kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

সবার মানসিক সুরক্ষায় নজর রাখতে হবে

ডা. মো. গোলাম রব্বানী

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সবার মানসিক সুরক্ষায় নজর রাখতে হবে

কভিড-১৯ আক্রান্ত এবং এ কারণে মৃত্যু বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের এক মানসিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। মানুষ প্রতি মুহূর্তে সময় কাটাচ্ছে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে। কোনোভাবেই মিলছে না মানসিক স্বস্তি, নিশ্চিত সুরক্ষা। ফলে বর্তমানে সব বয়সের মানুষের জন্য খুবই জরুরি মানসিক সুরক্ষা।

ঘরে থাকা অবস্থায় পরিবারের সদস্যরাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে একে অন্যকে সতেজ ও স্বতঃস্ফূর্ত রাখতে পারে। এই দুঃসময়ে অযথাই অনেকের মনে হতে পারে, তার শরীরে করোনাভাইরাস রয়েছে। আবার কিছু উপসর্গ দেখা দিলে ভয়ে অস্থির হয়ে উঠতে পারে। কী করবে না করবে, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে।

এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং তাঁদের মধ্যে মানসিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে খুবই কার্যকর উপায় হতে পারে ওই ব্যক্তিকে আশ্বস্ত করা এবং তার মধ্যে সাহস সঞ্চার করা। আবার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এ মুহূর্তে মানুষের মধ্যে আশাজাগানিয়া ভূমিকা পালন করতে পারেন।

যারা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে, সেই বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মানসিক সুরক্ষা হবে এক ধরনের, শিশুদের মানসিক সুরক্ষা হবে তাদের উপযোগী করে। আবার অন্য সব বয়সের মানুষের সুরক্ষা হবে ভিন্ন উপায়ে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয় রাখলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাফল্য দ্রুত আসবে।

যেকোনো মহামারির সময় মানুষকে তিন ভাগে ভাগ করে ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হয়। এবারও ঠিক তা-ই হচ্ছে। প্রথমত যারা আক্রান্ত হয়েছে, দ্বিতীয়ত যারা আক্রান্তদের চিকিৎসা বা সেবায় নিয়োজিত এবং তৃতীয় হচ্ছে অন্য সব মানুষ, যারা ঝুঁকিতে থাকে। যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের মধ্যে যে উদ্বেগ বা উত্কণ্ঠা কাজ করে সেটা অন্যদের চেয়ে আলাদা। আবার যারা সেবা দেয় তাদের উদ্বেগও ভিন্ন। অন্য সবার থাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিজনিত উদ্বেগ। অর্থাৎ সবার মধ্যেই রয়েছে কোনো না কোনো মানসিক ভীতি, অস্থিরতা, অস্বস্তি। এককথায় এমন পরিস্থিতিতে সবাই মানসিক ট্রমার ভেতর দিয়ে যায়। এ ট্রমা দীর্ঘমেয়াদি হলে মানসিক অসুস্থতায় রূপ নিতে পারে। এ ছাড়া এ ধরনের মহামারি মোকাবেলাও নানাভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। এ জন্য আক্রান্তদের যেমন কাউন্সেলিং দরকার, তেমনি তাদের সেবা যাঁরা দেবেন, সেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মনেও সাহস-শক্তি জোগাতে হবে। এ জন্য তাঁদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা উপকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। আবার তাঁদের মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ করার কিছু ব্যবস্থাও রাখতে হবে।

কভিড-১৯-এর প্রভাবে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে একটি গাইডলাইন তৈরি হয়েছে, যেটা অনুসরণে সব দেশ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

লেখক : মানসিক স্বাস্থ্যের অধ্যাপক, ন্যাশনাল নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিজেবিলিটি সেফটি ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান চেয়ারপারসন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা