kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিফোনে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা

আক্রান্তের শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্বে আক্রান্ত পৌনে ছয় লাখ ইতালিতে এক দিনেই মৃত্যু ৯১৯

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আক্রান্তের শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র

বিজ্ঞান, টাকা-পয়সা, চিকিৎসা সরঞ্জাম কিংবা সামরিক সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহারেও নতুন করোনাভাইরাসের লাগাম টানতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। করোনাভাইরাস ডিজিজ-২০১৯ (কভিড)-এ আক্রান্তের তালিকায় চীন ও ইতালিকে টপকে এরই মধ্যে সবার ওপরে উঠে গেছে দেশটি। এ ছাড়া করোনার প্রভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটিতে বেকারত্বের সংখ্যাও বাড়ছে নজিরবিহীন গতিতে। ভালো নেই ইউরোপও। বৃহস্পতিবার একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের। মৃতের সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়েছে ইতালিতে। তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে স্পেনে।

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি যাচ্ছে ইরানে। চীনে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল। পাশের দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোতে সংখ্যায় বাড়লেও আক্রান্তের হার খুব একটা বাড়েনি।

সব মিলিয়ে গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ ও অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ লাখ। মারা গেছে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ।

সব দেশ ছাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

গত ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে কভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১০০ জন। একই দিন চীনে এই সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার ১৫১ জন। ২৫ দিন পর গতকাল চীনে এই সংখ্যা এক হাজার ১৮৯ জন বেড়ে হয়েছে ৮১ হাজার ৩৪০ জন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৩২৯ জনে (বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত)। আক্রান্তের সংখ্যায় ইতালিকেও (৮৬ হাজার ৪৯৮ জন) ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৩৮৪ জনের।

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার যুক্তি হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘বেশি বেশি মানুষের নমুনা পরীক্ষা করার কারণেই আক্রান্তের সংখ্যা এত বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘নিজেদের অর্থনীতি, বিজ্ঞান, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং সামরিক সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আমরা এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছি।’

করোনাভাইরাস মোকাবেলা বিষয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনাও করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ভাইরাসটি সম্পর্কে এরই মধ্যে চীনের ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। চিনপিংয়ের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো অঙ্গরাজ্যই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নিউ ইয়র্কে (৪৪,৬৩৫)। এর পরেই আছে যথাক্রমে নিউ জার্সি (৬৮৭৬), ক্যালিফোর্নিয়া (৪২০১) ও ওয়াশিংটন (৩২০৭)।

করোনাভাইরাসের কারণে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বও বেড়েছে নজিরবিহীন হারে। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ লাখ মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে কখনো এত আবেদন জমা পড়েনি। আরো শোচনীয় পরিস্থিতির আভাস দিয়েছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল দে ব্লাসিও। তিনি বলেছেন, ‘এটা কেবল শুরু। এই সংখ্যাটা (৩৩ লাখ) প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়বে।’

ইউরোপ পরিস্থিতি : আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও মৃতের সংখ্যায় ইতালির পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সর্বোচ্চ মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্পেনের চেয়ে ইতালির সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। ইতালিতে গতকাল শুক্রবার এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে, ৯১৯ জন। এ নিয়ে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে ৯ হাজার ১৩৪ জনের মৃত্যু হলো। ইতালির পর ইউরোপে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে আছে স্পেন। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৬৪ হাজার ৫৯ এবং চার হাজার ৯৩৪। গত বৃহস্পতিবার এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ঘটেছে ফ্রান্সে; ৩৬৫ জন। তাদের মধ্যে ১৬ বছরের এক তরুণীও রয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে এক হাজার ৬৯৬ জনের মৃত্যু হলো। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ১৫৫ জনে। জার্মানিতে মৃত্যুর সংখ্যা (৩০৪) তুলনামূলক কম হলেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৩৪৪ জনে। গতকাল শুক্রবার এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাজ্যেও; ১৮১ জন। এ নিয়ে দেশটিতে ৭৫৯ জনের মৃত্যু হলো। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৪৩ জনে। অন্যদিকে করোনা প্রতিরোধে এক সপ্তাহের জন্য রাশিয়ার সব রেস্তোরাঁ এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০৩৬ জন। মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।

এশিয়ার চিত্র : চীনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৫৫ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৪ জনই বাইরের দেশ থেকে আসা। একজন স্থানীয় কারো মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছে। পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৬৭ জনের মধ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছিল; যাদের সবাই বিদেশ থেকে আসা। এ অবস্থায় গতকাল থেকে আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে চীন সরকার। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইরানের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই। গতকাল দেশটিতে ১৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ৯২৬ জন। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল যথাক্রমে ৩২ হাজার ৩৩২ এবং দুই হাজার ৩৭৮ জনে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন ৯১ জনসহ আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৩২ জনে। মৃত্যু হয়েছে ১৩৯ জনের। মালয়েশিয়ায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে দুই হাজার ১৬১ এবং ২৬। পাশের দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭৮ জনে। মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। পাকিস্তানে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে এক হাজার ২৫২ এবং ৯।

সার্বিক পরিস্থিতি : বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৯টি দেশ ও অঞ্চল কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৭৪ হাজার ৯৭৭ জনে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৩ হাজার ১৬৭ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৬ হাজার ৩৬৯ জনের। সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৯৬৫ জন। এ ছাড়া বিশ্বের প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে কভিডে আক্রান্ত হয়েছে গড়ে ৭৩ দশমিক ৮ জন। আর প্রতি ১০ লাখে মৃত্যু হয়েছে গড়ে ৩ দশমিক ৪ জনের। অন্যদিকে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মৃত্যুর হার ৪.৫৮ শতাংশ।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা