kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

করমর্দন নয় বাইরে বেরোলে বেশি সতর্কতা

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

১৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করমর্দন নয় বাইরে বেরোলে বেশি সতর্কতা

দেশে এখন দু-তিনজন করে হলেও করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এখন আমাদের সবাইকে আগের চেয়ে আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সরকারের দিক থেকে এরই মধ্যে অনেক রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জনসমাগম না করার জন্য বলা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিনেমা হল, কোচিং সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসবই কিন্তু করা হয়েছে যাতে বাসায় থেকে সবাই নিরাপদে সতর্কভাবে সময় কাটাতে পারে সে জন্য। বিদেশফেরত কারো সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। যারা জরুরি প্রয়োজনে বাসার বাইরে যাবে তাদের আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে হাঁচি-কাশির সময় হাতের বাহু, রুমাল বা টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ আড়াল করে নিতে হবে। পরে হাত ভালো করে সবান-পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধুয়ে নিতে হবে। টিস্যু মুখ ঢাকা কোনো ময়লার পাত্রে ফেলতে হবে।

চলাচলের সময় যতটুকু সম্ভব এক মিটার দূরে থাকতে হবে। গণপরিবহনে বা জনবহুল এলাকায় দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। হ্যান্ডশেক করা যাবে না। বাসায় ফিরে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। পরিধেয় কাপড়চোপড় প্রতিদিন ধুয়ে ফেললে নিরাপদ থাকা যাবে। কারো মধ্যে জ্বর, হাঁচি-কাশির উপসর্গ দেখা দিলে তাকে এবং পরিবারের অন্যদের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের জানালে তাঁরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রয়োজনে করোনাভাইরাস পরীক্ষার পরামর্শ দেবেন। এটা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও করতে পারে আবার বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হটলাইনে যোগাযোগ করলে আইইডিসিআরের লোকজন গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসবে।

এসব সচেতনতা সবার মধ্যে থাকা জরুরি হলেও আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। কারণ এই করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি দ্রুত ঘটলেও অন্য অনেক ভাইরাসের চেয়ে জটিলতা ও মৃত্যু কম। তাই কেবল সতর্ক থাকলেই এই ভাইরাস প্রতিরোধে অনেক ভালো ফল পাওয়া যায়। আবার আক্রান্ত হলেও তাদের ঘাবড়ে যাওয়ার দরকার নেই। বেশির ভাগ রোগীই এমনি এমনি সেরে ওঠে। অনেক দেশে ৮০ শতাংশের হাসপাতালে যাওয়ারই দরকার হয় না।

লেখক : প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা