kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ‘লকডাউনে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ‘লকডাউনে’

করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকাতে ভারতে লকডাউন কার্যকরের মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কার্যত ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই হু হু করে বাড়ছে ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

ওই সংখ্যার হিসাবে এবার চীনকে ছাড়িয়ে গেছে স্পেনও।

গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভারতে কার্যকর হওয়া ২১ দিনের লকডাউনের মধ্য দিয়ে দেশটির প্রায় ১৩৫ কোটি জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতের চেষ্টায় ব্রতী হয়েছে সরকার। উপদ্রুত বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতের এ পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের তিন ভাগের এক ভাগ মানুষের ওপর লকডাউন কার্যকর হলো।

লকডাউনসহ নানা রকম সতর্কতা সত্ত্বেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মৃতের সংখ্যার দিক থেকে ইতালি আগেই চীনকে ছাড়িয়ে গেছে। চীনে সর্বশেষ কভিড-১৯ রোগে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ২৮১। কঠোর পদক্ষেপের সুবাদে সেখানে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় লাগাম টানতে সফল হয়েছে সরকার। তবে এশিয়া থেকে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা চীনে মৃতের দ্বিগুণ। ইতালিতে এ পর্যন্ত সাত হাজার ৫০৩ জন মারা গেছে।

মৃতের সংখ্যা বিচারে বর্তমানে ইতালির পরই রয়েছে স্পেন। সেখানে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৪৩৪ জন কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত চীনেই সর্বোচ্চ। সংখ্যাটি ৮১ হাজার ২১৮। ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার পরও দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার ৬৫৩। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৮১৯ জন।

সব মিলিয়ে ১৭৫টি দেশে মহামারির কবলে পড়া মানুষের সংখ্যা চার লাখ ৫২ হাজারের বেশি। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যাটি অনেক বেশি হতে পারে। কারণ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্তে সব দেশের সরকারের সক্ষমতা এক নয়, ফলে অনেক দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি সংবাদমাধ্যমে উঠে আসছে না। আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে দোলাচল থাকলেও মৃতের সংখ্যাটা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে সেটাও নিতান্ত কম নয়। গতকাল বুধবার রাত ১টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডোমিটারসডটইনফোর হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, কভিড-১৯ রোগে মারা গেছে ২০ হাজার ৪৯৫ জন।

আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্র : এ অবস্থায়ও আশাবাদী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ইস্টারের আগেই অর্থাত্ মধ্য এপ্রিল নাগাদ মহামারি নিয়ন্ত্রণ করতে পারার ব্যাপারে তিনি ভীষণ আশাবাদী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাভাইরাসের টেস্ট কিট পাঠাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইনকে অনুরোধ করেছেন; গতকাল এমনটাই জানিয়েছে মুনের কার্যালয়। হোয়াইট হাউসও জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার এ দুই নেতার ফোনে কথা হয়েছে। ট্রাম্পের অনুরোধের জবাবে মুন জানিয়েছেন, টেস্ট কিটের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত থাকলে সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে যথাসম্ভব সাহায্য করতে তিনি প্রস্তুত।

ইউরোপ পরিস্থিতি : আরো ২৪০ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ১০০ জনে পৌঁছেছে। উপদ্রুত জার্মানিতে মৃতের সংখ্যা কম হলেও মহামারির লাগাম টানতে আগেই সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জার্মানি। গতকাল জার্মান সরকার মৌসুমি কর্মীদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করেছে। বছরের বিভিন্ন মৌসুমে প্রায় তিন লাখ কর্মী জার্মানিতে কাজের জন্য ঢোকেন। জার্মানিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১৮৬ জন। এদিকে মহামারি পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট গতকালই বন্ধ ঘোষণা করার কথা।

এ ছাড়া পানামায় গত মঙ্গলবার লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে প্যারাগুয়ের সীমান্ত। মহামারি নিয়ন্ত্রণে ইথিওপিয়ায় চার হাজার ১১ কারাবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার সরকার গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, তাদের দেশেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। তবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭০৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

ইরান ও রাশিয়া মহামারি নিয়ন্ত্রণে আরো কঠোর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির ভাষ্য মতে গতকাল সন্ধ্যা থেকেই দেশটিতে কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর করার কথা। এ ছাড়া আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন লোকজনের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে অমান্যকারীদের কারাদণ্ডের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে রুশ সরকার। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা