kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আক্রান্ত পাঁচ লাখ, মৃত্যু ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আক্রান্ত পাঁচ লাখ, মৃত্যু ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে

শত চেষ্টা করেও নতুন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না ইউরোপ কিংবা যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই দুটি অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সোয়া তিন লাখের বেশি। মৃতের সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি। সেই তুলনায় এশিয়ার অবস্থা এখন পর্যন্ত ‘সন্তোষজনক’। এই অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা এখনো চার হাজারের নিচে। তবে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ইরান এখনো দৈনিক আক্রান্ত কিংবা মৃত্যুর হারে লাগাম টানতে পারেনি। এ ছাড়া আগামী দিনে ভারতে কী পরিস্থিতি দাঁড়ায়, তা নিয়েও এক ধরনের আতঙ্ক রয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’ (কভিড-১৯)-এ বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে পাঁচ লাখ। ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা। এদিকে ‘করোনা রাজনীতিতে’ এখনো চীনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ অব্যাহত রেখেছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, ভাইরাসটি নিয়ে চীন তাদের যথেষ্ট সতর্কবার্তা কিংবা তথ্য দেয়নি। যদিও উহানের সব কিছু সারা বিশ্বের সামনেই ঘটেছে।

অসহায় ইউরোপ : বার্তা সংস্থা এএফপির গতকাল রাতের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৬৫ হাজারের বেশি। তাদের অর্ধেকের বেশি আবার ইতালি ও স্পেনের। গতকাল রাত পর্যন্ত ইউরোপে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের। ইউরোপে আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইতালি, ৮০ হাজার ৫৩৯ জন। এ ছাড়া দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ১৬৫ জনের। এর মধ্যে গতকাল মৃত্যু হয়েছে ৬৬২ জনের। এর পরই আছে স্পেন। গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে ৫৬ হাজার ১৯৭ ও চার হাজার ১৪৫। মৃতের সংখ্যায় এরই মধ্যে চীনকে টপকে গেছে দেশটি। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যেও। জার্মানিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪৩ হাজার ৬৪৩ ও ২৩৯ জনে। ফ্রান্সে এই সংখ্যা যথাক্রমে ২৫ হাজার ২৩৩ ও এক হাজার ৩৩১। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৭১২। মারা গেছে ১৯১ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারের কাছাকাছি যুক্তরাজ্যে। মৃত্যু হয়েছে ৪৭৭ জনের। অন্যদিকে এশিয়ার দেশগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৯৩৭। মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ৬৩৬। এর মধ্যে কেবল চীনেই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ৮১ হাজার ২২৫ ও তিন হাজার ২৮৭।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ‘বুলেট ট্রেনের’ গতিতে : গত বুধবার নিউ ইয়র্কের মেয়র সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে জানান, তাঁর শহরে কভিড-১৯ ‘বুলেট ট্রেনের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।’ হিসাবও তাই বলছে। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ১৫৫ জনে; যা চীন ও ইতালির পর তৃতীয় সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে ১০৮২ জনের। তবে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সাত থেকে ১৫ কোটি মানুষ কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মৃত্যুহার যদি ১ শতাংশও হয়, তাহলে সাত লাখ থেকে ১৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয় হৃদেরাগে। চলতি বছর হৃদেরাগে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষের। অন্যদিকে ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে ফ্লু ও নিউমোনিয়ায়।

এদিকে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দুই লাখ কোটি ডলার বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মধ্যে এই প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে পাস হয়েছে। আজ শুক্রবার পার্লামেন্টের প্রস্তাবটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে স্বাক্ষর করবেন। এদিকে জি-৭ সম্মেলনে চীনের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জোটের সব সদস্যই বিষয়টি জানেন যে নতুন ভাইরাসটি সম্পর্কে চীন পর্যাপ্ত তথ্য আমাদের দেয়নি।’

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে নিউ ইয়র্কে, ৩৩ হাজার ১৩ জন। এর পরই আছে নিউ জার্সি (৪৪০২), ক্যালিফোর্নিয়া (৩১৫৮) ও ওয়াশিংটন (২৫৮৮)।

এশিয়ার পরিস্থিতি : চীনে গতকাল নতুন করে ৬৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে আরো ছয়জনের। তবে নতুন আক্রান্তদের প্রায় সবাই বিদেশ থেকে আসা। ইরানে গতকাল মৃত্যু হয়েছে ১৫৭ জনের। নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৩৮৯। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২৯ হাজার ৪০৬ ও দুই হাজার ২৩৪। দক্ষিণ কোরিয়ায় গতকাল নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১০৪ জন। মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯ হাজার ২৪১ ও ১৩১ জনে। ২৩৫ জন বেড়ে মালয়েশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩১ জনে। মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। পাশের দেশ ভারতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে ৭১৯ ও ১৬। এর মধ্যে গতকাল মৃত্যু হয়েছে দুজনের।

সার্বিক চিত্র : বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৮টি দেশ ও অঞ্চল কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ১০ হাজার ১৮ জনে। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৩৯ হাজার ৫০ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৩ হাজার ১০ জনের। সুস্থ হয়েছে এক লাখ ২২ হাজার ২৩২ জন। এ ছাড়া বিশ্বের প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে কভিডে আক্রান্ত হয়েছে গড়ে ৬৫ দশমিক ৪ জন। আর প্রতি ১০ লাখে মৃত্যু হয়েছে গড়ে তিনজনের। অন্যদিকে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মৃত্যুর হার ৪.৫১ শতাংশ। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা