kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

মোদি বললেন

বাংলাদেশ আজ কোথায় তা বিশ্ব দেখতে পাচ্ছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



বাংলাদেশ আজ কোথায় তা বিশ্ব দেখতে পাচ্ছে

মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও তার পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশিদের ওপর পাকিস্তানের নিপীড়ন-নির্যাতন, দমন-পীড়ন, দুঃশাসন ও শোষণের প্রসঙ্গ টেনে দৃশ্যত তিনি পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আতঙ্ক ও সহিংসতাকে রাজনীতি এবং কূটনীতির হাতিয়ার করে তোলা কিভাবে একটি সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করে দেয় তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। সন্ত্রাস ও সহিংসতার সমর্থকরা আজ কোথায়, কিভাবে আছে এবং বাংলাদেশ কোন উচ্চতায়  আছে—এটাও বিশ্ববাসী দেখতে পাচ্ছে।’

গতকাল মোদি তাঁর বক্তব্য শুরু করেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশকে ১৩০ কোটি ভারতীয়র পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানানোর মধ্য দিয়ে। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সশরীরে আসতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গত শতাব্দীর মহান ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর সারা জীবন আমাদের সবার জন্য অনেক বড় প্রেরণা। বঙ্গবন্ধু মানে একজন সাহসী নেতা, একজন দৃঢ়চেতা মানুষ, একজন ঋষিতুল্য শান্তিদূত, একজন ন্যায়, সাম্য ও মর্যাদার রক্ষাকর্তা, একজন পাশবিকতাবিরোধী এবং যেকোনো জোরজুলুমের বিরুদ্ধে একজন ঢাল।’

বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “তাঁর এই গুণাবলি সেই সময় লাখ লাখ তরুণকে বাংলাদেশের মুক্তির জন্য সব প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে নতুন শক্তি দিয়েছিল। আজ আমার খুব ভালো লাগে, যখন দেখি যে বাংলাদেশের মানুষ তাদের প্রিয় দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলায়’ রূপান্তরিত করার জন্য দিন-রাত কাজ করে চলেছে।”

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর জীবন একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বের জন্য এক মহান বার্তা। আমরা সবাই ভালো করে জানি, কিভাবে একটি নিপীড়ক ও দমনকারী সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে ‘বাংলা ভূমির’ ওপর অবিচারের রাজত্ব চালিয়ে জনগণের সর্বনাশ করেছিল। সেই সময় যে ধ্বংসলীলা ও গণহত্যা হয়েছিল, সেই অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে বের করে এনে একটি ইতিবাচক ও প্রগতিশীল সমাজে পরিণত করার জন্য তিনি তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছিলেন।”

মোদি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন যে ঘৃণা এবং নেতিবাচকতা কখনোই কোনো দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে না। কিন্তু তাঁর এই ধারণা এবং প্রচেষ্টা কিছু লোক পছন্দ করেনি এবং আমাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ এবং আমরা সবাই ভাগ্যবান যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদে রক্ষা পেয়েছিলেন। নয়তো সহিংসতা এবং ঘৃণার সমর্থকরা চেষ্টার কোনো কমতি রাখেনি।’

মোদি বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণায় এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ যেভাবে অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং উন্নয়নমুখী নীতিমালা অনুসরণ করে এগিয়ে চলছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অর্থনীতি থেকে শুরু করে অন্যান্য সামাজিক সূচক,  যেমন ক্রীড়াক্ষেত্র কিংবা দক্ষতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্রঋণের মতো অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আনন্দিত যে গত পাঁচ-ছয় বছরে ভারত এবং বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি সোনালি অধ্যায় রচনা করেছে এবং আমাদের অংশীদারিকে নতুন মাত্রা এবং দিশা দিয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থার কারণেই আমরা স্থল ও সমুদ্র সীমানার মতো জটিল সমস্যাগুলো সহজে সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আমাদের সম্পর্কে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। সড়ক,  রেল, বিমান, জলপথ বা ইন্টারনেট—এমন অনেক ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা দুই দেশের মানুষকে আরো বেশি সংযুক্ত করছে।

রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, লালন শাহ, জীবনানন্দ দাশ এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীদের দুই দেশের যৌথ ঐতিহ্য হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার ও অনুপ্রেরণা আমাদের এই ঐতিহ্যকে আরো বিস্তৃত করেছে। তাঁর আদর্শ ও মূল্যবোধের সঙ্গে ভারত সব সময় সংযুক্ত ছিল। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এই অভিন্ন ঐতিহ্যের ভিত্তিতে।’

এর আগে গতকাল দুপুরে এক টুইট বার্তায় মোদি ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফরকালে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ছবি টুইটারে প্রকাশ করেন। সেখানে মোদি লিখেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সাহস ও বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অনস্বীকার্য ভূমিকার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।  নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারিও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ভিডিও বার্তায় বলেন, বঙ্গবন্ধু আজ বেঁচে থাকলে তাঁর উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা দেখে খুশি হতেন। লোটে শেরিং গতকাল দুপুরে মুজিববর্ষ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের কিছু সময় পর শুভেচ্ছা বিনিময় করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। সেই সময় তিনি ভুটানের পক্ষ থেকে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে এক হাজার ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে উদ্যাপন করা হয়েছে বলে শেখ হাসিনাকে জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভিডিও বার্তায় বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অনেককেই অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আগামী দিনগুলোতে জাতিসংঘ বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখবে।

ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব ইউসেফ বিন আহমাদ আল-ওথাইমিন ভিডিও বার্তায় ইসলামী বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা স্মরণ করেন।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে এক টুইট বার্তায় মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবন ও কাজের মাধ্যমে সারা বিশ্বে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশিদের অভিনন্দন জানিয়েছে। ভারতের পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গতকাল তাঁর ফেসবুক পেজে বঙ্গবন্ধুর ছবিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে আজ বিধানসভায় স্পিকার এবং বিধায়কদের উপস্থিতিতে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলাম।’

ঐতিহাসিক এই দিনে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা