kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

ঢাকার মেয়র-কাউন্সিলরদের শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

মশা যেন ভোট খেয়ে না ফেলে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মশা যেন ভোট খেয়ে না ফেলে

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই ডেঙ্গু রোগ সৃষ্টিকারী এডিস মশা নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ঢাকার নবনির্বাচিত দুই মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মশা যেন ভোট খেয়ে না ফেলে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করার জন্যও বলেছেন তিনি। দেশে এখনো করোনাভাইরাস নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রাণঘাতী এই ভাইরাস যদি দেশে এসে যায়, সে জন্য একটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর তেজগাঁও কার্যালয়ের শাপলা মিলনায়তনে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম ও শেখ ফজলে নূর তাপস এবং ১৭২ জন কাউন্সিলরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে মেয়রদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাঝে মাঝে অনেকগুলো ঝামেলা চলে আসে। এখন যেমন করোনাভাইরাস; এর আগে এসেছিল ডেঙ্গু। এখন থেকে এই মশা (এডিস) নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে। মশা যেন আপনার ভোট খেয়ে না ফেলে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। মশা ক্ষুদ্র হলেও অনেক শক্তিশালী, এটা মাথায় রাখতে হবে। সেদিকে আপনারা বিশেষভাবে একটু নজর দিবেন।

যেন সঠিকভাবে মশা নিধন হয়।’

নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়ন প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকার পাশাপাশি দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জনগণের কাছে আপনারা ওয়াদাবদ্ধ। আপনারা যে শপথ নিয়েছেন সেই শপথের কথা মনে রেখে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে যারা আপনাকে ভোট দিয়েছে এবং যারা দেয় নাই অর্থাৎ এলাকাবাসী সবার জন্য সমানভাবে কাজ করতে হবে। আপনি যখন নির্বাচিত হয়ে এসেছেন তাহলে আপনি সকলের। সেই দিকটা মাথায় রেখেই সার্বিক উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে।’

নতুন জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে অনেক বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। আমি চাই এসব প্রকল্পে যেন কোনো দুর্নীতি না হয়, অনিয়ম না হয়। আমি কিন্তু কাউকে ছাড়ব না; এটা হলো বাস্তবতা। কারণ আমি জানি আমার সময় খুব কম।’

তিনি বলেন, ‘একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচিত হই। এই সময়ের মধ্যে যেই কাজগুলো করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেই কাজগুলো আমি সম্পন্ন করতে চাই। সেই ক্ষেত্রে কেউ যদি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বা কোনো রকম দুর্নীতি করে, বা কোনো রকম নয়ছয় করে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে কোনো মুখ চাওয়াচাওয়ি হবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে, অভিযান চলতে থাকবে। সেখানে আপনাদের সহযোগিতা চাই। সমাজের এই ক্ষতগুলো থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে হবে। এর প্রভাবে আমাদেরই সন্তান, ছেলেপেলে বা বংশধররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে তাঁর সরকারের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার তথ্য জানিয়ে এর সংক্রমণ রোধে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপেরও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস থেকে বাংলাদেশকে কিভাবে মুক্ত রাখা যায়, সে জন্য যথাযথ পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি হাসপাতাল আমরা আলাদাভাবে করে দিচ্ছি। সেখানে ডাক্তার, নার্সসহ যারা সেবা দেবেন তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, পোশাক ঠিক করা এবং তাঁদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও করছি।’

পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে যে নির্দেশনা যাচ্ছে, সে সব নির্দেশনা সবাইকে মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগেরই দুই মেয়র বিজয়ী হন। গতকাল উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী। আর সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের ১৭২ কাউন্সিলরকে শপথবাক্য পাঠ করার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।

নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ, বর্তমান মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদ ঢাকা দক্ষিণে ১৭ মে এবং উত্তরে ১৩ মে শেষ হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে মেয়র এবং কাউন্সিলরদের অভিনন্দন জানান এবং দলের নেতাকর্মীসহ সবাইকে আগামী ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদ্‌যাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানান। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা