kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা পরীক্ষা ৫ মিনিটেই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা পরীক্ষা ৫ মিনিটেই

শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কিছু লক্ষণ দেখেই পড়িমরি করে ছুটলেন পরীক্ষাকেন্দ্রে, নিজের শরীরের নমুনাও দিলেন পরীক্ষার জন্য, কিন্তু তারপর এক রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা। কী হয়, কী হয় ভাব, কম করে দুই দিন লাগছে করোনা সংক্রমণ হয়েছে কি না তা জানতে। কিন্তু এবার সেই প্রতীক্ষার দিন শেষ হতে চলেছে। কেননা মার্কিন সংস্থা অ্যাবট ল্যাবরেটরিজ দাবি করেছে, তাদের অত্যাধুনিক পরীক্ষায় মাত্র ৫ মিনিটেই জানা যাবে কোনো ব্যক্তির শরীরে ওই মারণরোগ (কভিড-১৯) বাসা বেঁধেছে কি না। আর খুব অল্প সময়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা গেলে বেশ কিছুটা দমানো যাবে রাক্ষুসে রোগটির দাপট। অ্যাবটের দাবি অনুযায়ী, ছোট টোস্টারের আকারের এই নতুন যন্ত্রটি মলিকিউলার টেকনোলজির সাহায্যে কাজ করবে। কোনো ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে তা জানা যাবে ৫ মিনিটে। পাশাপাশি যন্ত্রটি আকারে ছোট হওয়ায় সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে।

অ্যাবট ল্যাব এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ (এফডিএ) করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে সক্ষম যন্ত্রটি জরুরি ক্ষেত্রে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। এই যন্ত্রটি কোনো ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত কি না তা ৫ মিনিটেই জানিয়ে দেবে। আবার কারো দেহে সংক্রমণের আশঙ্কা না থাকলেও তা মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যেই জানিয়ে দিতে সক্ষম ওই যন্ত্রটি। এই যন্ত্রটি এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এবং বি, স্ট্রিপ এ এবং আরএসভি পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে খবর।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস এবং এই রোগের সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করতে দিন-রাত এক করে খেটে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি ভাইরাসটি চিহ্নিত করার জন্য পরীক্ষা-কিটও তৈরির চেষ্টা চলছে। বর্তমানে একজন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না তা জানতে কম করে দুই দিন বা তারও বেশি সময় লাগছে।

এর আগে জার্মানির রবার্ট বোশ জিএমবিএইচ সংস্থা দাবি করে যে তারা আড়াই ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কোনো ব্যক্তি কভিড-১৯-এ আক্রান্ত কি না তা নির্ণয় করতে সক্ষম। বোশের দাবি অনুযায়ী, এই নতুন পরীক্ষার জন্য তারা নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের তৈরি ভিভালিটিক মলিকুলার ডায়াগনস্টিক্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। ওই ডিভাইসটি এরই মধ্যে হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি এবং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ছড়ানো ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়াসহ বেশ কয়েক ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাল রোগ শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এই যন্ত্রটি আগামী এপ্রিল মাস থেকে জার্মানিতে পাওয়া যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও এটি বিক্রি হবে।

এক বিবৃতিতে বোশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভলকমার ডেনার বলেছেন, ‘এই যন্ত্রের সাহায্যে সংক্রমিত রোগীদের অনেক দ্রুত চিহ্নিত করা যায় এবং আলাদা করা যায়।’ এই পরীক্ষার সহ অংশীদার উত্তরাঞ্চলীয় আইরিশ মেডিক্যাল সরঞ্জাম নির্মাতা র‌্যান্ডক্স ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডও।

কভিড-১৯কে আগে আগে শনাক্ত করতে পারলেই একে অনেকটাই রুখে দেওয়া যাবে। জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে এই পরীক্ষা পদ্ধতি ভালো হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ওই দুটি দেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা অনেক কম। এদিকে ঠিকমতো পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করতে না পারায় এখন লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিতে। সূত্র : এনডিটিভি, এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা