kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়েও প্রস্তুতি বাড়াতে হবে

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

১৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়েও প্রস্তুতি বাড়াতে হবে

করোনাভাইরাস বিষয়ে আমি কোনো বিশেষজ্ঞ নই। আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে কিছু কথা বলছি। প্রথমেই বলব, করোনাভাইরাস হেলাফেলা করার বিষয় নয়। কারণ এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই হয়েছে। এর চরিত্রও বোঝা খুব কঠিন। এটার প্রতিষেধকও পাওয়া যাচ্ছে না। এই রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আমাদের নেই।

তিনটি পর্যায়ে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কিছুটা উদ্যোগ আমরা দেখছি। আমরা সময় পেলেও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারি না। ঢাকা শহরে আমাদের তিনটি স্টেডিয়াম আছে। সেগুলো হাসপাতাল বা কোয়ারেন্টিনের জায়গা বানিয়ে ফেলতে পারতাম।

এখন দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ আমাদের হাতে আর সময় নেই।

সামাজিক পর্যায়ে মাঝেমধ্যে কিছুটা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। হোম কোয়ারেন্টিন আমাদের হয় না। আর এই বিষয়টাও অনেক অদ্ভুত ও অযৌক্তিক একটা বিষয়। আমাদের দেশে যেখানে এক ঘরে ১০ জন মানুষ থাকে, সেখানে একজনকে একটা ঘর আমরা কিভাবে দেব? এখানে সামাজিক পর্যায়ে উদ্যোগের একটা অভাব আছে। সমাজ ইচ্ছে করলে স্কুলে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করতে পারে। যার আছে তারা একটি ঘর ছেড়ে দিতে পারে।

ব্যক্তিপর্যায়ে সবচেয়ে বেশি অবহেলা আমাদের। ঢাকা শহরে মানুষ ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে। শিক্ষিত মানুষরাও করমর্দন করছে। যেখানে-সেখানে থুতু ফেলছে। মুখের ওপর হাঁচি দিচ্ছে। গায়ে গা ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছে। কারো ভেতর সচেতনতা নেই।

আমরা একটি ভয়াবহ জাতি। স্কুল-কলেজ ছুটি দেওয়া হয়েছে। ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। অথচ মানুষজন বেড়াতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছে। এখন সচেতনতার মাত্রা বাড়াতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে আরো কী করতে হবে সেটা ভাবতে হবে। প্রয়োজনে মাইকিংও করতে হবে। জনসমাগমের স্থানগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে হবে।

রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রস্তুতি বাড়াতে হবে। আমাদের আচরণটা পাল্টাতে হবে। সরকারের তরফ থেকে আরো অনেক বেশি উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে নামাতে হবে। আমাদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট সংকট আছে। দেখলাম গণবিশ্ববিদ্যালয় কম টাকায় তৈরি করছে। তাদের সঙ্গে সরকারের যতই দূরত্ব থাক, এই কিট সঠিক হলে তা উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে। নিজেদের অথবা দেশের বাইরে থেকে হলেও আমাদের কমপক্ষে এক লাখ টেস্টিং কিট সংগ্রহে রাখতে হবে।

প্রয়োজনে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে আমাদের ইমার্জেন্সির মতো ঘোষণা করতে হবে। জাতীয়ভাবে আমাদের এই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। মুজিববর্ষে সব অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে গেছে। এখন আমরা যদি সফলভাবে করোনা মোকাবেলা করতে পারি সেটাই হবে মুজিববর্ষে আমাদের অন্যতম সফলতা। যে বিষয়গুলো আমাদের করতেই হবে, সে জন্য প্রয়োজন হলে আইনও পরিবর্তন করতে হবে। অন্য জায়গার খরচ কমিয়ে করোনা প্রতিরোধে ব্যয় বাড়াতে হবে। আমরা আতঙ্কিত না হলেও যুদ্ধকালের মতো প্রস্তুতি নিতে হবে। সবাইকে এক হয়ে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। সব শক্তি নিয়ে বিপদ মোকাবেলায় নামতে হবে। এতে জাতিও ঐক্যবদ্ধ হবে।

অনুলিখন : শরীফুল আলম সুমন।

লেখক : শিক্ষাবিদ ও গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা