kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা মোকাবেলায় জরুরি প্রস্তুতি

বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩২০৭ কোটি টাকা

জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা ও প্রস্তুতির জন্য প্রথম দফায় ৩০ কোটি ডলারের তহবিল চাওয়া হয়েছে

মেহেদী হাসান   

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩২০৭ কোটি টাকা

বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মোকাবেলার পর্যাপ্ত প্রস্তুতির জন্য প্রায় ৩৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় তিন হাজার ২০৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা) প্রয়োজন। বাংলাদেশে জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা নথিতে এ কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর নাগরিক সমাজের বেশ কিছু অংশীদার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ওই পরিকল্পনা নথি তৈরি করেছে। ওই নথিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, অতি দ্রুত কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ঢাকায় জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্র গত শনিবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা নথি প্রণয়নের কথা জানিয়েছিল। সেই নথির অনুলিপি দেওয়ার অনুরোধ এবং নথির অংশবিশেষের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যোগাযোগ ও গণমাধ্যম সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তা ক্যাটালিন বেরকারু কালের কণ্ঠকে জানান,

জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা জাতিসংঘের একটি পরিকল্পনা নথি। এটি সব অংশীদারের অনুমোদন করার পর্যায়ে আছে। এ কারণে ওই নথি এখনো উন্মুক্ত নয় এবং এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়াও সম্ভব নয়। সব অংশীদারের অনুমোদন শেষে নথিটি উন্মুক্ত করা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা নথিতে দ্রুত ও যত বেশিসংখ্যক সম্ভব চিকিৎসা উপকরণ কেনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘সম্ভাব্য করোনা মহামারি সামনে রেখে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা ও প্রস্তুতির জন্য প্রথম দফায় ৩০ কোটি ডলারের তহবিল চাওয়া হয়েছে। মহামারিতে বিশ্বের এত বেশি দেশ আক্রান্ত যে ধরে নেওয়া যায়, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা পূরণ করতে পারবে না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রথম দফায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল চাওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, দাতাগোষ্ঠী, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী মহলের কাছে।

অবিলম্বে প্রয়োজন হিসেবে জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা নথিতে নজরদারি ও পরীক্ষাগার সহায়তা, সংক্রমণ শনাক্তকরণ ও দেশে প্রবেশদ্বারগুলোতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) প্রস্তুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা নথিতে দেশে করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে ল্যাবরেটরি স্টাফদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর সব পরীক্ষাগার সচল করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় জটিল ও গুরুতর করোনা রোগীর জন্য আইসিইউ প্রস্তুত রাখার প্রয়োজনীয়তারও উল্লেখ রয়েছে ওই পরিকল্পনা নথিতে।

করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবেলায় তথ্য প্রদান ও প্রচারণার জন্য মসজিদের ইমামদের কাজে লাগাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে করোনা সম্পর্কিত তথ্য প্রদানের পরিকল্পনা প্রণয়ন, জাতীয় হটলাইন চালু, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা এবং মাইকে প্রচারণা চালানোর কথাও বলা হয়েছে পরিকল্পনা নথিতে।

করোনা সংক্রমণ পরীক্ষার লক্ষ্যে নমুনা সংগ্রহের জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে প্রথম মাসে ৪০ লাখ মার্কিন ডলার এবং পরবর্তী দুই মাসের জন্য দুই কোটি পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে বলে জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনা নথিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জরুরি ভিত্তিতে কিনতে হবে ‘পারসোনাল প্রটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)’, সার্জিক্যাল মাস্ক, এন৯৫ মাস্ক, চোখের সুরক্ষার উপকরণ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জীবাণু নিরোধক। স্থানীয় ও বৈশ্বিক মজুদের দিক বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার জন্য অবিলম্বে জরুরি সামগ্রী কেনার ওপর জাতীয় প্রস্তুতি ও সাড়া প্রদান পরিকল্পনায় জোর দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা