kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ

আশা জাগাচ্ছে ‘প্লাজমা থেরাপি’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আশা জাগাচ্ছে ‘প্লাজমা থেরাপি’

ছবি: ইন্টারনেট

করোনাভাইরাস ডিজিস-২০১৯ (কভিড-১৯)-এ আক্রান্তদের চিকিৎসায় ‘নতুন’ এক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘ব্লাড-প্লাজমা থেরাপি’ হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে আক্রান্ত ব্যক্তি সেরে ওঠার পর তাঁর শরীর থেকে রক্তের প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই প্লাজমা ব্যবহার করা হয় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে। এরই মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে এই পদ্ধতিতে সাফল্যও মিলেছে।

চিকিৎসাশাস্ত্রে এই পদ্ধতি একেবারে নতুন নয়। অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের আগে এ পদ্ধতিতে অনেক রোগের চিকিৎসা করা হত। সময়ের নিরিখে আবার সেই পদ্ধতিতেই ভরসা রাখতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে নিউ ইয়র্কে। গতকাল থেকেই সেরে ওঠা ব্যক্তির রক্তের প্লাজমা সংগ্রহ শুরু করেছে ‘নিউ ইয়র্ক ব্লাড সেন্টার’। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ড. ব্রুস সাচাইস জানান, ‘আমরা এই চিকিৎসা পদ্ধতির নাম দিয়েছি ‘কনভালেসসেন্ট প্লাজমা’। সাধারণত কোনো রোগ থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠা ব্যক্তিদের ‘কনভালেসসেন্ট’ বলা হয়। ড. ব্রুস বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে আমরা প্লাজমা সংগ্রহ করে প্রথমে এমন ব্যক্তিদের দেব, যারা কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।’ তিনি জানান, এই প্লাজমাকে অ্যান্টিবডিও বলা যেতে পারে। কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে এক ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সেই অ্যান্টিবডি ব্যক্তিকে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। এই অ্যান্টিবডি থাকে প্লাজমায়।

যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ অধিদপ্তর (এফডিএ) গত মঙ্গলবার এই চিকিৎসা পদ্ধতির অনুমোদনও দিয়েছে। তবে প্রতিটি হাসপাতালকে এ জন্য এফডিএর কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।

নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো গত সোমবার জানান, তাঁর অঙ্গরাজ্যের চিকিৎসা কর্মকর্তারা এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে দিয়েছেন।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মার্কেট ওয়াচ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতাল এরই মধ্যে সেরে ওঠা ব্যক্তিদের প্লাজমা সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এ ছাড়া ‘উপযুক্ত’ দাতা খোঁজার কাজও করছে অনেক হাসপাতাল।

এফডিএর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক। তবে গবেষণা বলছে, সেরে ওঠা ব্যক্তির রক্তের প্লাজমা ব্যবহারের এই পদ্ধতি সব ভাইরাসের ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার হাতে গোনা কয়েকটি খবর পাওয়া গেছে। ফলে এই পদ্ধতি যেন শরীরে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেদিকেও সবাইকে মনোযোগ দিতে হবে।’ সূত্র : মার্কেট ওয়াচ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা