kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

২৪ ঘণ্টায় ১০৬ জনের করোনা পরীক্ষা শনাক্ত চারজন

► মোট পরীক্ষা ১০২৬, আক্রান্ত ৪৮, মৃত্যু ৫, সুস্থ ১১, হাসপাতালে ৩২ জন
► নতুন শনাক্তদের মধ্যে দুজন চিকিৎসক
► সীমিত কমিউনিটি ট্রান্সমিশন, প্রথম উৎস বের করার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



২৪ ঘণ্টায় ১০৬ জনের করোনা পরীক্ষা শনাক্ত চারজন

দেশে নতুন করে আরো চারজনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট এক হাজার ২৬ জনের কভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে সব শেষ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা হয়েছে ১০৬ জনের। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৪৮ জন কভিড-১৯ পজিটিভ রোগী পাওয়া গেছে। সরকারের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত মুখপাত্র ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। নতুন শনাক্ত চারজনের মধ্যে দুজন চিকিৎসক।

ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশে কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১১ জন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩২ জন। আইসোলেশনে আছেন ৪৭ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৬২ জন। হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ২৯ হাজার ৬৭৭ জন। অন্যদিকে সব শেষ ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব নম্বরে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জানার জন্য ফোন কল আসে ৮২ হাজার ৫৪৪টি। আর সব শেষ ২৪ ঘণ্টায় বিদেশ থেকে বিভিন্ন বন্দর হয়ে দেশে প্রবেশ করেছেন ৪৪৬ জন।

ব্রিফিংয়ে তিনি আরো জানান, আইইডিসিআর ছাড়াও  আরো তিনটি প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু করেছে। এগুলো হচ্ছে—ঢাকার মহাখালীর জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ।

ব্রিফিংয়ে ড. ফ্লোরা বলেন, ‘আমরা আগে বলেছি, সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলে আমাদের মনে হয়। এ ছাড়া নতুন আক্রান্ত হওয়া চারজনের মধ্যে একজন এর আগে চিহ্নিত হওয়া একটি ক্লাস্টারের মাধ্যমে আক্রান্ত হন। তবে প্রথম কার মাধ্যমে বা কোন সূত্রে এটা হয়েছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। বাকি আক্রান্ত তিনজন আগে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের সংস্পর্শে ছিলেন। যখনই কোথাও কোনো রোগী আমরা শণাক্ত করি, তত্ক্ষণাৎ সেই রোগীর সংস্পর্শে যাঁরা আসেন, তাঁদের লিস্ট করি এবং তাঁদের প্রত্যেককে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করি।’

এদিকে কালের কণ্ঠ’র চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে এক কিশোরকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। মানিগঞ্জের এই তরুণ ঢাকার সদরঘাট এলাকায় বোতলজাত পানি বিক্রি করত। জ্বর ও কাশি নিয়ে সে চাঁদপুর শহরের রাস্তায় ঘুরছিল। ওই কিশোরকে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক ও নার্সদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা জানান, কুমিল্লায় দুবাইফেরত ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ থাকায় তাঁকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর শরীরের নমুনা সংগ্রহের জন্য আইইডিসিআরকে জানানো হয়েছে সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। ছয় দিন আগে ওই ব্যক্তি দুবাই থেকে উলুরচর  (মোহাম্মদপুর) এলাকায় এসেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আশরাফুর রহমান।

হিলি ও বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, গত বৃহস্পতিবার ভারত থেকে হিলি ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় সাত বাংলাদেশিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁদের রাখা হয়েছে। কোয়ারেন্টিনে রাখা সাত ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ নেই বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুস সাইদ। অন্যদিকে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে আট বছরের এক শিশু এবং বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক সহকারীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। আইসোলেশনে থাকা দুইজনের শরীরের নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দুইজনের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জানান, ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২০০ ব্যক্তিকে মুক্ত করা হয়েছে। তবে এখনো জেলার ৮৯০ জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী। এ পর্যন্ত জেলায় কেউ করানাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোর জেলার এক হাজার ৬০৮ জন প্রবাসীর মধ্যে ৩৯৮ জন হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। একজনের নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে এবং এই জেলার ১৫৭ জনের কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী জানান, রাজশাহী জেলা এবং শহরে মোট দুই হাজার ১৯ জন বিদেশ থেকে এসেছেন। তাঁদের অনেকের ঠিকানা পাওয়া যায়নি। করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করার ব্যবস্থা নেই রাজশাহীতে।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জের ১২২ জন বিদেশফেরত ব্যক্তির মধ্যে ৬০ জনের ঠিকানা শনাক্ত করেছে পুলিশ। অন্যদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ছয়জনের নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, আইসোলেশনে থাকা চার ব্যক্তির নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার পর তাঁদের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েনি। এখন তাঁরা মুক্ত বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, জেলার ৯৭২ জন বিদেশফেরতের মধ্যে ৮০৮ জনের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছে পুলিশ। করোনা আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হয়নি এই জেলায়।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, ২৩৭ জন বিদেশফেরতকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। করোনার লক্ষণ না থাকায় ১৩ জনকে মুক্ত করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, এক হাজার ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে থাকলেও কাউকে এখনো আইসোলেশনে নেওয়া হয়নি। গতকাল শুক্রবার ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ হয়েছে ৪১৩ জনের।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে। এরপর আজিজিয়া প্লাজা নামে ভবনটি লকডাউন করে দিয়েছে প্রশাসন। পুলিশ ভবনটি ঘিরে রেখেছে বলে জানিয়েছেন বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশিদ।

রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ১৫১ জন বিদেশফেরতের মধ্যে ৪১ জনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। জেলাটির কেউ এখনো করোনায় আক্রান্ত হননি।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, জেলার ৮৩৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়েছিল। এঁদের মধ্যে ৬৩৫ জনের কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জান।

ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলায় এক হাজার ৪৫৮ জন বিদেশফেরতের মধ্যে কোয়ারেন্টিনে ছিলেন ৩৮৯ জন। এর মধ্যে ১৪৯ জনকে কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলার সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, জেলায় মোট ২৩২ জন কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এর মধ্যে ৯০ জনের কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মণ।

বরিশাল অফিস জানায়, করোনা সন্দেহে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সাত ব্যক্তির কারো পরীক্ষা করা হয়নি। বিদেশ থেকে জেলাটিতে আসা চার হাজার ৯৮৭ জনের মধ্যে অর্ধেক মানুষের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, গত ৫ মার্চ থেকে জেলায় বিদেশ থেকে ফিরেছেন ৮২৬ জন। এর মধ্যে ৪৬৬ জনকে কোয়ারেন্টিনে আনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে পরীক্ষার পর একজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ জানান, আড়াইহাজারে বিদেশফেরত ব্যক্তির মধ্যে ৮০০ জনের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে প্রশাসনের। কারো নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়নি। কোয়ারেন্টিন শেষে ৪৪১ জন প্রবাসী বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউল আলম।

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, আইসোলেশনে থাকা ইতালিপ্রবাসীর পরিবারের পাঁচ সদস্যকে মুক্ত করা হয়েছে। নতুন করে কেউ সংক্রমিত না হলেও ঢাকা থেকে যাওয়াদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে প্রশাসনের। শিবচরের একটি হাট বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে খাবার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে দরিদ্র পরিবারের মাঝে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা