kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

পানির বর্ধিত দাম ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর

ক্যাবের প্রতিবাদ ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানির বর্ধিত দাম ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর

নানা সমালোচনার পরও ছয় মাসের ব্যবধানে পুনরায় পানির দাম বাড়িয়েছে ঢাকা ওয়াসা। প্রতি হাজার লিটার পানির জন্য আবাসিক গ্রাহকদের দুই টাকা ৮৯ পয়সা এবং বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের দুই টাকা ৯৬ পয়সা বাড়তি দিতে হবে। পানির দাম বাড়াতে ওয়াসার পাঠানো প্রস্তাবের ভিত্তিতে গত বুধবার তা অনুমোদন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী ১ এপ্রিল থেকে বর্ধিত এই দাম কার্যকর করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি এক হাজার লিটার পানির জন্য ১১ টাকা ৫৭ পয়সা পরিশোধ করেন আবাসিক গ্রাহকরা। বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগের ক্ষেত্রে তা ৩৭ টাকা চার পয়সা। আগামী এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকে এক হাজার লিটার পানির জন্য আবাসিক গ্রাহকদের দিতে হবে ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা। আর বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগের আওতায় গ্রাহকদের পরিশোধ করতে হবে ৪০ টাকা।

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পানির দাম বাড়াতে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠায় ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ। আবাসিক সংযোগে আট টাকা ৪৩ পয়সা এবং বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগে ২৭ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করে সংস্থাটি। পানির প্রকৃত উৎপাদন খরচ এবং বিতরণ ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্যতা আনতে নতুন দাম নির্ধারণের প্রয়োজন বলে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। ওয়াসার প্রস্তাব এবং গ্রাহকদের সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার বেশির ভাগ প্রকল্প বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে করা। ঋণের টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। সরকারের ভর্তুকি দেওয়ার পরও ওয়াসার রাজস্ব থেকে ঋণ পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ওয়াসার পানির মান ঠিক রাখা এবং দাতাদের ঋণ পরিশোধ করতে নিয়ম অনুযায়ী পানির দাম বাড়ানো হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘একসময় ঢাকায় পানির অভাব ছিল। এখন চাহিদার তুলনায় পানির উৎপাদন বেশি। পানির মান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। ওয়াসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য আর্থিকভাবে সক্ষম করা দরকার। যে দাম বেড়েছে, তা নামমাত্র বলা যায়।’

ঢাকা ওয়াসার পরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পানির বর্ধিত মূল্য আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হচ্ছে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে পানির উৎপাদন খরচ আরো বেড়েছে। তাই দাম সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে কোনো ধরনের গণশুনানি বা আলোচনা ছাড়াই পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বর্জন করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সিস্টেম লস কমিয়ে আনলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না বলেও মনে করেন সংগঠনটির নেতারা। এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয়ে ভোক্তাদের কোনো ধরনের অংশগ্রহণ না থাকার কারণে ওয়াসার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।

ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এভাবে পানির দাম বাড়ানোর বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গণশুনানি ছাড়া দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন করেছে ভোক্তাদের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে। ওয়াসার কাজে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনলে এবং সিস্টেম লস কমাতে পারলে ব্যয়ের খড়্গ ভোক্তাদের ঘাড়ে পড়ত না।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা