kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

বিশিষ্টজনের পরামর্শ

ঘরে থাকুন

► সারা বিশ্বেই ঘরে থাকার নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে
► দেশে করোনাভাইরাস কতটা ছড়িয়েছে সেটা নিরূপণ করা জরুরি
► সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ
► প্রস্তুতি আরো জোরদার করার তাগিদ

তৌফিক মারুফ   

২৩ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘরে থাকুন

রাষ্ট্রীয়ভাবে আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ। আবার অনেকে বলছেন, এখনই চূড়ান্ত কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না। তাঁদের অনেকের মতে, বিশ্বব্যাপী এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় নিরাপদ শব্দ হয়ে উঠেছে ‘স্টে হোম’ বা ‘ঘরে থাকুন’।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে কভিড-১৯ রোগকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার পর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যেখানে নাগরিকদের ঘরে থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়। এভাবে চীন, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া করোনা মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত সাফল্য পেয়েছে। রাশিয়া ঘরে থাকা বাধ্যতামূলক করে কেউ না মানলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের ঘোষণা দিয়েছে। ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রও এ পথেই গেছে। সে কারণে বাংলাদেশেও বিশিষ্টজনরা করোনা সংক্রমণ এড়াতে মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে ‘ঘরে থাকা’র কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নিয়েছে। কোথাও কারফিউ, কোথাও লকডাউন, কোথাও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন, আবার হোম কোয়ারেন্টিন করা হচ্ছে। সব দেশেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা তথা সরকারি পদক্ষেপ ও সামাজিক সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে ‘ঘরে থাকা’ নিশ্চিত করতে চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিন ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন পর্যায়ে আছে। তবে এই ক্ষেত্রে নাগরিকদের মধ্যে যেমন এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সচেতনতা-সতর্কতা পালনের ঘাটতি দেখা যায়, তেমনি সরকারের দিক থেকেও শৈথিল্য দেখানো হচ্ছে।

বিশিষ্টজনরা এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে সহায়তার জন্য দল-মত-নির্বিশেষে সবাইকে এক সুরে মানুষকে ঘরে থাকার জন্য কথা বলার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে সরকারি কোনো কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সহযোগিতার তাগিদ দেন।

লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে নিজেদের বাঁচার জন্য সতর্কতাবোধ জাগাতে হবে। মানুষ অনেক কিছু জেনেও পালন করছে না। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র, সরকার ও সমাজকে আরো সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারকে আর দেরি না করে এখনই কঠোর পদক্ষেপে যাওয়া দরকার। দেরি করলে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে। সেটা ভালো হবে না।’ তিনি বলছেন, ‘এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে প্রথমে অল্প কয়েক দিনের জন্য লকডাউন করে দেখা যেতে পারে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়। পরে না হয় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে। কারণ সবার আগে মানুষের জীবন, তারপর ব্যবসা-বাণিজ্য, অন্য কিছু। এটা আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে। সেভাবেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, অনেকের কথা শুনে মনে হচ্ছে এটা শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখন আর এটা স্বাস্থ্য বিভাগের একার কাজ নয়। এই কাজে অন্য সব মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে এবং করতে হবে। মানুষ কথা না শুনলে আইন প্রয়োগ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘লকডাউন একটা পদ্ধতি হতে পারে। সেটা করা দরকার। তবে এর সঙ্গে আরো জরুরি নজর দিতে হবে কমিউনিটিতে করোনাভাইরাস কতটা ছড়িয়েছে তার ওপর। সেটা নিরূপণ করা না গেলে শুধু লকডাউন করে সুফল পাওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের অবস্থাটাও দেখতে হবে। চিকিৎসকরা যদি নিরাপদে, নির্বিঘ্নে সেবা দিতে না পারেন তবে লকডাউন করেও কাজ হবে না।’ তিনি বলছেন, চিকিৎসার ওপর এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ওষুধের প্রস্তুতি কী হচ্ছে না হচ্ছে সেটাও অনেকেই জানেন। এই জিনিসটির দিকেও এখনই পরিকল্পনা নিয়ে এগোনো দরকার।

এই চিকিৎসক নেতা বলেন, ‘নিউমোনিয়া আগে থেকে আমাদের দেশে আছে। এখন নাকি এর মাত্রা বেড়েছে। অনেক অজানা নিউমোনিয়া রোগের চিকিৎসা কী হচ্ছে না হচ্ছে সেটার দিকে নজর না রাখলে বিপদ কিন্তু আরো বাড়বে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি মনে করি, সার্বিক প্রস্তুতির জায়গায় আমরা এখনো একেবারেই পিছিয়ে আছি। এই প্রস্তুতি জোরালো না করে এখনই লকডাউন করতে গেলে সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে। তখন বড় একটি সামাজিক সংকট দেখা দেবে। একদিকে সেই সামাজিক সংকট, আরেকদিকে এই করোনাভাইরাসের বিপর্যয়—দুটি মিলে ভয়ংকর অবস্থা হতে পারে। তাই আপাতত যেভাবে খণ্ড খণ্ড এলাকায় কিছু লোকজন লকডাউন করা হচ্ছে, সেই পদ্ধতিতে এগিয়ে যাওয়াটাই ভালো বলে মনে হয়।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা