kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

করোনা সংক্রমণ

দেশে জরুরি অবস্থা জারির আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশে জরুরি অবস্থা জারির আবেদন

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে জরুরি অবস্থা জারির জন্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। সংবিধানে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে জরুরি অবস্থা জারির জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার এ আবেদন জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী—অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, অ্যাডভোকেট মো. আসাদ উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট মো. জোবায়দুর রহমান।

সংবিধানের ১৪১ ক (১) অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মাণ হয় যে, এমন জরুরি অবস্থা বিদ্যমান রহিয়াছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের দ্বারা বাংলাদেশ বা উহার যে কোন অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তাহা হইলে তিনি (অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য) জরুরি-অবস্থা ঘোষণা করিতে পারিবেন। (তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ ঘোষণার বৈধতার জন্য ঘোষণার পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষর প্রয়োজন হইবে।)’

আবেদনে বলা হয়েছে, করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে। এটি অতিমাত্রায় সংক্রামক। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ এবং আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। উন্নত দেশগুলো এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, স্পেন, কানাডা ও বেলজিয়াম জাতীয় এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশও এ সংক্রামক ভাইরাসের কবল থেকে মুক্ত নয়। এ পর্যন্ত ১৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে থেকে একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। সেই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এ ছাড়া সরকার বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিচ্ছে। কিন্তু অনেকেই নিয়ম না মেনে জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। রিপোর্ট আসছে, নিয়ম না মানার কারণে এ ভাইরাস এখন লোকাল কমিউনিটিতে সংক্রমিত হচ্ছে। হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় করোনা আতঙ্কে স্থানীয় লোকজন বিদেশফেরত লোকদের বাড়িঘর ঘেরাও করছে। কর্তৃপক্ষ ৩০ জন বিদেশফেরত বিচারক এবং চারজন ডাক্তারকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে সভা, সমাবেশ ও মাহফিল অব্যাহত আছে। অন্যদিকে করোনা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সর্বোপরি দেশ ও জাতি একটি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাহীনতা এবং সংকটের দিকে ধাবিত হতে চলেছে। বিদেশি ক্রেতারা পোশাক খাতের ক্রয় আদেশ বাতিল করছে এবং অর্থনীতির সূচক নিম্নমুখী হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের হিউম্যান বায়োসিকিউরিটি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চরম হুমকির সম্মুখীন। এরূপ পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলে দেশ ও জাতি আসন্ন বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা