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। কারো রোগ আছে কি না তা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। এ ছাড়া তাদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছি।’

সংক্রমিত হলে লুকোচুরি নয়

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে লুকোচুরি না করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চিকিৎসা ও পরীক্ষার ব্যবস্থা এখন ঢাকা শহরের মধ্যে নয়, বিভাগীয় শহরেও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাজেই কেউ সংক্রমিত হলে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। এখানে কোনো লুকোচুরির ব্যাপার নয়। লুকোচুরি করতে গেলে নিজেই নিজের ক্ষতি করবেন।’

প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। প্রশাসনের সবাইকে বলব একসঙ্গে কাজ করতে। প্রত্যেক এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের একটা প্রভাব থাকে। তাদের সঙ্গে নিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, সে জন্য সাধারণ কার্যক্রম আমাদের অব্যাহত থাকবে। কেউ যেন সুযোগ নিতে না পারে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।’

দুঃসময়ের সুযোগে দুর্নীতি বরদাশত করব না

বিত্তশালীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে অনেকে এগিয়ে এসেছেন। অনেকে নিজেরা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। তবে এটাও দেখতে হবে, একজনই যেন বারবার না পায়। কেউ যেন বাদ না পড়ে। এ জন্য যথাযথ তালিকা হওয়া উচিত। ওয়ার্ড পর্যন্ত তালিকা করে সে অনুযায়ী যেন সহযোগিতা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। বিত্তশালীদেরও এই বিষয়টি দেখতে হবে। প্রশাসন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্তব্য হিসেবে এটা নিতে হবে।’

ত্রাণ বিতরণে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই জায়গাতে যেন কোনো রকম দুর্নীতি-অনিয়ম না হয়। মানুষের দুঃসময়ের সুযোগ নিয়ে কেউ অর্থশালী-সম্পদশালী হয়ে যাবে সেটা কিন্তু কখনো বরদাশত করব না। আমি সতর্ক করে দিতে চাই, এ ধরনের কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ যদি পাই, সে যে-ই হোক না কেন আমি কিন্তু তাকে ছাড়ব না।’

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয়

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন স্থবির না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। একটা বিষয় কিন্তু দেখতে হবে, সারা বিশ্ব কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে স্থবির হয়ে গেছে। সামনে বিরাট একটা অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে। মন্দা মোকাবেলার চিন্তাভাবনা এখনই আমাদের করতে হবে। পরিকল্পনা নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখানে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো খাদ্য নিরাপত্তা। এ ক্ষেত্রে একটা সুবিধা হলো আমাদের দেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। আমাদের মানুষ আছে। এখানে কৃষিমন্ত্রী (ড. রাজ্জাক) আছেন, তাঁর দিকে দৃষ্টি দেব খাদ্য উৎপাদন যেন অব্যাহত থাকে। সবাইকে নজর রাখতে হবে। দ্রব্যমূল্য যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে। মানুষের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে অযথা দাম বাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি অমানবিক। ব্যবসায়ীদের বলব, এটা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন।’

এমন পরিস্থিতি আর কখনো দেখিনি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যে পরিস্থিতিটা সৃষ্টি হয়েছে সেটা কেবল বাংলাদেশে নয়, সমগ্র পৃথিবীজুড়ে এই সমস্যাটা হয়েছে। এখানে ধনী-দরিদ্র, দুর্বল-শক্তিশালী, উন্নত-অনুন্নত কেউই বাদ যায়নি। সবাই এই পরিস্থিতির শিকার। কেউই বাদ যায়নি। এ রকম পরিস্থিতি বোধ হয় আমরা জাতীয় জীবনে আর কখনো দেখিনি। অতীতের ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে শত বছরে একবার করে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ রকম একটা ধাক্কা আসে।’

দেশের মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জীবন পড়ে থাকবে না, চলবে। সেদিকে লক্ষ রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। তবে এই সুরক্ষায় রাখতে গিয়ে মানুষকে কষ্ট দেওয়াটা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। করোনা থেকে জনগণকে সুরক্ষার জন্য জনকল্যাণে নির্দেশনা পালন করতে হবে। সবাইকে যার যার জায়গায় থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হতে পারে

সরকার ঘোষিত চলমান সাধারণ ছুটি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সাধারণ ছুটি দিয়েছিলাম। হয়তো আরো কয়েক দিন ছুটি বাড়ানো হতে পারে। কারণ অনেকে গ্রামে চলে গেছেন। সেখানে যাতে কোনোভাবে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা না দেয়, সেই সময়টা হিসাব করেই ছুটি বাড়ানো হবে। আমরা ১০-১২ দিনের ছুটি দিয়েছিলাম, এটা ১৪ দিন হতে পারে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ছুটি ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ছুটি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সীমিত আকারে যোগাযোগ ব্যবস্থাটাও চালু করতে হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে এটা আমরা করব তা চিন্তাভাবনা করে বলব। যোগাযোগের ক্ষেত্রে শ্রমিক শ্রেণি যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের বিষয়টি আমাদের চিন্তা করতে হবে।’

সবার পিপিই ব্যবহার দরকার নেই

সবার পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) ব্যবহারের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিপিই ডাক্তার, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য।’ তিনি বলেন, পিপিই সকলের ব্যবহারের জন্য নয়। এটি ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য। পিপিই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সবাই পিপিই ব্যবহার করতে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা যেন ব্যাহত না হয়।

মশারা সংগীতচর্চা করছে

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রকে উদ্দেশ করে সব জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করার নির্দেশ দেন। রাজধানীতে মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মশার গান আমি শুনতে চাই না। মশা মারতে হবে। ভিডিও কনফারেন্সে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও দুই সিটি করপোরেশন মেয়রসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাল রাতে যখন ঘুমাতে গেলাম তখন দেখলাম মশারা সংগীতচর্চা করছে। মশার গান শুনলাম। মশা গুন গুন করে কানের কাছে গান গাচ্ছিল। অর্থাৎ মশার প্রাদুর্ভাব কিন্তু আস্তে আস্তে শুরু হবে। তারপর আসবে ডেঙ্গু। তো এই ব্যাপারে কিন্তু এখন থেকে আমাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সে সচিবালয় প্রান্ত থেকে যুক্ত হন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিবরা সচিবালয়ের প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম, ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ এবং পিএমও সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন অন্যদের মধ্যে গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা