kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

ইউরোপ থেকে যাত্রী আসা থেমে নেই

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা এয়ারলাইনসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে বেবিচক

মাসুদ রুমী   

১৯ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইউরোপ থেকে যাত্রী আসা থেমে নেই

যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের সব দেশ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট বন্ধ কার্যকর হয়েছে তিন দিন আগেই। আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোনো দেশের নাগরিক, এমনকি বাংলাদেশিরাও ওই সব দেশ থেকে এলে তাদের গ্রহণ করা হবে না। যদি কোনো এয়ারলাইনস এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যাত্রী নিয়ে আসে তবে তাদের খরচেই ফেরত পাঠাতে হবে বলে জানিয়েছিল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। কিন্তু এর পরও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে নানা কৌশলে যাত্রী আসছেই।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেও যেসব এয়ারলাইনস ইউরোপ থেকে যাত্রী আনছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বেবিচক।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ইতালি থেকে ৯৬ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করেছিল কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট। কাতারের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাটির কিউআর-৬৩৪ ফ্লাইটটি ইতালির ৬৮ জনসহ জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের ৯৬ জন যাত্রী নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় ৭টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। যদিও ওই দিন দুপুর ১২টা থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ওই ফ্লাইটকে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কাতারের সিভিল এভিয়েশনকেও অসন্তোষপত্র পাঠাচ্ছে বেবিচক। এরপর আর কোনো ফ্লাইট কোনোভাবেই নামতে না দেওয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে যায় শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইউরোপ থেকে যাত্রী আসা থেমে নেই।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মঙ্গলবার দুজনকে পুশব্যাক করে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। তাদের একজন যুক্তরাষ্ট্র এবং আরেকজন আইভরি কোস্টের নাগরিক। সরকার ৩১ মার্চ পর্যন্ত অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করায় এই দুই নাগরিক দেশে এলেও তাদের কাছে কোনো ভিসা ছিল না। তাই তারা যে বিমানে এসেছে সেই বিমানেই তাদের ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ উল আহসান।

এদিকে গত মঙ্গলবার দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট তিন হাজার ৩৫০ জন যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে শুধু শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েই এসেছে এক হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে ইউরোপ থেকে কতজন এসেছে সেই তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে গতকাল বুধবার কমপক্ষে সাতজন যাত্রীকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, কিছু যাত্রী যেসব দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল চালু আছে সেসব দেশের ট্রানজিট ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। টার্কিশ ও কাতার এয়ারলাইনসে এসব যাত্রী দেশে এসেছিল বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, গতকাল স্লোভেনিয়া থেকে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে চারজন যাত্রী শাহজালালে অবতরণ করে। এ ছাড়া সুইডেনের স্টকহোম থেকে কাতার এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনজন বাংলাদেশি যাত্রী এসেছে। তিনি বলেছেন, এটা উদ্বেগের বিষয়। গত কয়েক দিনে এ রকম আরো ঘটনা ঘটেছে, যা কাম্য নয়।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে আসা তিনজন হলেন বাংলাদেশি মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া (৫৯), তাঁর স্ত্রী রাফিজা আফরোজ (৪৮) ও আত্মীয় রায়হানা বেগম (৬৩)। সুইডেনপ্রবাসী মেয়েকে দেখতে গিয়েছিলেন মোজাম্মেল হক। দেশে ফেরার টিকিট তাঁদের আগেই কাটা ছিল। তারিখ ছিল ১৬ মার্চ। বাংলাদেশ সরকার ইউরোপ থেকে আকাশপথে যাত্রী আসায় নিষেধাজ্ঞা দিলে কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের বাংলাদেশে পৌঁছানোর আশ্বাস দেয়। এরপর এই তিন বাংলাদেশি কাতার এয়ারওয়েজের দোহাগামী ফ্লাইটে ওঠেন। কিন্তু দোহা বিমানবন্দরে আসার পর তাঁদের ঢাকাগামী ফ্লাইটে নিতে পারবে না বলে জানায় কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৪০ ঘণ্টা আটকে থাকার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমতি নিয়ে বুধবার সকালে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ওঠেন মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া, রাফিজা আফরোজ ও রায়হানা বেগম। তবে অবতরণের পর বিকেল হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয়েছে এই তিনজনকে। তবে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জ্বর পাওয়া যায়নি বলে একটি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ উল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাতার এবং টার্কিশ এয়ারলাইনসের দুটি ফ্লাইটে ইউরোপের দুটি দেশ থেকে সাতজন যাত্রী এসেছে। কাতার, দুবাই, ইস্তাম্বুল—এই ট্রানজিটগুলো দিয়েই মূলত যাত্রী বেশি আসে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যেসব এয়ারলাইনস আসছে তাদের আমরা চিঠি দিচ্ছি। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা