kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আইএলওর শঙ্কা

করোনায় হারিয়ে যাবে আড়াই কোটি চাকরি

বেকারত্ব, দারিদ্র্যের শিকার হতে পারে বিশ্বের কোটি মানুষ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় হারিয়ে যাবে আড়াই কোটি চাকরি

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) প্রভাব হবে ভয়াবহ। এর প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী আড়াই কোটি চাকরি বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে কোটি কোটি মানুষ নতুন করে বেকার হবে, নয়তো তাদের যোগ্যতার তুলনায় কম বেতনের চাকরিতে ঢুকতে হবে কিংবা আংশিক বেকার থাকতে হবে। কাজ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে বেকার হয়ে নতুন করে দরিদ্রের তালিকায় ঢুকবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে সংস্থাটি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারা বিশ্বকে আরো দ্রুত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

করোনাভাইরাসে বিশ্বের কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ধারণাটি আইএলও পেয়েছে তাদের একটি প্রাথমিক সমীক্ষা থেকে। আইএলও বলেছে, করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ও শ্রম সংকটে বিশ্বে প্রায় আড়াই কোটি বেকার বাড়বে। তবে ২০০৮-০৯ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিকভাবে যে ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা এবারও নেওয়া হলে করোনায় বৈশ্বিক বেকারত্বের হার বেশ সীমিত রাখা সম্ভব হবে।

আইএলওর প্রাথমিক সমীক্ষায় তিনটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলো—কর্মীদের কর্মক্ষেত্র সুরক্ষা, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানকে উদ্দীপ্ত করা এবং চাকরি ও আয়কে সহযোগিতা করা। এ ছাড়া সামাজিক সুরক্ষা, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চাকরিক্ষেত্রে সহায়তা, যেমন—কর্মক্ষেত্রে স্বল্প সময় উপস্থিতি, বেতনসহ ছুটি ও অন্যান্য সুবিধা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারিসহ সব ধরনের উদ্যোগের জন্য আর্থিক সুবিধা ও কর অব্যাহতির সুপারিশ করেছে আইএলও।

সংকট মোকাবেলায় আইএলও আর্থিক ও মুদ্রা নীতি প্রণয়ন এবং সুনির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক খাতকে সহযোগিতা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। আইএলওর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিশ্বে বেকারের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৮০ লাখ। অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে করোনাভাইরাসের প্রভাবে নতুন করে বেকার হতে পারে ৫৩ লাখ থেকে দুই কোটি ৪৭ লাখ মানুষ। মাঝামাঝি প্রভাব পড়লেও বিশ্বে নতুন করে এক কোটি ৩০ লাখ লোক বেকার হবে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে নতুন করে বেকার হতে পারে ৭৪ লাখ লোক।

আইএলওর ধারণা, বেকারের সংখ্যা খুব বেশি না বাড়লেও ‘আংশিক বেকারত্ব’ বৃদ্ধি পাবে। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় উৎপাদন ও সেবা খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও সীমিত হয়ে পড়বে।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়বে সেবা খাত, পর্যটন, পরিবহন ও খুচরা কেনাবেচার ব্যবসা।

বিশ্ব বাণিজ্য ও পর্যটন কাউন্সিলের প্রাথমিক হিসাবে এ বছর আন্তর্জাতিক যাত্রীদের চলাচল ২৫ শতাংশ কমবে। আর এতেই এ খাত-সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে।

আইএলওর সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা ও কোয়ারেন্টিনের কারণে কর্মী সরবরাহ কমছে। গত ১০ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী করোনাভাইরাসের সংক্রমণে কর্মীরা এরই মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার কর্মমাস হারিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে তাদের আয়ে, বিশেষ করে সুরক্ষিত নয় এমন কর্মীদের। করোনার কারণে কর্মীরা ৮৬০ বিলিয়ন থেকে তিন হাজার ৪৪০ বিলিয়ন ডলারের আয় থেকে বঞ্চিত হবে। এর প্রভাব পড়বে তাদের পণ্য ও সেবা ভোগের ক্ষেত্রে। সার্বিকভাবে এর প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে।

আইএলওর মহাপরিচালক গাই রাইডার বলেছেন, করোনাভাইরাস এখন আর শুধু বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট নয়। এটি বড় শ্রম এবং অর্থনৈতিক সংকটও। বিশ্ববাসীর ওপর এর বিশাল প্রভাব পড়বে।

আইএলও সতর্ক করেছে, জীবিকার সংকটে নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর ওপর অনুপাতহীন প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে সমাজে বৈষম্য বাড়তে পারে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে জীবিকার বড় ঝুঁকিতে আছে অপেক্ষাকৃত কম সুরক্ষিত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে, তরুণ ও প্রবীণ কর্মীরা। নারী এবং অভিবাসীরাও ঝুঁকিতে আছে।

মন্তব্য