kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

শিশু রুশদি নেই মা-বাবা লড়ছেন আছে শুধু স্মৃতি

জহিরুল ইসলাম   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু রুশদি নেই মা-বাবা লড়ছেন আছে শুধু স্মৃতি

সেদিন রুশদি নানুর বাসায় ছিল। মা জান্নাতুল ফেরদাউস ওকে আনতে গিয়ে দেখেন ছেলে মনোযোগ দিয়ে একটি কমিক বই পড়ছে। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন তিনি এভাবে—“আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী পড়ছ মা? বলল ‘নটু পানতু’ (মটু পাতলু)। তারপর আমাকে গল্প শুনিয়েছে—এনে ওই নটু এলিয়েন আছে! দেখছাও (দেখেছো)—এই ঘটনা ১১ ফেব্রুয়ারির। পরদিন আমি খুশি হয়ে আসার সময় বইটা সঙ্গে নিয়ে আসতে চাইলাম, কিন্তু সে আনবে না। ওর একটাই কথা, ‘নানু বাসায় পড়বে তো!’। অনেক কষ্টে রাজি করিয়ে নিয়ে এসে ওকে বই দিয়ে বললাম, তুমি বই পড়ো। মাম্মিও বই পড়বে। তারপর সে (রুশদি) নিজেই আমাকে একটা বই দেখিয়ে বলে, ‘দিজ ওয়ান মাম্মী, দিজ ওয়ান’।” গত ২১ ফেব্রুয়ারি এভাবেই নিজের ফেসবুক ওয়ালে শিশুপুত্রের মায়াভরা কাণ্ডকীর্তির কথা লেখেন মা জান্নাতুল ফেরদাউস। সেই শিশু কে কে এম রুশদি (৩) গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর দীলু রোডের ৫১/এ নম্বরের বাসায় ঘটা মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়। নিয়তির নিঠুর খেলায় সংসার নামক ফুলবাগানের একমাত্র ফুলটি ঝরেই শেষ হয়নি সব। এখন সেই বাগানের দুই মালি রুশদির বাবা শহীদুল কিরমানী রনি ও মা জান্নাতুল ফেরদাউস দুজনই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তাঁদের একজনের শরীরের ৪৫ শতাংশ এবং অন্যজনের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। সদা চঞ্চল হাস্যোজ্জ্বল শিশু রুশদির অনেক স্মৃতি এখন ভিড় করছে পরিবার ও স্বজনদের মনের মুকুরে, যা মনে করে কান্না থামাতে পারছে না কেউই।

রুশদির দাদা এ কে এম শহীদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার নাতি ছিল সোনার ছেলে। আমার ছেলের মতোই বুদ্ধিমান হয়ে বড় হচ্ছিল। সারা দিন হই-হুল্লোড় করে বেড়াত। তার জন্য প্রতিদিন অন্তত একটা খেলনা গাড়ি কিনে দেওয়া লাগত। না হয় বাবার সঙ্গে রাগ করত। কী আর বলব! তার কথা মনে করতে বুকটা ভেঙে যাচ্ছে।’

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবার ল্যাপটপ চালাতে অনেক পছন্দ করত শিশু রুশদি। সকালে উঠে মা-বাবা অফিস চলে গেলে স্কুল, বাসা আর দীলু রোডে মামার বাসায় সময় কাটত তাঁর। বাসায় খেলনা গাড়ি নিয়ে মেতে থাকত। ছবি আঁকতেও পছন্দ করত। রং-পেনসিল আনার জন্য সব সময় বায়না ধরত। নানার বাসা রুশদিদের বাসার কাছেই। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে নানি ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমায় ছাড়া থাকতে পারত না নাতিটা। এখন কিভাবে থাকবে? সব সময় নজরে নজরে রাখতাম। স্কুল শেষে আমাদের বাসায় এসে তাঁর মামাতো বোন প্রতিভা (১২), প্রতিক্ষার (১০) সঙ্গে খেলাধুলা করত। এক কথায় সবার চোখের মনি ছিল রুশদি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়ও তাঁর সঙ্গে খেলা করলাম। আমায় বলল, নানু থাকো। কই যাও। মুখে আটকে থাকা তাঁর আদুরে কথাগুলো কানে বেজে বেজে উঠছে, আর সহ্য করতে পারছি না!’

মন্তব্য