kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

বৈশ্বিক মহামারির পথে আক্রান্ত অর্ধশত দেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বৈশ্বিক মহামারির পথে আক্রান্ত অর্ধশত দেশ

নতুন করোনাভাইরাসের গতি-প্রকৃতি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক সংক্রমণের ধরন এবং প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভাইরাসটি ঠেকানোর সম্ভাবনাও কমে আসছে। এ পরিস্থিতিতে ভাইরাসটি নিয়ে বৈশ্বিক মহামারির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জাতিসংঘের এ সংস্থার প্রধান টেড্রোস গ্রেব্রিয়েসিস বলেছেন, করোনার সংক্রমণ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নেওয়া গেলে বিশ্বজুড়ে তা প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি করতে পারে। ভাইরাসটি মহামারি হয়ে ওঠার আশঙ্কাও আছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নাইজেরিয়া, লিথুয়ানিয়া ও নেদারল্যান্ডসে প্রথমবারের মতো করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাতে করে মোট আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ৫১-তে উন্নীত হলো। কয়েক দিন ধরেই চীনের বাইরে ভাইরাসটি খুবই দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো চীনের চেয়ে বহির্বিশ্বে নতুন রোগী বেশি মিলেছে।

টেড্রোস গ্রেব্রিয়েসিস বলেন, ‘চীনের বাইরে যা ঘটছে, তা নিয়েই এখন আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা এখন এমন এক সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছি যে সংক্রমণ পরিস্থিতি যেকোনো দিকে যেতে পারে, নির্ভর করছে কিভাবে তা আমরা মোকাবেলা করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভাইরাসটির মহামারি হয়ে ওঠার আশঙ্কা আছে। এখন আতঙ্কিত হওয়ার সময় নয়। সময় এখন সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও জীবন বাঁচানোর।’ তিনি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারগুলোকে দ্রুত এবং আরো জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, গতকাল পর্যন্ত চীনের বাইরে অর্ধশত দেশে সংক্রমিত হয়েছে চার হাজার ২৪৮ জন। মারা গেছেন ৭৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইরানে, ৩৪ জন। দেশটিতে তুলনামূলক কম সংক্রমিত হলেও মৃত্যুর হার বেশি। সেখানে গতকাল পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে ৩৮৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে আছেন দেশটির নারী ও পরিবারবিষয়ক দপ্তরের ভাইস প্রেসিডেন্ট মৌসুমি ইবতেখারও। এর আগে গত মঙ্গলবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন দেশটির স্বাস্থ্যবিষয়ক উপমন্ত্রী ইরাজ হারিরচি। করোনা ঠেকাতে গতকাল শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্যান্য শহরে জুমার নামাজের সব জামাত বাতিল করা হয়।

ইরানের বাইরে মারা গেছে ইতালিতে ১৭, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৩, জাপানে আট, হংকং ও ফ্রান্সে দুইজন করে এবং ফিলিপাইন ও তাইওয়ানে একজন করে। চীনের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা এখন দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে গতকাল আক্রান্ত হয়েছে ২৫৬ জন। সব মিলিয়ে সেখানকার দুই হাজার ২২ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব মিলল।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার চীনের মূল ভূখণ্ডে কভিড-১৯ রোগে নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৩২৭ জন, মারা গেছে ৪৪ জন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত দেশটিতে কভিড-১৯ রোগাক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৮২৪ জন। এ সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩৬ হাজার ১১৭ জন এবং মারা গেছে দুই হাজার ৭৮৮ জন। ফলে সব শেষ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৯১৯ জন। চীনের হংকং বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলে আক্রান্ত হয়েছে ৯৩ জন এবং ম্যাকাওয়ে ১০ জন।

সব মিলিয়ে গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে অন্তত ৮৩ হাজার ৪৩১ জন সংক্রমিত হয়েছে। আর মোট মৃত্যুসংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৮৬৬ জনে।

২০ হাজার কিট ইরানে পৌঁছেছে : এদিকে ইরানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর দেশটিকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ২০ হাজার কিট দিয়েছে চীন। গতকাল স্বাস্থ্য উপকরণগুলো ইরানে এসে পৌঁছেছে।

ইরানে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত চ্যাং হুয়া জানান, করোনাভাইরাস প্রতিহত করার জন্য চীনের দেওয়া উপকরণের প্রথম চালান শুক্রবার ইরানে এসে পৌঁছেছে। চীন আরো সহযোগিতা পাঠাবে। এর আগে চীনের জন্য মাস্ক পাঠিয়েছিল ইরান।

পুঁজিবাজারে ধস : করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাব জোরেশোরেই পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। আঁচ লেগেছে পুঁজিবাজারেও। ২০০৮ সালের বিশ্বমন্দার পর বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দেখা দিয়েছে এ সপ্তাহে। গতকাল সকালে ইউরোপের বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। লন্ডনের ফিন্যানশিয়াল টাইমস স্টক এক্সচেঞ্জ (এফটিএসসি) ১০০ সূচক ৩ শতাংশেরও বেশি পড়ে গেছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে দেখা গেছে আরো বড় পতন। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার মার্কেট মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ বছর জাপানে অলিম্পিক হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস আতঙ্কে তা বাতিল হওয়ার খবর ছড়ায়। এতেই জাপানের সূচক নিক্কেই এদিন ৩.৩ শতাংশ পড়ে গেছে। চীনের বাইরে গোটা বিশ্বে এ সংক্রমণ যেভাবে ছড়াতে শুরু করেছে, তাতে আগামী দিনে পুঁজিবাজার আরো পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিঙ্গাপুরের মন্ত্রী-এমপিদের অনন্য দৃষ্টান্ত : এদিকে সিঙ্গাপুরে করোনা আক্রান্তদের সহায়তার জন্য বেতন-ভাতা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা। পাশাপাশি দেশটির উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারাও করোনাভাইরাস মোকাবেলায় অর্ধেক মাসের বেতন না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকাল দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী হেইং সুই ক্যাট এমন তথ্য জানিয়েছেন। সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় তিনি আরো জানান, রাষ্ট্রপতি হালিমাহ ইয়াকোবও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক মাসের বেতন না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

দেশটির জনপ্রশাসন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, সিঙ্গাপুরের সব সংসদ সদস্য তাঁদের এক মাসের বেতন-ভাতা নেবেন না। সরকারি উচ্চপর্যায়ের কিছু কর্মকর্তাও তাঁদের অর্ধেক মাসের বেতন-ভাতা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে সচিব, উপসচিব এবং বিভিন্ন বিভাগের নির্বাহী প্রধানরা রয়েছেন।

একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা হেইং সুই ক্যাট সংসদে দাঁড়িয়ে আরো বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই মরণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে জয়ী হব। আমাদের দেশের সব নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্রিয়া ভূমিকা রাখছে। সূত্র : রয়টার্স, আলজাজিরা, পার্সটুডে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা