kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভারত ছাড়তে নোটিশ

বাংলাদেশি ছাত্রীর পক্ষে বিশ্বভারতীর শিক্ষকরা লড়বেন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশি ছাত্রীর পক্ষে বিশ্বভারতীর শিক্ষকরা লড়বেন

‘সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বাংলাদেশি যে ছাত্রীকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার, সেই ছাত্রীর পক্ষে নৈতিক ও আইনি সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা।

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) নিয়ে ক্যাম্পাসে এক বিক্ষোভের কয়েকটি ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে পোস্ট করার পর গত বুধবার ওই ছাত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশি নিবন্ধকের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে আসা নোটিশটি পান, যাতে ১৫ দিনের মধ্যে তাঁকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে।

সেখানে কারণ হিসেবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী আফসারা আনিকা মিম স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে ভারতে পড়তে এসে ‘সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন’ বলে উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের কথা নেই।

গ্রাফিক ডিজাইনের প্রথম বর্ষের ছাত্রী কুষ্টিয়ার মেয়ে আফসারাও বুঝতে পারছেন না কেন তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। নোটিশটি পুনর্বিবেচনার জন্য গত বৃহস্পতিবার বন্ধুদের নিয়ে কলকাতায় বিদেশি নিবন্ধকের আঞ্চলিক কার্যালয়েও গিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী এই তরুণী। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে রয়েছে বলে জানিয়ে দিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তারা। এক বন্ধুকে উদ্ধৃত করে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, আফসারাকে নিজের বক্তব্য কয়েকটি অফিসে লিখিতভাবে জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার খুঁজতে গত বৃহস্পতিবারই বিশ্বভারতীর শিক্ষকদের একটি অংশ কলকাতার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দ্বারস্থ হয়েছে। জ্যেষ্ঠ এক অধ্যাপক বলেন, ‘মেয়েটি কয়েকটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিল। এর ভিত্তিতে তাঁকে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। আমরা এর মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমরা ওই ছাত্রীকে সব ধরনের সহায়তা দেব।’

তাঁদের অন্যতম হাইকোর্টের আইনজীবী শামীম আহমেদ বলেন, আফসারাকে দেওয়া নোটিশকে আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে। কারণ তাতে ‘সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ তাঁর জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ নেই। ওই আদেশ ও তাঁর ফেসবুক পোস্ট আমি ভালোভাবে খতিয়ে দেখেছি। আদেশে এমন কোনো নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ নেই, যা দিয়ে প্রমাণিত হয় ওই ছাত্রী সরকারের বিরুদ্ধে কিছু করেছেন। মন্তব্য করা তাঁর অধিকার এবং এর জন্য কেন্দ্র থেকে তাঁকে দেশ ছাড়তে বলা খুবই অস্পষ্ট একটি কারণ। এমনকি ওই নোটিশ দেওয়ার আগে তাঁকে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ওই ছাত্রীকে তিনি আইনি সহায়তা দেবেন বলে জানান এই আইনজীবী।

এদিকে বাংলাদেশি ছাত্রীকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়ায় সমালোচনামুখর রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ভারতের মতো মুক্ত দেশে যেখানে পাকিস্তানের সঙ্গে মধ্যস্থতার ঘোষণা দেওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, সেখানে বাংলাদেশের মেয়ে কেন নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করতে পারবেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বভারতীর স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) নেতা সোমনাথ সৌ। তিনি বলেন, ‘ওই নোটিশের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতি অবিচার হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আমরা রাজনৈতিক আদর্শ-নির্বিশেষে সোমবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছি। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই প্রতিবাদ করব।’

বিশ্বভারতীতে সিএএবিরোধী বিক্ষোভে যেসব শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন, আফসারা এ ধরনের কোনো ঘটনায় জড়িত নয় বলে তাঁরাও নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের অন্যতম অর্থনীতির ছাত্র স্বপ্নীল মুখার্জি গত জানুয়ারিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গুণ্ডাদের হামলার শিকারও হন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বভারতী এমন একটা জায়গা, যেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন এবং আমাদের বন্ধু হয়ে যান। তাঁদের বেশির ভাগই বাংলাদেশের। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ওই ছাত্রী মোটেই কোনো প্রতিবাদে অংশ নেননি। আমরা তাঁর সঙ্গে আছি।’

কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করে টেলিগ্রাফ বলেছে, বিশ্বভারতীতে প্রায় ১০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন, যাঁদের অনেকেই আফসারাকে নোটিশ দেওয়ার পর ভয়ে আছেন। বাংলাদেশের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীই ফি বাড়ানো থেকে শুরু করে সিএএর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল দেখতে গিয়েছিলেন। আর আফসারা শুধুই কতগুলো ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। এটি আমাদের জন্য ভয়ার্ত এক পরিস্থিতি।’

তবে বিশ্বভারতীর ক্ষমতাসীন বিজেপির ছাত্রসংগঠন এবিভিপির নেতারা আফসারাকে নোটিশ দেওয়ায় খুশি। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত ও পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে তাঁরাই গত ২৩ জানুয়ারি উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছিলেন। ওই চিঠির একটি অনুলিপি তাঁরা দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়েও পাঠিয়েছেন। এবিভিপি নেতা অপূর্ব শারদ বলেন, ‘উপাচার্যের কাছে লেখা চিঠিতে আমরা ওই মেয়ের সিএএবিরোধী ভূমিকার কথা তুলে ধরেছিলাম।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা