kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনাভাইরাসের প্রভাব

‘সোনার হরিণ’ ধরা পিছিয়ে গেল

► স্থগিত হয়ে গেছে সব নিয়োগপ্রক্রিয়া
► দুশ্চিন্তায় হাজারো শিক্ষার্থী
► চিন্তার কারণ নেই : পিএসসি

আরিফুর রহমান   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘সোনার হরিণ’ ধরা পিছিয়ে গেল

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান আহসান হাবিব তিতুমীর কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে একটি চাকরির জন্য দুই বছর ধরে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিয়ে এলেও চাকরি নামের সোনার হরিণটা এখনো ধরা দেয়নি। গত ১৬ মার্চ এক্সিম ব্যাংকের ফল প্রকাশের কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণ দেখিয়ে ফল প্রকাশ স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরীক্ষার ফলও প্রকাশিত হয়নি। আহসান হাবিব এই পরীক্ষা অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করলেও করোনাভাইরাসের কারণে সব পরীক্ষার প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা আরো দূরে সরে গেল আহসান হাবিবের জন্য।

সরকারি কর্ম কমিশন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণির চাকরি থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির সব চাকরি কোথাও লিখিত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে; কোথাও কোথাও মৌখিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগের সার্কুলার জারির অপেক্ষায় ছিল, সেই প্রক্রিয়াও স্থগিত হয়ে গেছে করোনাভাইরাসের কারণে। এ কারণে বিপাকে পড়েছে হাজারো শিক্ষার্থী। সরকারি কর্মকমিশন থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, চলতি মার্চ মাসে তাদের অধীনে প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণির বেশ কয়েকটি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার তারিখ থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে যেসব পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে; সেগুলোও স্থগিত করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে মন্ত্রণালয়গুলোর তত্ত্বাবধানে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরির জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাও স্থগিত করেছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের পরীক্ষা নিয়োগ কমিটির কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি উন্নতি হওয়া ছাড়া এসব পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। লিখিত কিংবা মৌখিক পরীক্ষার পরবর্তী সময় সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় উপসহকারী পরিচালক পদে চলতি মাসে লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা স্থগিত করেছে পিএসসি। একই বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী পদে ৯৬ জনের মৌখিক পরীক্ষার সময় ছিল চলতি মাসে। সেই মৌখিক পরীক্ষাও স্থগিত হয়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় সহকারী প্রকৌশলী পদের পরীক্ষা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত করেছে পিএসসি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপসহকারী প্রকৌশলী ৩১৩টি পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা চলতি মাসে হওয়ার কথা ছিল। সেই পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। ২৩ মার্চ বাংলাদেশ টেলিভিশনের চিত্রগ্রাহকসহ বেশ কয়েকটি পদের জন্য পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সেই পরীক্ষাও স্থগিত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে দুই হাজার পদে পরীক্ষা হওয়ার কথা কয়েক দিন আগে। সেই পরীক্ষাও স্থগিত। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বয়লার পরিদর্শক পদে ২২ জনের মৌখিক পরীক্ষাও স্থগিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পিটিআই ইন্সট্রাক্টর পদের মৌখিক পরীক্ষাও পিছিয়েছে। এ ছাড়া পিটিআই বিজ্ঞান ও শারীরিক শিক্ষা পদের মৌখিক পরীক্ষা পিছিয়েছে। সব মিলিয়ে পিএসসির অধীনে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিভিন্ন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যাঁরা চাকরির অপেক্ষার প্রহর গুণছেন, তাঁদের অপেক্ষার সময় আরো বাড়ল। অবশ্য কর্মকর্তারা বলছেন, অবস্থার উন্নতি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফের পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য সিদ্দিকা খানম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পরিবেশ উন্নতি হলে আমরা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেব। তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার বাইরে যারা শুধু আবেদন করেছে; কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে গেছে, তাদেরও চিন্তার কারণ নেই।’ 

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, পরিকল্পনা বিভাগে আটটি ক্যাটাগরিতে ৫০টি শূন্য পদে লিখিত পরীক্ষা আগামী ৩ এপ্রিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে ওই লিখিত পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষার সংশোধিত তারিখ পরবর্তী সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর রাজস্ব বাজেটভুক্ত তৃতীয় শ্রেণির ১১ ক্যাটাগরিতে ৫৯৩টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ১ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত নেওয়ার কথা ছিল। এই পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

শুধু সরকারি দপ্তরেই নয়; কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে গেছে করোনাভাইরাসের কারণে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। ফলে যাঁরা লিখিত পরীক্ষা কিংবা মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের প্রস্তুতিও ছন্দপতন ঘটেছে। আবার করোনাভাইরাসের কারণে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া দেরি হলে সরকারি চাকরিতে ৩০ বছর পেরিয়ে যাওয়ার অনিশ্চয়তায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে অনেকের। এসব বিষয়ে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমিন কালের কণ্ঠকে বলেন, যেসব নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো জারি হয়নি, সেসব বিষয়ে যাঁদের বয়স ৩০ পেরিয়ে যাবে সেখানে কিছু করার নেই। তাঁরা আবেদন করতে পারবেন না। তবে যাঁরা এরই মধ্যে আবেদন করেছেন, তাঁদের কোনো সমস্যা হবে না। তিন বছর পরও যদি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়, তারা চাকরিতে যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। নূরুল আমিন বলেন, কোথাও লিখিত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। কোথাও মৌখিক পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের আবার নতুন করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। ওয়েবসাইটেও নতুন করে পরীক্ষার তথ্য জানিয়ে দেব। তাই শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা