kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

থমথমে দিল্লি

সোনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে আরজি হাইকোর্টে

মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে আরজি হাইকোর্টে

ছবি: ইন্টারনেট

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে উত্তপ্ত ভারতের রাজধানী দিল্লি গতকাল শুক্রবারও ছিল থমথমে। নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে গতকাল নতুন করে কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর দায়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। তবে ‘উনকানিমূলক মন্তব্যে’র অভিযোগে কংগ্রেসের শীর্ষ তিন নেতা সোনিয়া, রাহুল ও প্রিয়াংকা গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে দিল্লি হাইকোর্টে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকার এবং পুলিশের বক্তব্য শুনতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে পৌঁছেছে ৪২ জনে। হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১২৩টি প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন (এফআইআর) দাখিল করেছে দিল্লি পুলিশ। এরই মধ্যে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৩০ জনকে। সংঘর্ষকালে অস্ত্র উঁচিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো যে ব্যক্তির ছবি ও ভিডিও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তাকেও খুঁজছে পুলিশ।

সিএএ ইস্যুতে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সংঘর্ষ শুরু হয় গত শনিবার। ওই আইনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সহিংসতায় নিহত ৪২ জনের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্য ও একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তাও রয়েছেন। আহতের সংখ্যা ৩৫০ ছাড়িয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল জুমার সময় নিরাপত্তার কড়াকড়ি আরো বাড়ানো হয়। তবে কয়েক দিন ধরে যেসব এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা হিসেবে গতকাল সে রকম কিছু এলাকায় অল্প সময়ের জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। বেশ কয়েকটি এলাকায় গতকাল সকালে ও বিকেলে মিলিয়ে ১০ ঘণ্টার জন্য এ শিথিলতা বজায় রাখা হয়। সাধারণ মানুষ সতর্কতার সঙ্গে নিজেদের কাজে ফিরতে শুরু করেছে। খুলতে শুরু করেছে দোকানপাট। বেশ কয়েকটি জায়গায় অটোরিকশা জড়ো হতেও দেখা যায়।

সংঘর্ষের ময়দানের এমন পরিস্থিতির মধ্যে লড়াইয়ের তীব্রতা বেড়েছে রাজনীতির ময়দানেও। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী কয়েক দিন ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন। দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগে তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখাও করেন। সে সময় তিনি অনুরোধ জানান, রাষ্ট্রপতি যেন সরকারকে রাজধর্ম স্মরণ করিয়ে দেন।

সোনিয়ার সেই আহ্বানের কড়া জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবি শংকর। ভোটের রাজনীতি নিয়ে সোনিয়ার রেকর্ডও খুব একটা ভালো নয়—এমন মন্তব্য করে গতকাল তিনি বলেন, ‘শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধী, দয়া করে আমাদেরকে রাজধর্ম শেখাতে আসবেন না।’

গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন। ভুবনেশ্বরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘বিএসপি (বহুজন সমাজ পার্টি), এসপি (সমাজবাদী পার্টি), কমিউনিস্ট, কংগ্রেস আর মমতা দিদি (পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সিএএর বিরুদ্ধে। কারণ তাঁরা বলছেন, সংখ্যালঘুরা নাগরিকত্ব হারাবে। কেন তাঁরা মিথ্যাচার করছেন? সিএএ হলো নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন। কারো নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য এ আইন করা হয়নি।’

এফআইআর ও ধরপাকড় : সহিংসতার ঘটনায় দিল্লি পুলিশ এ পর্যন্ত ১২৩টি এফআইআর দাখিল করেছে এবং প্রায় ৬৩০ জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করেছে। তা ছাড়া সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে যে যুবকের ছবি সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তাকে খুঁজছে পুলিশ। তবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর দায়ে যে চার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিলে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ বলছে, ওই চার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিলের উপযুক্ত সময় এটা নয়। এর মধ্যে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াংকা ভদ্রর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে এফআইআর দাখিলের যে আবেদন জমা পড়েছে, সেটার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার, দিল্লির স্থানীয় সরকার ও পুলিশের বক্তব্য শুনতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দিল্লি সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণ : পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোজাসাপ্টা পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লির স্থানীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল গতকাল জানিয়েছেন, সংঘাতকবলিত লোকজনের জন্য ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং তাদের খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া হতাহতদের পরিবারকে এবং যারা সংঘর্ষকালে ঘরবাড়ি হারানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন তিনি।

ফিরেছে নিখোঁজ কিশোরী : পরীক্ষা দিতে গিয়ে গত সোমবার অষ্টম শ্রেণির যে ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছিল, সে গতকাল বাড়ি ফিরেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সে সুস্থ আছে এবং তাদের জবানবন্দি গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা