kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

আরো তিনজনের করোনা শনাক্ত

► সিলেটে আইসোলেশনে থাকা নারীর মৃত্যু
► এ পর্যন্ত আক্রান্ত ২৭ জনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু, পাঁচজন সুস্থ
► খুলনায় সর্দি-জ্বরে মৃত দুজনের পরিবারকে কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আরো তিনজনের করোনা শনাক্ত

দেশে আরো তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এঁদের দুজন বিদেশ থেকে এসেছেন, অন্যজন বিদেশফেরতদের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের একজন নারী, দুজন পুরুষ। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সরকারের জাতীয় কমিটির পক্ষে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সরকারের মুখপাত্র ও আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মহাখালীর বিসিপিএস অডিটরিয়ামে এই ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, আগে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরো দুজন। সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ৫৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে আক্রান্ত হিসেবে ২৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন, পাঁচজন সুস্থ হয়েছেন, বাকি ২০ জন চিকিৎসাধীন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা করা হয় ৬৫ জনের নমুনা। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে মোট কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে ২৩ হাজার ৬৮৪ জনকে। এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ২৩ হাজার ৫৪৮ জন, বাকিরা আছেন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে।

ব্রিফিংয়ের সময় স্বাস্থ্যসচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিচালক (উন্নয়ন) ডা. ইকবাল কবির, আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

সিলেটে আইসোলেশনে থাকা এক নারীর মৃত্যু

কালের কণ্ঠ’র সিলেট অফিস জানায়, সিলেট নগরের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা লন্ডনফেরত এক নারী (৬১) গতকাল রবিবার ভোররাতে মারা যান। পরে দুপুরে কড়া সতর্কতা ব্যবস্থায় নগরের মানিকপীর গোরস্তানে তাঁকে দাফন করা হয়। ওই নারী করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গতকালই  আইইডিসিআরের একটি দলের সিলেটে এসে তাঁর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে দাফনের আগে তাঁর মুখের লালাসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নগরের শামীমাবাদ এলাকার ওই নারী গত ৪ মার্চ লন্ডন থেকে সিলেটে আসেন। তাঁর মূল বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায়। দেশে আসার পর থেকে তিনি জ্বর, সর্দিকাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। ২০ মার্চ শুক্রবার তিনি শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি হন। এই হাসপাতালেই বর্তমানে করোনা সন্দেহ করা রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে।

গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে মানিকপীর গোরস্তানে ওই নারীকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় তাঁর পরিবারের এক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তাঁর জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়। তার আগে সিটি করপোরেশনের একটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে কবর খোঁড়া হয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেই ওই নারীর দাফনকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. ইউনুছুর রহমান জানান, রবিবার ভোররাতে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় ওই নারী মারা যান। তাঁর লাশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংক্রমণ বিধি অনুযায়ী দাফন করা হয়েছে।

সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, ওই নারী করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না তা নিশ্চিত হতে দাফনের আগে আইইডিসিআরের একটি টিম তাঁর মুখের লালাসহ প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে। এই পরীক্ষার ফলাফল পেতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে।

এদিকে ওই নারীর স্বজনদের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে—এটা জানার পর থেকে নগরীর বাসায় তাঁদের পাওয়া যায়নি। গতকাল বিকেলে শামীমাবাদ এলাকায় ওই নারীর বাসায় পুলিশ নিয়ে যান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন ম্যাজিস্ট্রেট। তাঁরা বাড়ির দরজা তালাবদ্ধ দেখতে পান। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘তবে এক স্বজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে পরিবারের সবাইকে বাসায় আসতে বলা হয়েছে। আমরা পরে আবার গিয়ে খোঁজ নেব।’

কালের কণ্ঠ’র সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ওই প্রবাসী নারী আইসোলেশনে মৃত্যুর আগে সুস্থ অবস্থায় স্বামীসহ গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সাতহাল গ্রামে ছিলেন। সেখান তিনি অসুস্থতা অনুভব করলে সিলেটের বাসায় চলে যান। তাঁর মৃত্যুর খবরে গ্রামের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা ওই বাড়িটি কিছুদিনের জন্য লকডাউন করার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বাড়িটি পরিদর্শন করেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই বাড়ির সবাইকে আগামী ১৪ দিন কঠোরভাবে হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সাতহাল গ্রামের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন ফারুক বলেন, ‘গ্রামের মানুষ আমাকে বলেছেন, ওই নারী স্বামীসহ কয়েক দিন বাড়িতে ছিলেন। পরে তিনি সিলেটে চলে যান। এখন তিনি মারা যাওয়ার পর গ্রামের মানুষজন ভয়ে আছেন। গ্রামবাসীর অনুরোধের পর ম্যাজিস্ট্রেট এসে বাড়ির সবাইকে আগামী ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।’

নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘ওই নারীর স্বজনরা বলেছেন তিনি বাড়িতে আসেননি, তবে এলাকাবাসী বলেছেন। এ কারণে আমরা তাঁর বাসার সবাইকে আগামী ১৪ দিন বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলার নির্দেশনা দিয়ে এসেছি।’

খুলনায় সর্দি-জ্বর-কাশিতে মৃত দুজনের পরিবারকে কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ

কালের কণ্ঠ’র খুলনা প্রতিবেদক জানান, সর্দি-জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত দুই রোগীর খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা; যদিও ওই রোগীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন কি না সেটা নিশ্চিত নয়। দুজনের মধ্যে একজন ভারতফেরত ছিলেন। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের করোনা সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পরিবার দুটিকে কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খুমেক হাসপাতালের পরিচালক এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, দুজনের মধ্যে একজনের বাড়ি বাগেরহাটের  মোংলায়, অন্যজনের বাড়ি নড়াইলে। মোংলা থেকে চিকিৎসাপ্রার্থী এসেছিলেন ১৯ মার্চ সকালে। চিকিৎসা দেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। আর নড়াইল থেকে চিকিৎসাপ্রার্থী এসেছিলেন ১৯ মার্চ রাতে। তিনি এক সপ্তাহ আগে ভারত থেকে বাড়ি ফেরেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা