kalerkantho

রবিবার  । ১৫ চৈত্র ১৪২৬। ২৯ মার্চ ২০২০। ৩ শাবান ১৪৪১

করোনায় মৃত্যু আরেকজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় মৃত্যু আরেকজনের

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরো একজনের মৃত্যু ঘটেছে গতকাল শনিবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে। এ নিয়ে করোনায় দেশে মৃত্যুর সংখ্যা দুইয়ে উঠেছে। এ ছাড়া গতকাল আরো চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট ৪৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ৭০ বছরের কোঠায় থাকা দুজনের মৃত্যু হলো এবং তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। মারা যাওয়া দুজনেরই অন্যান্য রোগের জটিলতা ছিল।

এ ছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে গতকাল সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে ছিলেন ৪০ জন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ের আগে একই স্থানে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয়ের একটি বৈঠক হয়। এ ছাড়া ব্রিফিংকালে ওই কনফারেন্স রুমে সাংবাদিক ও অন্যান্য কর্মকর্তার ভিড় ছিল উপচে পড়ার মতো। এমনকি মন্ত্রী ও সচিবদের পেছনে ঠাসাঠাসি করে এক দল কর্মকর্তা দাঁড়িয়েছিলেন পুরো সময়। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা করোনাঝুঁকি বিবেচনায় এভাবে ছোট কোনো রুমে আর ব্রিফ না করার জন্য অনুরোধ জানান। প্রয়োজনে বড় কোনো খোলামেলা অডিটরিয়ামে বা ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়েরও পরামর্শ দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫০ জন, হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ১৭ হাজার ৫৫৮ জন। তিনি বলেন, আগে প্রস্তুত করা হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি এখন শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আরো ৪০০ আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হবে। চিকিৎসকদের জন্য পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক কয়েক লাখ এসেছে। প্রতিদিন তা সংগ্রহ করা হচ্ছে। চীনে অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার জন্য আরো কয়েকটি সেন্টার প্রস্তুত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সাতটি নতুন যন্ত্র চলে এসেছে। আরো কয়েকটি আসছে।

মন্ত্রী আরো জানান, ১ মার্চের পর থেকে যাঁরাই দেশের বাইরে থেকে এসেছেন তাঁদের খুঁজে বের করার জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বিমান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়।

এদিকে দেশের সব হাসপাতালে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গত রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

গতকাল করোনাবিষয়ক সমন্বিত কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, মৃদু উপসর্গ নিয়ে বাসায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসাসংক্রান্ত একটি গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পিপিইর যুক্তিসংগত ব্যবহারের জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। ওই সূত্র অনুসারে ২১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত বিদেশ থেকে দেশে প্রবেশকারী মোট ছয় লাখ ৫১ হাজার ৪৭০ জনের বিভিন্ন বন্দরে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের কন্ট্রোল রুমে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস সংক্রান্ত ফোন কল এসেছে তিন লাখ ১৩ হাজার ১৪৭টি। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ২৭ হাজার ২৬৫টি।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল যাঁর মৃত্যু হয়েছে তিনি যে বাসায়, রাজধানীর যে ভবনে থাকতেন, ওই ভবনের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ভবনটি যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বাইরে থেকে কেউ সেখানে ঢুকতে বা বের হতে পারবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা