kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আরো পাঁচজন আক্রান্ত

► দেশে মোট আক্রান্ত বেড়ে ৪৪, সুস্থ ১১
► খাগড়াছড়িতে আইসোলেশনে থাকা যুবকের মৃত্যু
► জ্বর, শ্বাসকষ্টে আরো তিনজনের মৃত্যু, করোনা সন্দেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



আরো পাঁচজন আক্রান্ত

মাঝে এক দিন শনাক্ত শূন্য থাকলেও গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে পাঁচজনের। এদের মধ্যে একজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাও আছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিদেশ থেকে ঘুরে এসেছেন। আক্রান্ত সবাই পুরুষ। এ নিয়ে দেশে মোট ৯২০ জনের  নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে ৪৪ জনের করোনা শনাক্ত হলো। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে আর ১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অন্যরা হাসপাতালে আছেন।

এদিকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে করোনা সন্দেহে আইসোলেশনে থাকা এক যুবক (৩০) বুধবার রাতে মারা গেছেন। শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে ওই দিন দুপুরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। খুলনা নগরে ও যশোরের শার্শায় জ্বর, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত আরো দুজন মারা গেছেন। সন্দেহ করা হচ্ছে যে তাঁরা করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারা গেছেন। বান্দরবানে জ্বর ও জন্ডিসে আক্রান্ত এক কিশোর মারা যাওয়ার পর তার বাড়ি ‘লকডাউন’ করা হয়েছে।

আরো পাঁচজন আক্রান্ত

সরকারের করোনাভাইরাস-বিষয়ক মুখপাত্র ও আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, নতুন যে পাঁচজনের মধ্যে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে তাঁদের একজন বিদেশ থেকে এসেছেন, তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন অন্য আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থেকে, আরেকজনের তথ্য অনুসন্ধান চলছে। এ ছাড়া আক্রান্তদের দুজনের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর, অন্য দুজনের ৪১ থেকে ৫০ বছর এবং আরেকজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডা. সেব্রিনা জানান, নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। ঢাকায় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা শিশু হাসপাতাল এবং চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি)-এ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই সুযোগ আরো বাড়ানো হবে। এ ক্ষেত্রে আগে সন্দেহজনক রোগীরা হটলাইনে যোগাযোগ করবেন। উপসর্গ অনুসারে বাসা বা হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন মোট ৩০ হাজার ৬১৭ জন আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ছিলেন ১৫১ জন। এ ছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে করোনা ও অন্যান্য বিষয় জানতে ফোনকল আসে ৬৮ হাজার ৯৮৬টি। অন্যদিকে গতকাল বিদেশ থেকে বিভিন্ন বন্দর হয়ে দেশে ঢুকেছেন মোট ৭৩৬ জন।

গতকাল সার্কভুক্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক নেতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। এতে করোনা মোকাবেলায় পারস্পরিক  অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পরামর্শ আদান-প্রদান হয়।

খাগড়াছড়িতে আইসোলেশনে যুবকের মৃত্যু

আমাদের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, জেলার সিভিল সার্জন ডা. নূপুর কান্তি দাশ বলেছেন, বুধবার রাত ৪টার দিকে ওই যুবক মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। আগে এই হাসপাতালেও চিকিৎসা নিয়েছেন।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মিটন চাকমা জানিয়েছেন, যুবককে আইসোলেশনে নেওয়ার বিষয়টি বুধবার দুপুরেই আইইডিসিআরকে অবহিত করা হয়েছিল। তাঁর রক্ত ও লালার নমুনা রাখা হয়েছে। পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হবে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পূর্ণ জীবন চাকমা জানান, রোগীর সংস্পর্শে আসা দুজন চিকিৎসক, দুজন নার্স ও একজন আয়াকে হাসপাতালের প্রাতিষ্ঠানিক হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

খুলনা, যশোর বান্দরবানে জনের মৃত্যু, করোনা সন্দেহ

খুলনা থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে তাঁর বয়স ৪৫। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ পোষণ করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও বিএমএ (বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন) খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মেহেদী নেওয়াজ তাঁর ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ওই রোগীকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, ওই রোগী ঢাকার একটি হাসপাতালে থাইরয়েডের অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। তাঁকে যে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল, সেই আইসিইউতে করোনা আক্রান্ত এক রোগী ছিল। তিনি ওই রোগীর করোনা সংক্রমণ হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ অবস্থায় ওই রোগীর সংস্পর্শে যেসব চিকিৎসক, নার্স গিয়েছিলেন তাঁদের আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে ডা. মেহেদী জানান।

করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ওই হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে দুই নারীকে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার রাতে তাঁদের ভর্তি করা হয়। তাঁরা খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা। তাঁদের একজন জ্বরে আক্রান্ত। অন্যজন রোগীর বান্ধবী। লক্ষণ দেখে চিকিৎসকরা বান্ধবীসহ ওই নারীকে আইসোলেশনে রেখেছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে একজন পুলিশ সদস্য ও তাঁর বাবাকে আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। তাঁরা সুস্থ আছেন বলে ওই ইউনিটের চিকিৎসক ডা. শৈলেন্দ্রনাথ জানিয়েছেন।

বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলে বুধবার রাতে মারা যাওয়া ব্যক্তি (৬৫) শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন বলে স্থানীয় লোকজন ও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে ভারত থেকে তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে ফিরে আসার পর তাঁর অসুস্থতা আরো বেড়ে যায় বলে জানান বেনাপোল পৌরসভার কাগজপুকুর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিরুল ইসলাম। এ কারণে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ওই বাড়িতে লাল নিশান টাঙিয়ে ওই বাড়ির সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী জানান, ওই ব্যক্তির মৃত্যু স্বাভাবিক। তিনি অ্যাজমার রোগী ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান জানান, জেলার আলীকদম উপজেলায় ১৭ বছরের এক কিশোরের মৃত্যুর পর গতকাল দুপুর থেকে তাদের বাড়িটি লকডাউন করে পরিবারের অন্য সব সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি নিশ্চিত যে ওর শরীরে করোনার কোনো লক্ষণ ছিল না। এর পরও বিশেষ সতর্কতা হিসেবে এসব ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। তার মরদেহ বিশেষ প্রটেক্টিভ ব্যবস্থায় দাফন করা হয়েছে।’

এর আগে গত ১৯ মার্চ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জ্বর. গলা ব্যথা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে দুজন মারা যান। দুজনের শরীরে করোনার উপসর্গ ছিল বলে হাসপাতালের পরিচালক সাংবাদিকদের জানান। গত মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক নারীর মৃত্যু হয়, যিনি জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি বলে আইসিইউ ইনচার্জ জানান। একই রাতে ঢাকায় কোয়ারেন্টিনে থাকা এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তাঁরও নমুনা নেওয়া হয়নি। সিলেট নগরেও এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর সন্দেহ তৈরি হয়। কারণ তাঁর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ছেলে দেশে এসে কোয়ারেন্টিন মানেননি।

চট্টগ্রামে আটজনের নমুনা সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম জানান, গত দুই দিনে চট্টগ্রামে করোনা পরীক্ষার জন্য আটজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের নমুনা ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। গতকাল যে পাঁচজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে কক্সবাজারের তিনজন। ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি)-এ এই পাঁচজনের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। পরে সেই রিপোর্ট আইইডিসিআরে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বিআইটিআইডির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. শামীম আহমেদ।

শরীয়তপুরের তিনজনের নমুনা পরীক্ষা আইইডিসিআরের

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জে ইতালিফেরত এক প্রবাসীসহ তিনজনের জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথা থাকায় করোনা পরীক্ষার জন্য গত মঙ্গলবার নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআর। তাঁদের মধ্যে দুজন নড়িয়ার। তাঁরা হলেন ইতালিফেরত প্রবাসী ও তাঁর স্ত্রী। অন্যজন হলেন ভেদরগঞ্জের। এই ব্যক্তি গরু ব্যবসায়ী। তাঁরা কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন এবং আগের চেয়ে সুস্থ বলে জানান জেলার সিভিল সার্জন ডা. এস এম আবদুল্লাহ আল মুরাদ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা