kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনাভাইরাস

আরো একজনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত নেই

► রাজশাহীতে নারীর মৃত্যু, পরীক্ষা হয়নি ► সিলেটে যুক্তরাজ্যফেরত ব্যক্তির বাবার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আরো একজনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত নেই

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কভিড-১৯ রোগ আক্রান্ত হয়ে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মারা গেলেন পাঁচজন। অবশ্য গতকাল দুপুর ১২টার আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আর কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়নি। তবে এই প্রথম সংস্থাটি স্বীকার করে নিল যে দেশে সীমিত আকারে হলেও কমিউনিটি সংক্রমণ হচ্ছে বলে সংস্থাটি ধারণা করছে।

করোনাভাইরাস বিষয়ক সরকারি মুখপাত্র ও রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে ঢাকায় কোয়ারেন্টিনে থাকা এক ব্যক্তি মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার রাতে করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে মারা যান তিনি। তাঁকে মানিকগঞ্জের ঘিওরে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। জানতে পেরে গ্রামটি ‘লকডাউন’ করে প্রশাসন।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক নারী মারা গেছেন। ওই নারী করোনাভাইরাস আক্রান্ত কি না সেটা জানার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তাঁর নমুনা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া করোনা সন্দেহে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা এক নার্সের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পাওয়া গেছে। পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনাও নেওয়া হয়নি।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার এক যুবককে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

আরো একজনের মৃত্যু

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে আইইডিসিআর পরিচালক জানান, সব মিলিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ৩৯ জনের। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সাতজন সুস্থ হয়েছে। বাকি ২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮২ জনের। তিনি জানান, গতকাল যিনি মারা যান তাঁর বয়স ছিল ৬৪ বছর। তিনি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। বিদেশফেরত এক ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিলেন তিনি। ১৮ মার্চ তাঁর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২১ মার্চ তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আরেকটি ব্রিফিং করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হটলাইন ও ল্যাব সুবিধা আরো সম্প্রসারিত করা হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে এই ল্যাবগুলো চালু হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে, গতকাল পর্যন্ত আইসোলেশনে ছিল ৪৭ জন। এ ছাড়া সারা দেশে হোম কোয়ারেন্টিনে ছিল ৩০ হাজার ২৮৫ জন। আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ছিল ১৩৮ জন। এ ছাড়া গতকাল দেশের বাইরে থেকে এক হাজার ১৩২ জন বিভিন্ন বন্দর হয়ে দেশে প্রবেশের সময় স্ক্রিনিং করা হয়। অন্যদিকে করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানানোর জন্য সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন ফোনে কল আসে ৪৩ হাজার ৩৬৩টি।

এদিকে আইইডিসিআরের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজ-বিআইটিআইডিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজেও পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে থাকতে পারে’

দেশে করোনাভাইরাসের কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে ডা. ফ্লোরা বলেছেন, ‘আমরা দুটি ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করছিলাম। এখন পর্যন্ত সেখানে সংক্রমিত হওয়র উৎস সম্পর্কে জানা যায়নি। সে কারণে সীমিতভাবে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে বলে আমরা মনে করছি। কিন্তু কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বলার আগে আমাকে বিস্তারিত তথ্যের বিশ্লেষণ করে বলতে হবে।’

ঢাকায় কোয়ারেন্টিনে এক ব্যক্তির মৃত্যু

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক প্রতিনিধি ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানান, মৃত ওই ব্যক্তি ঢাকার একটি হাসপাতালে হিসাবরক্ষক পদে চাকরি করতেন।

ওই ব্যক্তির ভাই জানান, সপ্তাহখানেক আগে তাঁর ভাইয়ের জ্বর ও কাশি হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছুটি দিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে দেয়। গত মঙ্গলবার রাতে অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাঁকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন চিকিৎসকরা জানান, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যু সনদে কারণ হিসেবে ‘আননোন’ উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজশাহীতে নারীর মৃত্যু, পরীক্ষা হয়নি

রাজশাহী থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউয়ে মারা যান এক নারী। ৪৬ বছর বয়সী ওই নারীর বাড়ি নগরীর অদূরে পবা উপজেলা কাটাখালি পৌর এলাকায়। গত ২০ মার্চ ওই নারী জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ২২ মার্চ তাঁকে আইসিইউয়ে নেওয়া হয়।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউয়ের ইনচার্জ আবু হেনা মোস্তফা কামাল গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মারা যাওয়া রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না, সেটা প্রায় নিশ্চিত।’ তিনি বলেন, ওই নারীর স্বজনদের কেউ বিদেশফেরত নেই। আবার তিনি ভাইরাস বহনকারী কারো সংস্পর্শে গিয়েছেন কি না সেটিও কেউ বলতে পারেনি। আইইডিসিআরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল নমুনা নিতে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নমুনা নেওয়া হয়নি।

একই হাসপাতালের এক নার্স হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীরে উচ্চ তাপমাত্রাসহ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে গত ২১ মার্চ ওই নার্সকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। ওই নারীর ডায়াবেটিসও রয়েছে। এখন লিভারের সমস্যাও দেখা দিয়েছে।

ওই নার্সের স্বামী বলেন, হাসপাতাল থেকে তাঁদের বলা হয়, নমুনা নিতে লোক আসবে, কিন্তু গতকাল পর্যন্ত কেউ আসেনি।

বরিশালে আইসোলেশনে বাউফলের যুবক

বাউফলের নাজিরপুর ইউনিয়নের ২৫ বছরের ওই যুবক ছয় দিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি আসেন। এরপর তিনি জ্বর, কাশি ও মাথা নিয়ে সোমবার সকালে তিনি পার্শ্ববর্তী গ্রামের শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যান। সেখানে তিনি আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আক্তারুজ্জামান জানান, ওই যুবকের শরীরে ১০৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল। সঙ্গে কাশি, প্রচণ্ড মাথা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট ছিল। উপসর্গ দেখে করোনা আক্রান্ত মনে হয়েছে।

সিলেটে যুক্তরাজ্যফেরত ব্যক্তির বাবার মৃত্যু, সন্দেহ

সিলেট নগরে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক ব্যক্তির বাবা গত মঙ্গলবার রাতে মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তিনি কিডনি রোগী ছিলেন। তাঁর নিয়মিত ডায়ালিসিস করতে হতো। ওই প্রবাসী ১০ দিন আগে দেশে আসেন। বাবার মৃত্যুর দুই দিন আগে তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন। সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেছেন, ওই ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত বা কোয়ারেন্টিনেও ছিলেন না। অবশ্য তাঁর যুক্তরাজ্যফেরত ছেলেকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছিল। তিনি সেটা না মেনে চলে গেছেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা