kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

দেশে আরো একজনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬

► ঢাকাফেরত শ্বাসকষ্টের রোগীর মৃত্যু জামালপুরে
► গাইবান্ধায় আইইডিসিআর প্রতিনিধিদল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেশে আরো একজনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৬

দেশে করোনাভাইরাসে নতুন করে ছয়জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। দেশে এ ভাইরাস সংক্রমণে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে চার। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৯।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে করোনাভাইরাসসংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের উত্তর কুশলপুর গ্রামে প্রায় ৮০ বছরের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন। তাঁর স্বজনদের দাবি, তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাঁর নমুনা পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে।

গাইবান্ধায় কোয়ারেন্টিনে থাকা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহের কাজ করছে আইইডিসিআরের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

কক্সবাজারে সৌদি আরব থেকে ওমরাহ করে আসা এক নারীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতের পর সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ১৪ জন চিকিৎসক, পাঁচজন নার্স ও তিনজন জনস্বাস্থ্য সহকারী কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন।

দেশে মোট মৃত্যু ৪, আক্রান্ত ৩৯

অনলাইনে সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে ড. ফ্লোরা জানান, গতকাল যখন সংবাদ সম্মেলন করা হয় তার আগের ২৪ ঘণ্টায় আরো ছয়জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। তিনি বহুদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। নতুন মৃত ব্যক্তির বয়স ৭০ বছরের বেশি। আক্রান্ত বাকি পাঁচজনের একজন ওমরাহ করে ফিরেছেন। বাকি চারজন আগের রোগীদের সংস্পর্শে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি আরো জানান, আইসোলেশনে, যাঁদের কেউ নিশ্চিত শনাক্ত অথবা সন্দেহভাজন, এমন আছেন ৪০ জন, প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৩৭ জন। সারা দেশে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ২৭ হাজার ৪৩ জন।

ডা. ফ্লোরা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৯২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৭১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তি ৩৯ জন। এ সময়ের মধ্যে আইইডিসিআরের হটলাইনে দুই হাজার ৭৩০টি কল আসে।

সংবাদ সম্মেলনে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে নাগরিকদের করণীয়ও তুলে ধরেন আইইডিসিআরের পরিচালক। নাগরিকদের উদ্দেশে গণপরিবহন পরিহার করে চলা, অপরিচিত কারো সঙ্গে দেখা না করা এবং কারো সঙ্গে দেখা করলেও এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয় আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে। 

ঢাকাফেরত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত নারীর মৃত্যু জামালপুরে

আমাদের জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত গতকাল সকাল ৭টার দিকে ওই নারীর মৃত্যু হয়। ওই নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ও শঙ্কা দেখা দেওয়ায় আইইডিসিআরের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর দাফন স্থগিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের প্রস্তুত নেওয়া হয়েছে। বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জামশেদ খোন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওই নারীর শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা দাবি করলেও ওই নারী সম্পর্কে আগে থেকেই কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। করোনাভাইরাস সংক্রমণের অধিকতর ঝুঁকি এড়াতে তাঁর দাফন স্থগিত করে ঢাকায় আইইডিসিআরে যোগাযোগ করেছি। আইইডিসিআর কর্তৃপক্ষ আমাদের ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করে রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন।’

আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদল গাইবান্ধায়

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, ঢাকার আইইডিসিআর থেকে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গাইবান্ধায় এসেছে। তারা সোমবার থেকে পরীক্ষার জন্য হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা প্রত্যেকের বাড়ি গিয়ে নমুনা (রক্ত ও লালা) সংগ্রহ করছে। আইইডিসিআরের চিকিৎসক সোহেল রহমানের নেতৃত্বে দলটি কাজ করছে। তারা আরো দু-এক দিন এসব নমুনা সংগ্রহ করবে। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ এ তথ্য জানিয়েছেন।

জেলায় এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন দুজন। হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ২২৬ জন। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৬২ জন, সুন্দরগঞ্জে ৪৫ জন, সদরে ৩৭ জন, সাদুল্যাপুরে ২১ জন, সাঘাটায় ১৯ জন, পলাশবাড়ীতে ১৭ জন ও ফুলছড়িতে ১৬ জন এবং বগুড়া থেকে গাইবান্ধায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আসা ৯ জন এখন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন।

কক্সবাজারে চিকিৎসকসহ ২২ জন কোয়ারেন্টিনে

কক্সবাজার থেকে বিশেষ প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারে এক নারীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তিনি ওমরাহ শেষে গত ১৩ মার্চ সৌদি আরব থেকে কক্সবাজারে ফেরেন। এরপর ১৮ মার্চ তিনি সর্দি-কাশি ও জ্বর নিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল আইইডিসিআর তাঁর করোনা শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ নারী কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁকে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও কোনো অ্যাম্বুল্যান্সও মিলছে না। গাড়ির মালিক ও চালকরা কেউ রোগী নিতে রাজি হচ্ছেন না।

ওই নারীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ডা. মহিউদ্দিনসহ ১৪ জন চিকিৎসক, পাঁচজন নার্স ও তিনজন স্বাস্থ্য সহকারী গতকাল বিকেল থেকেই কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় যেসব স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন তাঁদেরসহ অন্যদেরও কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ওই নারীর পরিবারটিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা