kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

একই পরিবারের তিনজন আক্রান্ত

► জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে গণপরিবহনে না চড়া ও মসজিদে না যাওয়ার নির্দেশনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
► কোয়ারেন্টিনের জন্য ইজতেমা মাঠ সেনাবাহিনীর দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একই পরিবারের তিনজন আক্রান্ত

দেশে নতুন আরো তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭। মৃতের সংখ্যা আর বাড়েনি। আগের তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা একই রয়েছে এখন পর্যন্ত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গতকাল দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মিলনায়তনে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

নতুন আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ, অন্যজন নারী। পুরুষের মধ্যে একজনের বয়স ৬৫ বছর, আরেকজনের বয়স ৩২। নারীর বয়স ২২ বছর। একই পরিবারের এই তিন সদস্য স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। তবে তাঁরা ইতালিফেরত প্রবাসীর সংস্পর্শে এসেছিলেন, যিনি আগেই আক্রান্ত ছিলেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। সে সময় তিনজন শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানায় আইইডিসিআর। এরপর ১৪ মার্চ রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরো দুজনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানান। পরে গত সোমবার তিনজন এবং মঙ্গলবার আরো দুজনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তির মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। ওই দিন নতুন করে আরো চারজন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আক্রান্তদের সবাই বিদেশফেরত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছিল।

আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল অফিস করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় মহাপরিচালক ওই ব্রিফ করেন। এতে জানানো হয়, গত ২১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৯৭ জনের। এ ছাড়া এ সময়ে বিভিন্ন বন্দরে মোট ছয় লাখ ৩৮ হাজার ৭৭৪ জনের স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সাত হাজার ২৩৬ জনের স্ক্রিনিং করা হয়েছে।

মহাপরিচালক জানান, যারা হোম কোয়ারেন্টিন মানছে না তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া নমুনা পরীক্ষার পরিসর আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনাও বাড়ানো হচ্ছে বলে জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকায় নতুন আরো কয়েকটি হাসপাতালকে কভিড-১৯ রোগীর (করোনাভাইরাস) চিকিৎসাব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে গতকাল বিকেলে মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের জানান। একই দিনে এসংক্রান্ত একটি অফিস আদেশও জারি করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্স ও চিকিৎসকরা ছুটি পাবেন না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এখন আর কোনো ব্যক্তি বিদেশ থেকে না এলে করোনাভাইরাস ঠেকানো সহজ হবে। এ ছাড়া এই মুহূর্তে দেশে কোনো সমাবেশ আয়োজন করা যাবে না। বিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। স্কুল-কলেজ আগেই বন্ধ করা হয়েছে। এখন সৌদি আরবের মতো বাংলাদেশেও জুমার নামাজ জামাতের সঙ্গে না পড়ে ঘরেই পড়তে হবে। এ ছাড়া যাদের জ্বর-সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ রয়েছে তারা কোনো অবস্থায়ই কোনো গণপরিবহনে আরোহণ করবে না।

মন্ত্রী জানান, কোয়ারেন্টিনের সুবিধা বাড়াতে বিশ্ব ইজতেমার মাঠ সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়া হয়েছে। তারা সেখানে প্রয়োজনীয় অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য